প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার/ মৌনতার সুতোয় বোনা/ একটি রঙিন চাদর’-ভূপেন হাজারিকার গানটি শাল নিয়ে করা কি-না তা বলা না গেলেও তীব্র শীতে স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে শালের রয়েছে আলাদা আবেদন। শীতে শাল একটি অনবদ্য পোশাক। শাল গায়ে চাপালে আসে মার্জিত লুক।শীত কিছুটা ফ্যাকাসে ঋতু। আর এজন্যই গায়ে চাপানো শালের মধ্যে রঙের বাহার এই বিবর্ণতা সরাতে সাহায্য করে। শালের বৈচিত্র্য সবসময় রয়েছে। আজকালকার ফ্যাশন হাউজগুলোও শাল ডিজাইনে মনোযোগী হয়ে উঠতে শুরু করেছে। কারণ শালের মাধ্যমে আপনি নিজেকে অনবদ্যভাবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি শীতে পাবেন আরামও। তাছাড়া ফরমাল-ইনফরমাল সব আয়োজনেই শাল পরা যেতে পারে। এ বিষয়টিও ফেলনা নয়। তবে শাল বা চাদর কিনলেই তো আর হয় না। শালের ধরন সম্পর্কেও ধারণা থাকা চাই।ভেবে দেখুন, শীতে কেমন ধরনের শাল গায়ে চাপাবেন। শীত আটকানোটাই তো আর প্রধান নয় সবসময়। আপনার স্টাইলেও তো সমঝোতা করা চলে না।
পশমিনা শাল
কমনীয়তার প্রতীক বলে পরিচিত ক্লাসিক পশমিনা শাল। পশমিনা শব্দটি ব্যুৎপত্তিগতভাবে ফার্সি। ফার্সি শব্দ পশমিনার অর্থ উল থেকে বোনা। লাদাখ ও হিমালয়ের জম্মু-কাশ্মীরের কিছু অংশে পশমিনা ভেড়া পাওয়া যায়। এই ভেড়ার পশম থেকেই তৈরি হয় বিখ্যাত কাশ্মীরি পশমিনা শাল। সম্পূর্ণ হাতে তৈরি নিপুণ শিল্পকর্মের নিদর্শন এই শাল। পশমিনা ভেড়ার লোম ছেঁটে কাশ্মীরের শাল শিল্পীরা দীর্ঘ পরিশ্রমে একটি শাল তৈরি করেন। এই শাল যেকোনো পোশাকের সঙ্গে পরা যাবে।
আসল পশমিনা শাল চেনার জন্যও কিছুটা জ্ঞান প্রয়োজন। শালের নিচের অংশ থেকে সামান্য সুতো ছিঁড়ে নিন। পুড়িয়ে পরীক্ষা করুন। চুল-পোড়া ঘ্রাণ বেরুলে বুঝবেন আসল। আবার আসল পশমিনা শালে কোনো ট্যাগ আঠা দিয়ে লাগানো থাকবে না। উলে বোনা বলে সেলাই করেই লেবেল বা ট্যাগ দেওয়া থাকে। চলছে বাণিজ্য মেলা। বাণিজ্য মেলা থেকেই কিনে নিতে পারেন বাহারি রঙের পশমিনা শাল।
উলের শাল
পশমিনা শাল ঠিক সবসময় কেনা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে তীব্র শীতে উলের শাল পরতে পারেন। উলের শালের একটি ইতিবাচক দিক, এই শাল যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই মানানসই। প্রাণবন্ত প্যাটার্নের উলের শাল শীতে আপনার লুককে দিতে পারে প্রাণ। জিন্স ও সোয়েটারের সঙ্গেও সহজে পরা যায় শাল। ফরমাল কোটের ওপরও পরা যাবে কোনো ঝুট-ঝামেলা ছাড়া।উলের শালের শুধু ডিজাইন নয়, পুরুত্বের ধরনের ওপরও শাল রয়েছে। মোটা উলের পাশাপাশি পাতলা উলের নকশা করা আকর্ষণীয় শাল পাওয়া যাবে। শীতে শাড়ির সঙ্গে উলের শাল সবসময়ই মানানসই।
এমব্রয়ডারি করা সিল্কের শাল
বিলাসবহুল স্পর্শ কিংবা লুকে আভিজাত্য নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এমব্রয়ডারি করা সিল্কের শালের আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ ধরনের শালে জটিল সূচিকর্ম, পুতির কাজ বা সিকুইন করা থাকে। পশমিনা শালের দাম অনেক বেশি হওয়ায় অনেকেই এমব্রয়ডারি করা সিল্কের শাল কিনে থাকেন। আজকাল অনেকেই এমব্রয়ডারিকে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফ্লোরাল এমব্রয়ডারি বা অ্যাবস্ট্রাক্ট মোটিফের এমব্রয়ডারি করা শালগুলো ফ্যাশন বা ট্রেন্ড অনুসরণকারীদের জন্য নিঃসন্দেহে চমত্কার।
মখমল শাল
বার্গান্ডি, পান্না বা গাঢ় নীলের মতো রঙের শাল পোশাকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে অনেক গুণে। মখমল শব্দটি শুনলেই আরামের কথা মাথায় আসে। তীব্র শীতে এই ধরনের শাল সত্যিই ভীষণ আরাম দেয়। গায়ে ভারী মনে হয় না। তাছাড়া শরীর গরম রাখে। অস্বস্তি কাজ করে না। মখমলের শালে ভারী ফ্লোরাল ডিজাইন দেওয়ার কারণে আজকাল অনেকের কাছেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে।
বোহেমিয়ান ফ্রিংড শাল
এই ধরনের শালগুলো ঝালরযুক্ত। সংখ্যালঘু জাতিসত্তা বা জাতিগত নকশা দ্বারা অনুপ্রাণিত বোহেমিয়ান শাল সাধারণত পঞ্চ স্টাইলের হয়। ডেনিম এবং টিশার্টের সাথে এ ধরনের শাল দারুণভাবে মানিয়ে যায়। পরা যায় গাউনের সাথে। শুধু তাই নয়, বোহেমিয়ান শাল পেয়ার করা হোক বা ম্যাক্সি ড্রেসের ওপরে লেয়ার করা হোক না কেন, আপনাকে বোহো-চিকের লুক দেবে অনায়াসে।
পোশাক ও ছবি সৌজন্যে: সেইলর
প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ /এমএম





