প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: গত ৪ আগস্ট মাদকসহ র্যাবের হাতে আটক হন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তার নামে মামলা হয়, রিমান্ড হয়, এরপর তাকে কারাগারেও যেতে হয়। ১৯ দিন কাশিমপুর কারাগারে কাটিয়ে ৩১ আগস্ট জামিন পান অভিনেত্রী। পরদিন বের হন কারাগার থেকে। জেলে থাকতে একজন বিশেষ ব্যক্তি তাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিই নাকি তাকে লড়াইয়ের সাহস যুগিয়েছে।
সম্প্রতি নায়িকা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন এ কথা। চিঠিটির ছবিও পোস্ট করেছেন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে। কিন্তু কে লিখেছিলেন নায়িকাকে ওই চিঠি। কী লেখা ছিল তাতে? তারও উত্তর রয়েছে ওই চিঠিতেই। কারণ সেটির নিচের অংশে ওই বিশেষ ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে, যিনি পরীমনিকে চিঠিটি লিখেছিলেন। তিনি আর কেউ নন, নায়িকার নানা শামসুল হক গাজী।
খুব ছোটবেলায় মা হারান পরীমনি। এরপর তাকে রেখে আসা হয় পিরোজপুরে নানা শামসুল হক গাজীর কাছে। তিনিই পরীকে বড় করেছেন, লেখাপড়া শিখিয়েছেন। এরপর ২০১২ সালে বাবাকেও হারান পরীমনি। নানা শামসুল হক গাজীই হয়ে ওঠেন তার একমাত্র অবলম্বন। পরীমনি বর্তমানে বনানীর যে ফ্ল্যাটে থাকেন, সেখানে তার নানা শামসুল হক গাজীও থাকেন।
গত ৪ আগস্ট যখন পরীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছিল র্যাব, চার তলার ফ্ল্যাট থেকে সেই দৃশ্য অসহায় চোখে দেখছিলেন শতবর্ষী নানা। এরপর পরীমনিকে বিচারের জন্য আদালতে তোলা হয়। তখন আদরের নাতনিকে একবার দেখার আশায় আদালতের সামনে হাজির হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। তবুও জীবনের ওই কঠিন সময়ে নানার লেখা চিঠিই পরীর সব শক্তির উৎস।
জেলে থাকতে নানার কাছ থেকে পাওয়া ওই চিঠি ফেসবুকে পোস্ট করে পরীমনি ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘একটা চিঠি। আমার সব শক্তির গল্প এখানেই।’ ছোট্ট ওই চিঠিতে লেখা, ‘নানু আমি ভালো আছি। কোনো চিন্তা করবা না। তোমার সাথে শিগগিরই দেখা দিব।’ চিঠির নিচে রয়েছে নানা শামসুল হক গাজীর সই।
তবে এই ছোট্ট চিঠিটি কীভাবে তার শক্তির উৎস, সে কথাও পরী জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। বলেছেন, ‘আমি গ্রেপ্তার হওয়ার পর নানু ভাই আমাকে চিঠিটি দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই আমি এটি অক্ষত রাখার চেষ্টা করেছি। আটক, রিমান্ড, জেলসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত আমি এটি অক্ষত রাখতে পেরেছি। এই চিঠিটি আমার জীবনের একটি শক্তি।’
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ /এমএম





