প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: গ্যাসের চুলা কি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? এমন একটি ধারণা অমূলক কিছু নয়। বহুদিন ধরেই এ নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক চলছে। গ্যাসের চুলা থেকে নানা রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয় যা স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে। সেখানেও নানা দ্বিধা। যুক্তরাষ্ট্রতেও গ্যাসের চুলা নিষিদ্ধ হবে কি-না এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানো হলেও নানা ক্ষতিকর গ্যাস উৎপন্ন হয়। নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড এসবের মধ্যে অন্যতম। সচরাচর বাইরে গ্যাসের নির্গমন মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিধি-নিষেধ থাকলেও বাসা-বাড়ির ভেতরে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু গবেষণা বলছে- ঘরে কিংবা বাইরের পরিবেশের নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড স্বাস্থ্যের জন্য সমান ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, গ্যাসের চুলা থেকে প্রায় সময়ই বেনজিনের মতো ক্যানসার সৃষ্টিকারী অদহনকৃত গ্যাস নির্গত হয়। এগুলো হয় যখন গ্যাস লাইনে লিকেজ হয়ে থাকে তখন।
গ্যাসের চুলার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে অতীতেও বহু গবেষণা হয়েছে। তখন জানা গিয়েছিল গ্যাসের চুলায় নির্গত নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের প্রভাবে শিশুরা শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়। ২০২২ সালেই একটি গবেষণা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাসের চুলা ১২.৭ শতাংশ শিশুদের অ্যাজমার কারণ। তখন দাবি ওঠে গ্যাসের চুলা নিষিদ্ধ করা হোক।
কিন্তু আমেরিকান গ্যাস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, শিশুদের গ্যাসের সংস্পর্শে এনে পর্যবেক্ষণ মূলক এই গবেষণা প্রত্যক্ষ কারণ হতে পারে না। এজন্য বিতর্ক আবার শুরু হয়। তবে গ্যাসের সংস্পর্শে যে শ্বাসনালীর সমস্যায় প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হন তাতে সন্দেহ নেই। সার্বিকভাবে গ্যাসের চুলা মানবশরীরে কতটা ক্ষতি করে তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও সন্দেহ নেই পরিবেশে এর বিরূপ প্রভাব বিষয়ে। গ্যাসের চুলা থেকে নির্গত মিথেন বায়ুমণ্ডলে জমা হয়ে তাপ শোষণ করে তাপমাত্রা বাড়াতে থাকে। বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মিথেনের সর্বনাশা প্রভাবের কথা নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বাসা-বাড়ির গ্যাসের চুলা থেকে নির্গত এ মিথেন গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাব প্রায় পঞ্চাশ হাজার প্রাইভেট কারের মিথেন নির্গমনের সমান। তবে গ্যাসের চুলা ছাড়াও অন্যান্য উৎস থেকে নির্গত মিথেন গ্যাসের এমন প্রভাব সম্পর্কে গবেষকরা অনেক আগে থেকেই অবগত আছেন।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, গ্যাসের বদলে ইলেকট্রিক পণ্য ব্যবহার করলে প্রকৃতির ওপর ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা যাবে। ঢাকাসহ আশপাশের অনেক স্থানেই গ্যাসনির্ভর রান্নাবান্না। আবার কিছু এলাকায় সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক এলাকায় তো গ্যাসও ঠিকমতো থাকে না। এক্ষেত্রে অবশ্যই গ্যাসের বদলে ইলেকট্রিক চুল্লি বা অন্যান্য গ্যাজেট ব্যবহার করা যেতে পারে। এভাবে যদি কিছুটা হলেও সাশ্রয় করা যায় তাহলে ভালো। এছাড়াও পরিবেশের দিকেও কিছুটা মনোযোগ বাড়ানো যাবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গ্যাসের চুলার ব্যবহার বাতিল করা সম্ভব হবে না। তবে একথা সত্য, আমরা সাশ্রয়ের দিকে পৌছুতে পারব।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৯ এপ্রিল ২০২৩ /এমএম





