বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: ২য় শ্রেণিতে ক্লাস নিতে এসে তারান্নুম টিচার খেয়াল করলো ফার্স্ট বয় রাহাতকে কেউ মানে না। ক্লাসের সব কাজ, যেমন- হোমওয়ার্ক তোলা, ব্ল্যাকবোর্ড পরিষ্কার রাখা টিচারকে বই দেয়া- এ রকম কাজগুলো দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করে রাহাত। পড়াশোনায় ও বেশ ভালো। তবুও ওর বিরুদ্ধে ক্লাসের সবার অভিযোগ।
টিচার রাহাত আজকে আমাকে গালি দিয়েছে, আমিরুল বললো। ওর সাথে সাথে আরো দু’চার জন বলে উঠলো ওর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ।কারো খাতা ছিঁড়ে দেয়া, কারো জামায় কলমের আঁচড় লাগানো, ঝগড়া করা- এ রকম আরো হাজারো বিচার।তারান্নুম ম্যাম দৈনিক পড়াটা আদায় করে নতুন পাঠ দিলো পরবর্তী দিনের। তারপর একে একে সব স্টুডেন্টকে ডেকে জিজ্ঞেস করল তারা রাহাতকে ক্লাস ক্যাপ্টেন হিসাবে চায় কি না। সমস্বরে তারা বলে উঠল- চায় না।
কে কে চায় না হাত উঠাতে বলা হলে একমাত্র রাহাত ছাড়া বাকি সবার হাত উঠল।
বেচারা রাহাত বলে উঠল- আমায় যারা চায় তারা আজ আসেনি ম্যাম।
রাহাতের কথায় ম্যাম মুচকি মুচকি হাসতে লাগল।
আচ্ছা ঠিক আছে তোমরা রাহাতকে আর ক্যাপ্টেন মানছো না। কিন্তু ক্লাস ক্যাপ্টেন তো একজন অবশ্যই দরকার শৃঙ্খলা নিয়মকানুন বজায় রাখার জন্য। খেলার মাঠেও একজন দলনেতা থাকে খেলাকে সূচারুরূপে পরিচালনার জন্য। আমাদের পরিবারেও আছে একজন ক্যাপ্টেন। কে বল তো?
সবাই চিৎকার করে হাত উঁচিয়ে বলে উঠল বাবা।
হমমম ঠিক বলেছো সবাই- বাবাই পরিবারের প্রধান। তেমনি রাহাতকে বাদ দিলে আর একজন ক্যাপ্টেন দরকার আমাদের। কাকে বানানো যায় পরবর্তী ক্লাস ক্যাপ্টেন?
এবারো প্রায় সবাই একসাথে বলে উঠল- জয়নালকে।
জয়নাল ছেলেটা ফার্স্ট বয় না হলেও পড়াশোনায় ভালো এবং ওবিডিয়েন্ট ভীষণ। ক্লাসের সবার পছন্দ জয়নাল। জয়নালকে সবার পছন্দ কেন জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠল- জয়নাল কারো সাথে ঝগড়া করে না। সবাইকে সাহায্য করে, সবার সাথে মিলেমিশে থাকে। সবাইকে বন্ধু ভাবে। তাই আমরা জয়নালকেই ক্যাপ্টেন হিসেবে চাই।
ম্যামও সবার সম্মতিতে জয়নালকে ক্লাস ক্যাপ্টেন ঘোষণা করল। আর রাহাতকে সেকেন্ড ক্যাপ্টেন হিসেবে রাখা হবে যদি সে তার আচরণ ঠিক করে। ঝগড়াঝাঁটি বাদ দিয়ে মিলেমিশে থাকে। ম্যামের সিদ্ধান্তে সবাই খুশি হয়ে হাততালি দিতে লাগল।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ১৯ জানুয়ারি ২০২০ /এমএম





