প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৮০ জনের বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনার ধ্বংসস্তূপে অনেক যাত্রী আটকা পড়েছেন। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার কমিউটার লাইন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র করিনা আমান্ডা রয়টার্সকে বলেন, সোমবার গভীর রাতে বেকাশি শহরের একটি রেলস্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাকার্তার কাছাকাছি এই এলাকায় একটি কমিউটার ট্রেন এবং একটি দূরপাল্লার ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এক কর্মকর্তার বরাতে এএফপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনাস্থলের ধ্বংসস্তূপে এখনো অন্তত চারজন জীবিত অবস্থায় আটকা রয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাসের প্রধান মোহাম্মদ স্যাফিই বলেন, এখন উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় সঠিক হতাহতের সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিবৃতিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, সংকীর্ণ জায়গা এবং ট্রেনের বগিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ কেটে আটকেপড়াদের বের করতে উদ্ধারকর্মীরা ‘ধীরে ধীরে’ কাজ করছেন।
ঘটনাস্থলে থাকা প্রতিবেদকরা বলছেন, উদ্ধারকর্মীরা অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করে ট্রেনের ধাতব কাঠামো কেটে যাত্রীদের বের করার চেষ্টা করছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত রেলওয়ে অপারেটর কাইয়ের মুখপাত্র অ্যান পুরবা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং ৭৯ জন এখনো হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
কাইয়ের আরেক মুখপাত্র ফ্রানোতো উইবোও বলেন, একটি লেভেল ক্রসিংয়ে একটি ট্যাক্সি কমিউটার ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয়, ফলে সেটি লাইনের ওপর থেমে যায়। এরপর দূরপাল্লার ট্রেনটি এসে সেটিকে ধাক্কা দেয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটি হলো জাকার্তা থেকে চিকরাংগামী কমিউটার ট্রেন এবং ‘আরগো ব্রোমো অ্যাংরেক’ নামের দূরপাল্লার ট্রেন। এটি জাকার্তা ও সুরাবায়ার মধ্যে চলাচলকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্রুতগতির ট্রেন সার্ভিস।
ইন্দোনেশিয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা নতুন নয়। ২০১০ সালে জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ট্রেন মধ্য জাভায় একটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দিলে ৩৬ জন নিহত হন। এছাড়া ২০১৫ সালে পশ্চিম জাভায় একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন একটি মিনিবাসকে ধাক্কা দিলে ১৮ জন নিহত হন।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২৮ এপ্রিল ২০২৬/এএ





