প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: তীব্র গরম আবার সবাইকে কষ্ট দিচ্ছে। সবাই সামান্য একটু স্বস্তির খোঁজ করছেন। কোথাও স্বস্তির খোঁজ নেই। গরমে অস্বস্তির বড় একটি অংশজুড়েই রয়েছে সঠিক পোশাক না বাছাই না করতে জানা। গরমে পোশাক আরামদায়ক হলে স্বস্তির মাত্রাও বেশি হবে। তাই গরমে ঢিলেঢালা পোশাক পরার প্রতিই সবার আগ্রহ একটু বেশি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ফ্যাশনের কোনোরকম ক্ষতি করা ছাড়াই আপনি ঢিলেঢালা পোশাক বাছাই করে নিতে পারেন। মূলত একটি স্টেটমেন্ট রাখা। ফ্যাশন স্টেটমেন্টের ক্ষেত্রে বিষয়টি জরুরি।
সাম্প্রতিককালে ঢিলেঢালা পোশাকের প্রতি সবার আকর্ষণ বেড়েছে। পরতে আরামদায়ক, আবার ভার্সাটাইল হওয়ায় সবাই ঢিলেঢালা পোশাকই পরে থাকেন। গরমে ঢিলেঢালা পোশাক পরলে আপনার শরীরে ঘাম জমে থাকার সুযোগ হয় কম। তাছাড়া আপনার যে অস্বস্তি তাও হয় না। ঢিলেঢালা পোশাক পরার অনেকগুলো সুবিধা আছে।
আরামটাই প্রধান
গরমের সময় কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, টপস সব পোশাকই ঢিলেঢালা পরাই শ্রেয়। কারণ এ ধরনের পোশাক শরীরে বাতাস চলাচল করতে সাহায্য করে। গরমে এমনিতেও বাতাস কম। আঁটসাঁটও পোশাক শরীরে বাতাস চলাচলের ন্যুনতম সুযোগও দেয় না। পোশাক বেশি আঁটসাঁট হলে গরমে দম ফেলানো বেশ কষ্টকর হয়ে যায়। নিঃশ্বাসে সমস্যা হয় তীব্রভাবে। টি-শার্ট, ফতুয়া, কুর্তি, সালোয়ার, কামিজ কিংবা শাড়ি যা-ই পরুন না কেন টাইট ফিটিং না পরে একটু ঢিলেঢালা পোশাক পরলে আরাম পাওয়া যায় ও গরম কম অনুভূত হয়। অনেকে বিষয়টি বুঝতে পারছেন। অনেক সময় শরীরের ঘাম জমে আঁটসাঁট পোশাকে শরীরের সঙ্গে লেগে থাকলে অস্বস্তি দ্বিগুণ হয়। অনেকের ঠান্ডাও লেগে যায়।
ঢিলেঢালা পোশাকের ফেব্রিক
পোশাকের কাটিং অনেক জরুরি। কিন্তু একই সঙ্গে পোশাকের ফেব্রিক হতে হবে আরামদায়ক। গরমের সময় শিফন, সুতি, ক্রেপড জর্জেট, সিল্ক, লিনেন, ভালো মানের নেটের তৈরি পোশাকগুলোয় স্বস্তি মেলে। নারীদের জন্য এই পোশাকগুলোই সবচেয়ে ভালো। কিন্তু গরমে এগিয়ে আছে সুতি। এই কাপড়ে নতুন অধ্যায়ে এসেছে ভিসকসের মাধ্যমে। সুতির সঙ্গে ভিসকসের মিশ্রণের ফলে পোশাক হয় নরম ও আরামদায়ক। এছাড়া ফ্লপ কটনও পরতে পারেন। ফ্লপ কটন অনেকটা জর্জেট কাপড়ের মতো। তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। পশ্চিমা পোশাকে অনেক প্যাটার্ন খুব ভালোভাবে ফুটে এই কাপড়ে। আজকাল ফ্যাশন স্টেটমেন্টের জন্য এ পোশাক অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নিতে পারেন শিফনের পোশাক। এই কাপড় পরতেও যেমন আরামের, তেমনি দিনে বা রাতের অনুষ্ঠানে মানিয়ে যায়। কাপড়টি নরম হলেও চকচকে ভাব থাকে। গরম ঢিলেঢালা পোশাক বানাতে হলে এই কয়েকটি ফেব্রিকের দিকেই মনোযোগ রাখা ভালো।
পোশাকের রঙ
গরমের দিনে পোশাকের রং এমন হওয়া উচিত যা রোদের তাপ কম শোষণ করে এবং বাইরের তাপমাত্রা থেকে শরীরকে রক্ষা করে। গাঢ় রং যেমন- কালো, লাল, হলুদ এ ধরনের রঙের পরিবর্তে হালকা রঙের কাপড় গরমের জন্য সবচেয়ে ভালো। রঙ নির্বাচন যদি কিছু সিদ্ধান্তে আসতে না পারেন তাহলে ঢিলেঢালা পোশাকেও কাজ হবে না। হালকা রঙ দেখতে যেমন প্রশান্তি লাগে তেমনি গরম কমাতেও বেশ কার্যকর। সাদা, ধূসর, বাদামি, সবুজ, ফিরোজা এ ধরনের হালকা রঙের পোশাক বেছে নিতে পারেন। হালকা রং গরম আটকে রাখে না দীর্ঘসময়। তাই গরম অনুভব হয় কম। যারা ওয়েস্টার্ন পরেন তাদেরও রঙের বিষয়টি সমানভাবে মাথায় রাখতে হবে। ফুল হাতা পোশাক না পরে স্লিভলেস কিংবা হাফহাতা পোশাক পরলে আরাম পাবেন। রঙের বিষয়টিকে এখন ফ্যাশন হাউজগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাদের সামার কালেকশন একবার দেখতে পারেন।
তাহলে ডিজাইন?
পোশাকে বেশি ভারী কাজ না থাকাই ভালো। এ দিকটাতে খেয়াল রাখতে হবে। হালকা বা ফুলের প্রিন্ট, ছাপা নকশা পোশাকে বেশি স্বস্তি দেয়। কারণ এগুলো কাপড়কে অনেকটাই হালকা রাখে। জ্যামিতিক ডিজাইনের পোশাক কিছু বছর ধরে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যদি কেউ ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ সার্কেল, পিরামিড এ ধরনের ডিজাইন পছন্দ করেন তাহলে অনায়াসে বেছে নিতে পারেন জ্যামিতিক ডিজাইনের পোশাক।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ২৬ মে ২০২৪ /এমএম





