প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের সাথে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে। লাখ টাকার শেয়ারহাজার টাকায় বদলে নেয়ার এ প্রতারণায় দেশ এবং যুক্তরাজ্যে তোলপাড় চলছে। রিজেন্সির চেয়ারম্যান মুসলেহ উদ্দিন আহমেদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আদালত থেকে জারি করা হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা।শেয়ার কিনে প্রতারণার শিকার হওয়ায় ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক মিনাজ আহমেদ বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের প্রতিষ্ঠিত ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড ২০০৫ সালে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও ব্রোসিয়ারের মাধ্যমে বাংলাদেশি বংশোদ্ভ‚ত বিদেশিদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে শেয়ারহোল্ডার হিসেবে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করেন। আসামিদের প্রস্তাব ছিল যে, শেয়ার বাবদ ২৫ হাজার পাউন্ড স্টারলিং (২৯ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করলে, বিনিয়োগকারীকে কোম্পানির পরিচালকপদসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।মামলার বাদী মিনাজ আহমেদ ওই প্রস্তাবে সম্মত হয়ে ২০০৬ সালের ৩ মার্চ পরিচালক পদ পাওয়ার আশায় এ টাকা বিনিয়োগ করে শেয়ারহোল্ডার চুক্তিবদ্ধ হন।
২০০৭ সালের আগস্ট/সেপ্টেম্বর মাসে বাদী বরাবর পরিচালক হিসেবে কোম্পানির পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) প্রদান করা হয়। এরপর ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে মামলার বাদী বিদেশ থেকে বাংলাদেশে এসে আসামিদের কাছে কোম্পানির কাগজপত্র ও বিনিয়োগকৃত শেয়ারের সনদ দেখতে চাইলে আসামি মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ ও আরিফ মোতাহার তা দেখাতে গড়িমসি করেন। কেবল ২৯০টি শেয়ার (যার মূল্য ২৯ হাজার টাকা) প্রদর্শন করলে বাদী আশ্চর্য হন এবং আসামিদের প্রতারণা বুঝতে পারেন।
এরপর মামলার বাদী খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন, আসামিরা সব বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এমন প্রতারণা করেছেন এবং বাদীর মতো কাউকে অঙ্গীকার মতো কোম্পানির পরিচালক পদ দেননি। অংশীদারদের সমন্বয় পরিচালনা বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়ে একান্ত পারিবারিক বোর্ড গঠন করেন তারা। কোম্পানি পরিচালনার সুদীর্ঘ সময়ে কখনো কোনো লভ্যাংশ প্রদান করেননি আসামিরা। তারা কেবল নামমাত্র শেয়ার প্রদান করেই ক্ষান্ত হননি, লিমিটেড কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী এজিএম না করেই বাদীসহ অন্য শেয়ারহোল্ডারদের উপস্থিত দেখিয়ে সাক্ষ্য জাল করে এজিএম দেখিয়ে অবৈধভাবে কোম্পানি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী বিভিন্ন সময় প্রশ্ন করলে আসামিরা প্রভাব খাটিয়ে হয়রানিমূলক অভিযোগে বেশ কয়েকজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিনিয়োগকারীকে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করেন এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য করেন। চলতি বছরের ২১ নভেম্বর বাদী তাদের অফিসে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন এবং জীবননাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন।
এদিকে, মামলার প্রেক্ষিতে রিজেন্সির চেয়ারম্যান মুসলে উদ্দীনসহ সাত পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালত এ পরোয়ানা জারি করেন।গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য আসামিরা হলেন- ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবির হোসেন, পরিচালক আরিফ মোতাহার, নাজমা আরিফ মোতাহার, জেবুন্নেসা, ফাহিম আরিফ মোতাহার ও রোকেয়া খাতুন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি হওয়ায় মামলার বাদী মিনাজ আহমেদ ২ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন করেন। ওই দিনই বিচারক বাদীর আবেদন মঞ্জুর করে আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।’ আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশে উল্লেখ করেন, মামলাটি সমন জারি হয়েছে। বাদীপক্ষ একটি আবেদন দাখিল করে বলেন যে, আসামিরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক এবং আসামিরা যে কোনো সময় বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। যদি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি না করা তাহলে বাদীসহ শত শত লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আদালত আরো বলেন, আসামিরা বাদীসহ একাধিক লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। এ অবস্থায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি না করলে মামলার বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত হবে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, গত ৩০ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। আদালত বাদীর আবেদন গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলো। ওদিকে, মামলা এবং পরোয়ানা জারির দীর্ঘদিন পরও প্রধান অভিযুক্তসহ অন্যান্য আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী মিনাজ আহমদ।
তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই গত ২৫ নভেম্বর চেয়ারম্যান মুসলেহ আহমেদ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শাহ জালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা না থাকায় তখন তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। মামলার তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যান মুসলেহ আহমেদ, পরিচালক আরিফ মোতাহার ও তার স্ত্রী-ছেলে দেশেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটু চেষ্টা করলেই তাদের ধরতে পারবে। মিনাজ বলেন, দেশের স্বার্থেই এদের ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। নাইলে প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগে উৎসাহ হারাবে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/০৫ জানুয়ারি ২০২১ /এমএম





