প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: চিনি কম খেলে শরীরে দ্রুতই কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। ত্বক ভালো হওয়া থেকে শুরু করে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো পর্যন্ত, নানা উপকার মিলতে পারে অল্প সময়ের মধ্যেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি খাওয়া স্থূলতা, ফ্যাটি লিভার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এমনকি ক্যানসারের মতো ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত। তবে শুধু ক্ষতি এড়ানোই নয়, চিনি কমালে শরীর ও মনের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
পুষ্টিবিদ এ্যমি গুডসন বলেন, চিনি কমালে মেজাজ, ত্বকের স্বাস্থ্য, দাঁতের পরিচ্ছন্নতা, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা এমনকি শরীরচর্চার সক্ষমতাও উন্নত হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, সব চিনি এক রকম নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ধরনের চিনি একরকমের ক্ষতিকর নয়। প্রাকৃতিক চিনি যেমন ফল, দুধ বা শস্যে থাকা চিনি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি দেয় এবং সঙ্গে ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারও সরবরাহ করে।
উদাহরণ হিসেবে, আমে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকলেও এতে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও ফাইবার থাকে, যা শরীরকে সেই চিনি ধীরে শোষণ করতে সাহায্য করে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিদ এলিস লিচেস্টাইন বলেন, ফলের ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ঠেকায়।
অন্যদিকে ‘অ্যাডেড সুগার’ বা অতিরিক্ত যোগ করা চিনি, যা প্রক্রিয়াজাত খাবারে দেওয়া হয়, সবচেয়ে ক্ষতিকর। এসব চিনি কোনো পুষ্টিগুণ দেয় না, তাই এগুলোকে ‘খালি ক্যালোরি’ বলা হয় বলে জানান অরেক পুষ্টিবিদ ক্যথেরিন জেরাটস্কি।
বেশি চিনি খাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে পুষ্টিবিদ এলিন হোন বলেন, অতিরিক্ত চিনি শরীরে চর্বি হিসেবে জমে, যা ওজন বৃদ্ধি এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। এর ফলে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া এটি লিভারে চর্বি জমিয়ে ফ্যাটি লিভার তৈরি করতে পারে এবং অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি করে। পুষ্টিবিদ উমা নাইডো বলেন, এটি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চিনি কমানোর উপকারিতা
চিনি কমালে শরীরে ক্ষতিকর AGEs নামের যৌগ কম তৈরি হয়, যা বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে। এতে ত্বক ভালো থাকে এবং বলিরেখা কম দেখা যায় বলে জানান জেন মেসার। এছাড়া কম চিনি খেলে ঘুম ভালো হয়, কারণ চিনি মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে ঘুমে বাধা দেয়। পাশাপাশি মেজাজও ভালো থাকে, কারণ চিনি মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী রাসায়নিকের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে চিনি কমানো সবচেয়ে উপকারী। তবে স্বল্প সময়ের জন্য কমালেও ভালো ফল পাওয়া যায়। পুষ্টিবিদ ওয়ালটার উইলেট বলেন, চিনি কমালে কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যেই টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমতে শুরু করতে পারে। এতে শক্তি স্থিতিশীল থাকে, হঠাৎ ক্লান্তি কমে এবং চিনি খাওয়ার ইচ্ছাও ধীরে ধীরে কমে যায়।
কীভাবে চিনি কমাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমে লক্ষ্য করুন কোথা থেকে বেশি চিনি আসছে। চিনি যুক্ত পানীয় যেমন কোমল পানীয় কমানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের লেবেল দেখে অ্যাডেড সুগারের পরিমাণ যাচাই করা উচিত। এছাড়া, রান্নায় অতিরিক্ত চিনি না দিয়ে দারুচিনি, ভ্যানিলা বা জায়ফলের মতো প্রাকৃতিক ফ্লেভার ব্যবহার করা যেতে পারে। সব মিলিয়ে, ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে চিনি কমালে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে শরীর ভালো থাকে, শক্তি বাড়ে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফি
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০২ মে ২০২৬/এএ





