প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: আজ আমরা ভমিটিং বা বমি নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমে জানা যাক ভমিটিং কি? আমরা দিবা-রাতের বিভিন্ন সময়ে খাবার খেয়ে থাকি। এই খাবার সাধারণত মুখগহ্বর হতে গলানালী হয়ে পাকস্থলিতে প্রবেশ করে। অনেক সময় নানা কারণে পাকস্থলির এই খাবার উদ্গীরণ হয়ে মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াকে আমরা বলি ভমিটিং বা বমি।
অনেকে বমিকে ব্যাধি হিসেবে ধারণা করেন। আসলে বমি কোনো রোগ নয়। শরীরের নানা রোগ-ব্যাধি বা অবস্থার কারণে বমি হতে পারে। সাধারণত বমি কোনো উদ্বেগজনক শারীরিক সমস্যা নয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে ভমিটিং যদি অব্যাহতভাবে হতে থাকে এবং প্রাথমিক চিকিত্সায় যদি বমি বন্ধ না হয় তাহলে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শে বমির কারণ খুঁজে বের করতে হবে।
তবে সাধারণ যেসব কারণে বমি হতে পারে তা হচ্ছে ফুডবর্ন ইলনেস যেমন:ফুড পয়জনিং, ইনডাইজেশন বা হজমে সমস্যা, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত ইনফেকশন (যাকে অনেকে স্টোম্যাক বাগ হিসেবে বুঝেন), মোশন সিকনেস বা যানবাহনে চলাচলের সময় বমি, মাইগ্রেনজনিত মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ওষুধ সেবন, অতিরিক্ত মদ্যপান, অতিরিক্ত আহার, অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স বা পেটে এসিডিটিজনিত সমস্যা, গলব্লাডারে সমস্যা, লিভারের সমস্যা, অতিমাত্রায় মানসিক চাপ, ভীতি, পয়জনাস কোনো খাবার খেয়ে ফেলা, ফুড এলার্জি, পেটের আলসার, পেটে প্রদাহ বা গ্যাস্ট্রাইটিস, তীব্র বা ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত পদার্থের ঘ্রান নাকে প্রবেশ করা, বাওয়েল অবস্ট্রাকশন, তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশন, এপেনডিসাইটিস ইত্যাদি। এছাড়া কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে বমি হতে পারে। তবে এটা সচরাচর বমির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নহে। এছাড়া বয়স ও অন্য কারণেও বমি হতে পারে। যেমন :শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের বমি হওয়া ইত্যাদি।
যদি বমি বমি ভাব বা বমি হয় তবে ওষুধ ছাড়াও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যায়। যেমন :কয়েক বার লম্বা শ্বাস নেওয়া, আদা দিয়ে চা খাওয়া, ওটিসি মেডিসিন যেমন :এন্টি-এমিটিকস জাতীয় কোনো ওষুধ সেবন, যানবাহনে চলাচলজনিত বমির প্রবণতা থাকলে যানবাহন যেমন :গাড়ি, বাস, ট্রেন বা প্লেনে ওঠার পূর্বে বমি কমানোর ওষুধ সেবন, বরফের ছোট টুকরা মুখে দিয়ে চুষা, অতিমাত্রায় তৈলাক্ত ও স্পাইসি বা মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করা ইত্যাদি। খাওয়ার পর মাথা ওপরের দিকে দিয়ে খানিকক্ষণ বসে থাকা। আহারের সঙ্গে সঙ্গে পানি পান না করা ইত্যাদি। তবে ব্যাকটেরিয়াজনিত ফুডপয়জনিং থেকে বমি হলে অনেক ক্ষেত্রে বমির ওষুধের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ লিকুইড বা পানি পান এবং শক্ত খাবার পরিহার করা হলে বমির প্রবণতা কমতে পারে।
এছাড়া এসিডিটির সমস্যা থাকলে ওমিপ্রাজল বা ইসোমাপ্রাজল জাতীয় ওষুধ ৪০ মিলিগ্রাম খাবার পূর্বে দিনে দুই বার সাত দিন খেতে পারেন। পাশাপাশি বমি কমানোর ওষুধ প্রতি বার আহারের আধাঘণ্টা পূর্বে খেতে হবে অন্তত তিন থেকে সাত দিন। এর পরও যদি বমি না কমে তবে অবশ্যই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে বারবার বমি হলে শরীর থেকে পানি ও খনিজ পদার্থ বের হয়ে যায়। তাই এক্ষেত্রে খাবার স্যালাইন বা ওআরএস পানিতে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। লেখক : চুলপড়া, অ্যালার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষ
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১০ জানুয়ারি ২০২২ /এমএম





