প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাককে বলা হয় নীরব ঘাতক। বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। শুধু আক্রান্ত হওয়াই নয়, মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়া রোগীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। আগে হার্টের রোগ একটু বেশি বয়সেই হতো। এখন যে কেউ যেকোনো সময় এর শিকার হতে পারেন।
হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার নেপথ্যে অনেক কারণ থাকতে পারে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মতো অসুখ থাকলে অবশ্যই এই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। সাম্প্রতিককালে স্লিপ অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা জানাচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক মানুষের রয়েছে রাতে ঘুমের সমস্যা বা ইনসোমনিয়া।
আগে হার্টের রোগ একটু বেশি বয়সেই হতো। এখন যে কেউ যেকোনো সময় এর শিকার হতে পারেন
নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং এই গবেষণার মুখ্য গবেষক লার্স ফোর্জড বলেন, ঘুম ঠিকমতো না হলে মানসিক সমস্যা দেখা যায়। কিন্তু আমাদের গবেষণা বলছে, উৎকণ্ঠা, অবসাদের পাশাপাশি হার্টের রোগের সঙ্গেও ইনসোমনিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আরও জানান, হার্টের রোগীদের ইনসোমনিয়ার সমস্যা রয়েছে কি না তা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এমনকী সেই সমস্যার ঠিকমতো চিকিৎসা হওয়াও প্রয়োজন।
এই গবেষণায় ১০৬৮ জন হার্ট অ্যাটাক আক্রান্ত রোগীকে ১৬ মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এবং আরও গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় তাদের অন্য কোনো রোগ আছে কি না। পরে তাদের ঘুম সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। এক্ষেত্রে কত তাড়াতাড়ি ঘুম হয়, ঘুম থেকে জেগে যেতে হয় কি না, ঘুম হুটহাট ভেঙে যায় কিনা ইত্যাদি বিষয়গুলো জানতে চাওয়া হয় রোগীদের কাছে। পাশাপাশি ঘুম না হওয়ার ফলে পরের দিনটা কেমন যায়, আদৌ কাজ করা সম্ভব হয় কিনা, এই বিষয়গুলোরও নোট রাখা হয়।
হার্টের রোগের সঙ্গেও ইনসোমনিয়ার সম্পর্ক রয়েছে
এই গবেষণা থেকে জানা গেছে, প্রায় অর্ধেক হৃদরোগে আক্রান্তদের আছে ইনসোমনিয়ার সমস্যা। গবেষকরা জানান, ইনসোমনিয়ার মতো সমস্যা হার্টের রোগীদের দেখা দিতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে অন্য কোনো রোগ না থাকলেও এই সমস্যা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এবার এই বিষয়ে আরও বেশি গবেষণা দরকার যে, কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি এবং ডিজিট্যাল এপ্লিকেশননের মাধ্যমে এই রোগীদের সুস্থ করে তোলা যায় কি না।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১৩ এপ্রিল ২০২২ /এমএম





