Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ রাজধানীর মগবাজারের একটি বাসার দরজা ভেঙে মঙ্গলবার রাতে শবনম শারমিন (২৮) নামে এক সাংবাদিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই নারী সাংবাদিক অনলাইন গণমাধ্যম দ্য রিপোর্টে কর্মরত ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, ৪-৫ দিন আগে শারমিনের মৃত্যু হওয়ায় লাশটি পচে গেছে। তার স্বামীর নাম সাইদুল ইসলাম। তিনি এশিয়ান টিভির সাবেক অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক।সাংবাদিক শবনম শারমিনের কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ তার স্বামীকে খুঁজছে।এদিকে লাশ উদ্ধারের পরদিন বুধবার বিকালে সাংবাদিক শবনম শারমিনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন দ্য রিপোর্টের সম্পাদক লুৎফর রহমান হিমেল।

স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘গ্রামের বাড়ি ছুটি কাটিয়ে ঢাকা ফিরেছি। বছর শেষ হতে চলেছে। ঘটনা-দুর্ঘটনার সদ্য অতীত বছরটি নিয়ে সালতামামীর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মিটিং করবো। শবনম নেই। এটা একটু অস্বাভাবিকই। কারণ শবনম এসব মিটিংয়ে সবার আগে আগে থাকে। অফিসের কাজের প্রতি সে ষোলোআনা মনোযোগী। তার দক্ষতা হয়তো কম, কিন্তু যেটি বেশি করে দরকার, সেই আগ্রহটা ওর বেশি। এ কারণেই সে আমাদের দ্য রিপোর্টের এসাইনমেন্ট এডিটরের মতো বিরাট দায়িত্ব সামলাচ্ছিল।

শবনম মানে শবনম শারমিন (৩০)। দ্য রিপোর্ট ডট লাইভের সংবাদকর্মী। গতকাল হাতিরঝিলের ভাড়া বাসা থেকে ওর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাতে এ খবরটি যখন শুনলাম, থ হয়ে গেলাম। কাজ বাদ দিয়ে ঝিম মেরে বসে থাকলাম। শবনম এতটা বিনয়ী যে, আমার রুমে ঢুকলে বাক্যের শুরুতে ভাইয়া, শেষে আরেকবার ভাইয়া বলে কথা বলতো। মাথা নিচু করে থাকতো। শুনতো বেশি, বলতো কম। মিটিংয়ে হয়তো সহকর্মীদের ব্যাপারে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে সেগুলো বলতো; কিন্তু আমার রুমে এসে কারো বিরুদ্ধে কোনো নালিশ সে করতো না। অথচ মিডিয়াতে এরকম ঘটনা প্রচুর। সেই শবনম যে নেই, বিশ্বাস করতে পারছি না এখনো।

ধীরস্থির আর ঠাণ্ডা মাথার দায়িত্বশীল কর্মী বলেই সে দ্রুত প্রমোশন পেয়ে এসাইনমেন্ট এডিটর হয়েছিল। কাজগুলো নিয়ে চাপে পড়লে বলতাম, চাপ নিও না, পদটি বড় হলেও পেছনে তো আমি আছিই। সে সহজ করে নিয়েছিল তার কাজ। এরই মধ্যে গত মাসে শুনলাম সে বিয়ে করছে। শুভকামনা জানালাম। দাওয়াত পাইনি যদিও, এ যুগের ছেলেমেয়েরা বিয়ের পরও অনুষ্ঠান করে। ভাবলাম- পরে দাওয়াত করবে হয়তো। কিন্তু এরই মধ্যে এই মর্মান্তিক খবর।যতদূর জানা যাচ্ছে, শবনম তার বিয়েটার কথা ওর বড় বোন আর দুলাভাই ছাড়া তেমন কাউকে জানায়নি! একটি বেসরকারি টিভির সাবেক এক সাংবাদিক নাকি তার হাজব্যান্ড। তার নাম সাইদুল ইসলাম। সাইদুলকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে শবনমের বড় বোন।

দ্য রিপোর্টের অ্যাডমিন জানালো, কয়েক দিন ধরে অফিস থেকে কল করে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অথচ ফোনে রিং হচ্ছিল। পুলিশ কর্তৃক লাশ উদ্ধারের রাতে তার মোবাইল ফোনটি চার্জে যুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ছুটি শেষে তার অফিস শুরুর কথা ছিল। যেহেতু বিয়েপরবর্তী ছুটি, তাই অফিস থেকে রিজয়েন করার চাপও ছিল না। অফিস তাকে ছুটি দিয়েছিল। যেহেতু নতুন বিয়ে করেছে, একটু অবকাশ তার কাটানোর অধিকার আছে। ছুটি থেকে তার ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এবারের এই ছুটিই যে তার চিরছুটি হয়ে যাবে, ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি আমরা! শবনমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। শবনমের এই অকাল প্রয়াণের পেছনে যে কারণই থাকুক, সেটি উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি। পুলিশ এরই মধ্যে শবনমের বোনের লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নিয়েছে। শবনমের স্বামী সাইদুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।’

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ /এমএম