Menu

আহসান রাজীব বুলবুল, প্রধান সম্পাদক, প্রবাস বাংলা ভয়েস :: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যেকার সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। কানাডার উপরে ট্রাম্পের একের পর এক করনীতি চাপিয়ে দেয়াকে কানাডিয়ানরা যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি হিসেবে দেখছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা পাবলিক ফাষ্ট (Public First) এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পলিটিকো পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে কানাডার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক এখন আর যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে দেখছেন না। বরং প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করছেন, বিশ্ব শান্তির জন্য রাশিয়ার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রই বড় হুমকি।

জরিপে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির হাজারো প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপ অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলোর বেশিরভাগ উত্তরদাতা ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করলেও কানাডায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।

৪৮ শতাংশ কানাডিয়ান উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব শান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা রাশিয়াকে বেছে নেওয়া উত্তরদাতার তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। ৪৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্রকে “বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি” হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে টানাপোড়েনপূর্ণ অবস্থান এই দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে বড় কারণ। ন্যাটোর স্থিতিশীলতা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাব এবং বৈশ্বিক শুল্ক কৌশল আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় “ফাটল” দেখা দিচ্ছে। তিনি মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র আর নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়, ৪২ শতাংশ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মোটেও মিত্র নয়, ৫৭ শতাংশ বিশ্বাস করেন, সংকটকালে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা যায় না, ৬৭ শতাংশের মত, যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সমর্থন না দিয়ে বরং চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে, ৫৫ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার মূল্যবোধ ভাগ করে না।

রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সব মতাদর্শেই দেখা গেছে। তবে রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশি ছিল। জরিপে অংশ নেওয়া অনেকেই মনে করেন, ট্রাম্প-পরবর্তী সময়ে কানাডা–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য কানাডিয়ানরা নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ। তাঁরা মনে করেন, একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/এএ


Array

এই বিভাগের আরও সংবাদ