Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌  যারা নায়ক আমি তাদের সাথে কাঁধ মিলাই না। আমি এমন লোকদের সাথে কাঁধ মিলাই যাদের জীবন চালিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটার সঙ্গে মানিয়েও নিতে হয়। আসলে সাধারণ মানুষ কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে লেখার চেয়ে নায়কদের সম্পর্কে লেখা আমার জন্য বড় চাপ এবং শেষ পর্যন্ত এটা বলি, আসুন এ ছোট জীবনগুলোকে অবহেলা না করি।ঢাকা লিট ফেস্টের তৃতীয় দিন শনিবার ‘কেন্দ্রহীন এক বিশ্ব’ সেশনে নিজের লেখালেখি আর দর্শনের বিষয়ে এভাবেই বললেন তানজিয়া বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক আবদুলরাজাক গুরনাহ।

তিনি বলেন, আমি তাদের নিয়ে আগ্রহী নই, যারা কেন্দ্রীয় মঞ্চ দখল করে থাকেন বা যারা পত্রিকার পাতায় থাকেন। কারণ তারা ইতোমধ্যেই সেখানে অবস্থান করছেন, তাদের কাজ তারা করে যাচ্ছেন। আমি সাধারণ মানুষের জীবনের জটিলতা নিয়ে বেশি পরিমাণে আগ্রহী। কারণ সে জীবনেই আমাদের সবার বসবাস। আর সেখানেই মানুষের দ্বিধা ও কষ্টগুলো প্রতিভাত হয়। আর এটা বড় মঞ্চে কিংবা সংবাদপত্রে প্রতিফলিত হয় না।

২০২১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ী এ লেখক বলেন, সুতরাং এটি একটি অভূতপূর্ব প্রতিশ্রুতির মতো নয় যে, আমি ছোট জীবনে আগ্রহী, এটিই আমি। আমি মনে করি, যে স্থান এবং লোকদের সম্পর্কে লেখা হয়েছে তা আমার কাছে আকর্ষণীয়।

কাদের উদ্দেশে লেখেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি কার জন্য বলি, সেটা আমি জানি। আর সেটা হচ্ছি আমি নিজে। লেখার দৃষ্টিকোণ নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। কারণ আমি যা-ই দেখি, তা-ই প্রকাশ করি। যখন লিখি তখন আমি চাই, যিনি এটা পড়ছেন তিনি যেন বলতে পারেন-এভাবেই তো আমি বিষয়গুলো দেখছি কিংবা বলতে পারেন, আমিও তো এটা নিয়ে ভেবেছি, এটা খুব কৌতূহল উদ্দীপক। অথবা বলতে পারেন, কিচ্ছু হয়নি, এটা একটা আবর্জনা।

তিনি বলেন, কার জন্য বলি, সেই প্রশ্নের আরেকটা উত্তর সবার জন্য। আমার এটা নিয়ে কখনো দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ ছিল না, আমার পাঠক কে? আমি শুধু ভেবেছি, আমি লিখছি যাতে যে কেউ চাইলেই এটা পড়তে পারবে।

নিজে যখন অন্যের লেখা পড়েন তখনও তার কাছে একই রকমের অনুভূতি হওয়ার কথা তুলে ধরে গুরনাহ বলেন, আমি যখন কোনো নতুন লেখা পড়ি, আমার প্রতিক্রিয়াও এমনিভাবে হয়, এটা আমার কাছে নতুন নয়। তবে আমি এটাকে এভাবে চিন্তা করিনি।গুরনাহর সঙ্গে ওই অধিবেশনে আলোচনায় যোগ দেন ভারতীয় লেখক অমিতাভ ঘোষ, ভারতীয় প্রাবন্ধিক-ঔপন্যাসিক পঙ্কজ মিশ্র। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারতীয় সাংবাদিক-সাহিত্য সমালোচক নীলাঞ্জনা এস রায়।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ /এমএম