প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: র্যাবের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার চিত্রনায়িকা পরীমনি, আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর, কথিত মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌয়ের বিরুদ্ধে করা সাত মামলার তদন্তভার পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।শুক্রবার রাতে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ঢাকাটাইমসকে জানিয়েছেন, ওই সাতটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডি।
বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তার নামে তিনটি মামলা করেছে র্যাব।গত ৩০ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান থানায় র্যাব বাদী হয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নামে আরও দুটি মামলা করে। এর মধ্যে একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং অপরটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে। হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামে নতুন সংগঠন করে সম্প্রতি আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরে ঢাকার গুলশানের বাড়িতে গত ২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে অভিযান শুরু করে র্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ ও মুদ্রা, হরিণ ও ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ওয়াকিটকি সেট এবং ক্যাসিনোর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ‘জয়যাত্রা’ নামক টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনার কারণে তার নামে পল্লবী থানায় আলাদা একটি মামলা করা হয়।
চিত্রনায়িকা পরীমনি ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে।গত ৪ আগস্ট বুধবার রাতে রাজধানীর বনানী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, উচ্চমাত্রার মাদক এলএসডি, আইসসহ পরীমনি ও নজরুল রাজ এবং তাঁদের দুই সহযোগীসহ আটক করে র্যাব। পরের দিন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বনানী থানায় তাদের নামে দুইটি মামলা করে র্যাব। বর্তমানে ওই ওই মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গত বৃহস্পতিবার তাঁদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় পৃথকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। ওই মামলায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। পরে তাঁদের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। বর্তমানে পরীমনি ও নজরুল রাজসহ চারজন রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে রয়েছে।মাদক মামলায় ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে আবার বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকারমহানগর মূখ্য হাকিমের (সিএমএম) আদালত আজ শুক্রবার এ আদেশ দেন।
এর আগে পৃথক তিনটি মাদক মামলায় কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকে আট দিন রিমান্ডে আর মরিয়ম আক্তার মৌকে একটি মাদক মামলায় চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছিলো আদালত।এর আগে কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকে গুলশান, ভাটারা ও খিলক্ষেত থানার পৃথক তিনটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ মোট ২৪ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক মামলায় মৌকে আবার ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়েছিল পুলিশ।
গত ১ আগস্ট রবিবার রাতে বারিধারার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে পিয়াসা ও মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে মৌকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর বসুন্ধরা এলাকা থেকে মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসান এবং শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। বৃহস্পতিবার পৃথক পৃথক তিনটি মামলায় মাসুদুলকে সাত দিন এবং শরফুল হাসানকে নয় দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত।
পিয়াসার ঘরের টেবিল থেকে চার প্যাকেট ইয়াবা, রান্নাঘরের ক্যাবিনেট থেকে নয় বোতল বিদেশি মদ, ফ্রিজে একটি আইসক্রিমের বাক্স থেকে সিসা তৈরির কাঁচামাল এবং বেশ কয়েকটি ই-সিগারেট পাওয়া গেছে। এছাড়া পিয়াসার কাছ থেকে চারটি স্মার্টফোন জব্দ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আর মৌয়ের বাসার ভেতরে ড্রয়িং রুমের পাশেই একটি মিনি বার দেখা গেছে। বাসার ভেতরের বেডরুমের একটি ড্রয়ার থেকে পাঁচ প্যাকেট ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এ ছাড়া ওই বেডরুমের ভেতরে আরেকটি ড্রেসিং রুম থেকে অন্তত এক ডজন বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৭ আগস্ট ২০২১ /এমএম





