বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: লবণ বা নুন হলো খাদ্যে ব্যবহৃত এক প্রকারের দানাদার পদার্থ যার মূল উপাদান হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড। লবণ ছাড়া খাবারের তেমন স্বাদ পাওয়া যায় না। তবে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া শরীরের জন্য বিপত্তির কারণ হতে পারে। হতে পারে নানা অসুখ। দৈনিক কী পরিমাণ লবণ খাওয়া উচিত তা জানা থাকলে শারীরিক অনেক সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
অনেকেই রোগা হওয়ার জন্য ডায়েট করার সময়ে খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দেন। আসলে লবণ শরীরে জলধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে অনেকেই মনে করেন যে, এই জলের ওজনই বডিওয়েট বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে এই কথাটা পুরোপুরি সত্যি নয়। লবণ খেলে শরীরে জলধারণ ক্ষমতা বাড়ে ঠিকই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তার থেকে ওজনও অনেকটা বেড়ে যাবে। এমনকি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় যারা ভোগেন, তাদেরও প্রত্যেক দিন নির্দিষ্ট পরিমাণে লবণ রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়।
দৈনিক কতটুকু লবণ
একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের প্রত্যেক দিন এক চা চামচ লবণ খাওয়া উচিত। পাঁচ-ছয় গ্রাম লবণ খাদ্যতালিকায় রাখাই যায়। তবে কাঁচা লবণ না খেয়ে রান্নায় লবণ দিয়ে খাওয়াই ভাল। এছাড়া লবণ শুকনো পাত্রে হালকা ভেজেও খেতে পারেন। বিশেষত উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগলে কাঁচা লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
কোন লবণ খাবেন
বাজারে সি সল্ট, পিঙ্ক সল্ট, রক সল্ট, টেবল সল্ট… ইত্যাদি অনেক ধরনের লবণ পাওয়া যায়। প্রত্যেকটিতেই সোডিয়াম থাকে। অনেকেই মনে করেন, সি সল্টে মিনারেল বেশি থাকে, তাই টেবল সল্টের চেয়ে তা বেশি ভাল।
তবে টেবল সল্ট খাওয়া বেশি ভাল। তার কারণ টেবল সল্ট রিফাইনড। বিশেষত মেয়েদের জন্য আয়োডাইজ়ড টেবল সল্ট খাওয়া ভাল। অন্য দিকে সি সল্ট যেহেতু সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত করে তৈরি হয়, তাই মিনারেলের পরিমাণ সমুদ্র অনুসারে পৃথক হয়।
লবণের অভাবে যে সমস্যা হয়
লবণে শতকরা ৯৭-৯৯ ভাগই হল সোডিয়াম ক্লোরাইড। ফলে লবণ খাওয়া বন্ধ করলে প্রথমেই সোডিয়ামের অভাব হবে। এর অভাবে নানা রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দেবে। হুট করে প্রেশার কমে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও বিরল নয়।
সাধারণ মাখন, চিজ়, পাউরুটি ইত্যাদি খাবারে কিছুটা পরিমাণে লবণ থাকে। তাই এই জাতীয় খাবার রোজকার খাদ্যতালিকায় থাকলে অন্য খাবারে লবণের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
যারা রোজ কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম বেশি করেন, তারা ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শ মতো খাবারে লবণের পরিমাণ স্থির করুন। কারণ ঘামের মাধ্যমেও শরীর থেকে জল ও লবণ অনেকটাই বেরিয়ে যায়। ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স কম হলেও ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে লবণের পরিমাণ বাড়াতে হতে পারে।
বাজারচলতি প্যাকেটজাত খাবার যেমন, চিপস, নাচোজ় থেকে শুরু করে হ্যাম, সসেজ, সয় সস, টম্যাটো সসেও লবণ থাকে। এই ধরনের খাবারের বিষয়েও সচেতন হতে হবে।
মাছ, মাংস বা ডিম থেকেও সোডিয়াম পাওয়া যায়। তবে যথার্থ চাহিদা তাতে মেটে না। সেখানে অল্প লবণ পরিমাণ লবণ অবশ্যই খেতে হবে।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২৫ নভেম্বর ২০১৯ /এমএম





