লায়লা নুসরাত, প্রবাস বাংলা ভয়েস :: কানাডায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি পেতে প্রয়োজন চিকিৎসকের অনুমোদন। নতুন প্রজন্মের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ—তবুও কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এখনো চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া এগুলো পাওয়া যায় না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নাকি অকারণ বাধা?
কানাডায় নারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হলো ওরাল কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল। অথচ এগুলো শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমেই পাওয়া যায়।
অথচ পশ্চিম ইউরোপ, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা বাদ দিলে—বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায়।
এমনকি সৌদি আরব, তুরস্ক বা ইন্দোনেশিয়ার মতো রক্ষণশীল দেশেও এসব বড়ি ফার্মেসিতে সহজলভ্য। আর যুক্তরাষ্ট্রে—যেখানে প্রজনন অধিকার নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে—সেখানে ২০২৩ সাল থেকেই জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যাচ্ছে।
১৯৬০ সাল থেকে অধিকাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি হলো তথাকথিত “কম্বাইন্ড পিল”—যাতে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টিন হরমোন থাকে। এগুলো ডিম্বাশয়কে ডিম্বাণু ছাড়তে বাধা দেয়।
এই বড়িগুলোর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, যেমন—
পেট ফাঁপা,মাথাব্যথা, এবং কিছু ঝুঁকিও রয়েছে—
রক্ত জমাট বাঁধা ও সার্ভিক্যাল ক্যানসারের ঝুঁকি
যদিও এসব ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই অনেক চিকিৎসক নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের পক্ষে মত দেন।
প্রজনন স্বাস্থ্য–অধিকারকর্মীরা বলছেন, প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক রাখার ফলে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কানাডার আগে থেকেই চাপগ্রস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আরেকটি অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করছে।
একদিকে পারিবারিক চিকিৎসকের সংকট, অন্যদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার সময়—এই বাস্তবতায় কেবল একটি নিয়মিত ও নিরাপদ ওষুধের জন্য ডাক্তারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক রাখা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েই প্রশ্ন বাড়ছে।
এরই মধ্যে কিছু প্রদেশে বিনামূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সুবিধা চালুর ফলে আইইউডি,ইমপ্লান্ট ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবু জাতীয় পর্যায়ে প্রেসক্রিপশন ছাড়ের বিষয়ে এখনো কোনো বড় নীতিগত পরিবর্তন আসেনি কানাডায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ঝুঁকি থাকার কারণেই জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি পেতে কানাডায় চিকিৎসকের অনুমোদনের হয়।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /কানাডা/১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/এএ




