বাংলানিউজসিএ ডেস্ক ::
জান্নাতা নিঝুম শিল্পী
অনেকদিন আগের কথা
শিমুল গাছটার নিচে একটি পুরনো কুয়া ছিল। কুয়াটির গায়ে সবুজ সবুজ ছাতারা বাসা বেঁধে থাকত। লতাপাতা জড়িয়ে থাকত কুয়ার শরীর ধরে। চারপাশে কনকচাঁপা ফুলে ঘ্রাণ ছড়াত সারাক্ষণ।
ঐ কুয়াতে বাস করত দুই জলপরী।
জলপরী দুজনের মধ্যে একজন ছিল খুব রূপবতী।
রূপের জোয়ার বইত তার শরীরে।
আর একজন ছিল দেখতে খুব কালো।
রূপবতী পরীটির খুব রূপের দেমাগ ছিল।
তার কোনো মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ছিল না। গ্রামবাসীরা কুয়াতে জল আনতে গেলে সব জল ঢেকে রাখত, তার ওড়না দিয়ে। কেউ আর তখন জল নিতে পারত না। একটা মাত্র কুয়ায় এখানকার মানুষের সম্বল। রূপবতী পরী যখন এমন করত তখন তাদের জলহীন মুখ মলিন হয়ে যেত।
এদিকে কালো পরীটি ছিল খুব মায়ামতী আর গুণের সাগর।
মানুষের সঙ্গে তার খুব সখ্য ছিল। রূপবতী পরীটি, তার রূপের মোহে পড়ে কালো পরীর সঙ্গে তেমন মিশত না। মুখ বেঁকিয়ে থাকত সারাক্ষণ।
কালো পরীটি তার দুঃখের কথা মানুষের কাছে বলত অনেক সময়। আমরাও তার দুঃখে কষ্ট পেতাম। জল আনতে গেলে কলস ভর্তি করে দিত সবার। খুব সুন্দর স্বভাবের ছিল কালো পরী।
একদিন হলো কী!
এক দৈত্য আসল জলপরীদের ঘরে, এসে বলল, রূপবতী জলপরী তোমার রূপ আজ থেকে আমি কেড়ে নিলাম। তোমার রূপ নিয়ে খুব বড়াই। কালোপরীর সঙ্গে তুমি খারাপ ব্যবহার করো। মানুষের সঙ্গেও তোমার কোনো মিল পাওয়া যায় না। তুমি ভুলেই গিয়েছিলে তোমাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।
আর এই সময়ের মধ্যে যে ভালো কিছু করতে পারবে সেই, জগৎজুড়ে রাজত্ব করতে পারবে। এটা ছিল তোমাদের জন্য পরীক্ষা।
এই পরীক্ষায় তুমি হেরে গেছো। তাই আজ থেকে তুমি বন্দী থাকবে, আমার কাছে, এই বোতলের মধ্যে। তখন রূপবতী পরীটি কাঁদতে কাঁদতে বলল-
এমন করবেন না দৈত্য মহারাজ। আমাকে ক্ষমা করে দিন। দৈত্য ক্ষমা করল না। বলল, প্রভুর আদেশ আমি অমান্য করতে পারব না। তোমার ব্যবহারে প্রভু ক্ষিপ্ত হয়েছেন। কালো পরীর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে সব রাজত্ব তার হাতে দিয়ে দৈত্য চলে গেল নিজ রাজ্যে।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২৫ জানুয়ারি ২০২০ /এমএম





