বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: বিশ্বের অনেক নেতা আছেন যারা জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তাদের অনেকে আদর্শ মনে করে। তাদের জীবন, লাইফস্টাইল যেমন শৈল্পিক তেমন তাদের অনুসরণ করার রাস্তাটি বেশ সহজ। আজকের লেখায় থাকছে বিশ্বের সেই নেতাদের
আত্মজীবনীর আলোচনা। লিখেছেন- নাজমুল হক ইমন
অসমাপ্ত আত্মজীবনী: শেখ মুজিবুর রহমান
২০০৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা আকস্মিকভাবে তার কন্যা শেখ হাসিনার হস্তগত হয়। খাতাগুলো অতি পুরনো, পাতাগুলো জীর্ণপ্রায় এবং লেখা প্রায়শ অস্পষ্ট। মূল্যবান সেই খাতাগুলো পাঠ করে জানা গেল এটি বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’,। এটি তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি।
জেল-জুলুম, নিগ্রহ-নিপীড়ন যাকে সদা তাড়া করে ফিরেছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসর্গীকৃত-প্রাণ, সদাব্যস্ত বঙ্গবন্ধু যে আত্মজীবনী লেখায় হাত দিয়েছিলেন এবং কিছুটা লিখেছেন, এই বইটি তার স্বাক্ষর বহন করছে।
বইটিতে আত্মজীবনী লেখার প্রেক্ষাপট, বংশ পরিচয়, পিতা-মাতা, জন্ম, শৈশব, স্কুল ও কলেজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্ভিক্ষ, বিহার ও কলকাতার দাঙ্গা, দেশভাগ, কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের রাজনীতি আছে। দেশ বিভাগের পরবর্তী সময় থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলার রাজনীতি, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকারের অপশাসন, ভাষা আন্দোলন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন, আদমজীর দাঙ্গা, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণসহ এসব বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে।
আরো আছে কারাজীবন, চীন-ভারত-পশ্চিম পাকিস্তান ভ্রমণের বর্ণনা এবং পরিবার, বিবাহিত জীবন, সন্তান-সন্ততি ও সর্বোপরি সর্বংসহা সহধর্মিণীর কথা, যিনি তার রাজনৈতিক জীবনে সহায়ক শক্তি হিসেবে দুঃসময়ে অবিচল পাশে ছিলেন।
প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ারস: নেলসন ম্যান্ডেলা
নেলসন ম্যান্ডেলার আত্মজীবনী ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’-এর দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করা হচ্ছে। নতুন বইটির নাম ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ারস’।
নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনের এক মুখপাত্র গত বুধবার এ খবর জানায়। পাঁচ বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট থাকাকালের অভিজ্ঞতা নিয়ে ম্যান্ডেলা বইটি লেখেন। বইটির সূচনায় ম্যান্ডেলার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি থাকবে বলে জানিয়েছেন ওই মুখপাত্র। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা, শান্তিতে নোবেলজয়ী ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাবাসের পর ১৯৯০ সালে মুক্তি পান। এরপর ১৯৯৪ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। ৯৫ বছর বয়সে গত বছর তিনি মারা যান।
এ ডক্টর ইন দ্য হাউস: মাহাথির মোহাম্মদ
মাহাথির মোহাম্মদ আধুনিক মালয়েশিয়ার অন্যতম স্থপতি। মালয়েশিয়ার উন্নয়নে তার রয়েছে অগ্রণী ভূমিকা। স্বৈরতান্ত্রিক একদলীয় শাসন দেশের জনসাধারণও বিরোধীদলের জন্য সাময়িক বিপদজনক মনে হলেও এর সুদূর প্রসারী ক্ষতির খেসারত দিতে হয় দলকে। মাহাথির মোহাম্মদের ২২ বছরের স্মৃতিকথা নিয়ে আত্মজীবনী ‘এ ডক্টর ইন দ্য হাউস’ বইতে মাহাথির লিখেছেন, আমি এই সমস্ত বিষয়ে কিছুটা ভূমিকা রেখেছি। মালয়েশিয়ার বিষ্ময়কর প্রগতির জন্য আমার সার্বক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী ভাবনা ছিল আমার। আমার স্বপ্ন, পরিকল্পনা এবং পরিশ্রমই আধুনিক মালয়েশিয়া গঠনে সাহায্য করেছে।
উইংস অব ফায়ার: এপিজে আবদুল কালাম
এপিজে আবদুল কালামের আত্মজীবনী ‘উইংস অব ফায়ার’। ‘উইংস অব ফায়ার’ এর বাংলা অনুবাদ ‘অগ্নিপক্ষ’। মাত্র ২০২ পৃষ্ঠার বইটি যারা পড়েছেন তাদের জন্য নতুন করে বলার কিছু নেই।
কিন্তু যারা বইটি পড়েননি তাদের জন্য এই বই। কিছু কিছু সাহসী মানুষের জীবনকথা কখনো কখনো ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়নি ঠিকই, কিন্তু এসব নীরব মানুষই তাদের কঠোর পরিশ্রম দিয়ে জাতির প্রগতিকে কয়েক প্রজন্ম এগিয়ে দিয়েছেন।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ০৭ মার্চ ২০২০ /এমএম





