Menu

আহসান রাজীব বুলবুল, প্রধান সম্পাদক, প্রবাস বাংলা ভয়েস :: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়কে ঘিরে কানাডায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী ক্ষমতার ওপর নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। এ ফলাফলকে কেন্দ্র করে অনেক কানাডীয় নাগরিকের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বিশেষ করে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে ট্রাম্পের অতীতের বক্তব্য এবং কানাডার ওপর বাণিজ্য শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক কানাডীয় নাগরিক ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ও কানাডা-সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করছেন।

মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের নীতির ওপর জনগণের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্য, ইরান যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দর কমেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মার্কিন রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতির অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডলারের সূচক ০.৩ শতাংশ কমে ১০১.৪-এ নেমে আসে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও কমেছে। ৪ নভেম্বর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়।

নির্বাচনের ফলাফলের পর কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবার সকালে কানাডার টরন্টো স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর ফিউচার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে দুই দলের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হলে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। তবে বাণিজ্যনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে আগামী দুই বছর আইন প্রণয়ন, বাজেট এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকায় কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য, শুল্কনীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন নিশ্চিত নয়।

কানাডীয়দের প্রত্যাশা, এই নির্বাচনের ফলাফল দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাত কমে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে—এমন আশাও করছেন অনেকে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০৫ নভেম্বর ২০২৬/এএ


Array

এই বিভাগের আরও সংবাদ