প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: পূজোর মধ্যে ডায়েট! এই বাক্যটি পড়েই আর কারো পুরো লেখাটা পড়বার ইচ্ছে থাকবে না। কারণ সারাবছর কষ্ট করে ডায়েট করলেও পূজোর কয়েকটি দিন কেউ ডায়েট শব্দটিও মাথায় আনতে চায় না। পূজোর প্রতিটা দিন কত আয়োজন মটন, পোলাও, লাবড়া, বেগুনি, আলুর দম ও লুচি, বন্ধুদের সাথে আড্ডায় ফিস কাটলেট, মিষ্টি দই, রসগোল্লা আরো কত কি! এর মধ্যে এতো হিসেব করে খাওয়া যায় নাকি? তবে সুস্থ থাকতে চাইলে কিছুটা বুঝে আপনাকে চলতেই হবে।
পূজোর আগে অধিকাংশ মানুষই অতিরিক্ত কম খেয়ে নিজের ওজন কমানোর চেষ্টা করে, এরপর হঠাৎ করে পূজোর দিন থেকে বেশি খাওয়ার কারণে ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক, বমি কিংবা বমি বমি ভাব ইত্যাদি পাকস্থলী জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে মাটি হতে পারে আপনার পূজোর আনন্দ৷ তাই কিভাবে পূজোর মধ্যে কিছু নিয়ম মেনে ফিট ও সুস্থ থাকা যায় তা নিয়ে আমাদের আয়োজন:
প্রথমেই পূজো আসার আগে ওজন কমাতে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পথ অবলম্বন করে ডায়েট করা যাবে না কারণ স্বাভাবিকভাবে পূজোর সময় অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া হবে এবং এতে পাকস্থলীতে চাপ সৃষ্টি হবে৷ এতে শরীরে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে৷ তাই পূজোর আগে ফিট থাকতে চাইলে স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট মেনে চলতে হবে ও অতিরিক্ত কম খাওয়া যাবে না৷ পূজোর দিন সাধারণত সকাল সকাল ঘর থেকে বের হওয়া হয়। তাই ঘর থেকে বের হওয়ার আগে ঘরের স্বাস্থ্যকর নাস্তা খেয়ে বের হতে হবে যেমন ডিম, কলা, সবজি, রুটি কিংবা ওটস। এতে সারাদিন পেটভরা অনুভব হবে ও সারাক্ষণ খাই খাই ভাব থাকবে না। পরিপূর্ণ নাস্তা করে সকালে ঘর থেকে বের হলে সারাদিন অনেক অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা যায়৷ পূজো মানেই তো হরেক রকমের মিষ্টি এ ধারণা থেকে বের হতে হবে। তবে বলছি না একদমই মিষ্টি মুখ করা যাবে না। তবে খেতে হবে হিসাব করে, মিষ্টি জাতীয় কিছু খেতে হলে সকাল বা দুপুরে খেয়ে নেওয়া যেতে পারে৷ এতে সারাদিনের ছোটাছুটিতে তা পুষিয়ে যাবে।
তবে সন্ধ্যার পর মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে খাবারের পাতে লেবু রাখতে, লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি৷ যা আমাদের দেহের। দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে৷ এছাড়া যেকোনো খাবারের সাথে সালাদ খেতে হবে। পোলাও, লুচি, ভাত জাতীয় কার্বোহাইড্রেট কম খেয়ে ফাইবার ও প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে যেমন শাকসবজি, মাছ, মাংস, ডাল ইত্যাদি। খাওয়ার পর এক বাটি টক দই খাওয়া যেতে পারে, টক দই হজম শক্তি বৃদ্ধি করে৷ পূজোর আনন্দে যাতে পানি পান করা কম না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, বাইরে ঘুরতে বের হলে ডাবের পানি খাওয়া যেতে পারে, এছাড়া কোনো ফ্রেশ ফলের জুস। সুস্থভাবে পূজো উপভোগ করার জন্য শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অনেক বেশি জরুরি। কোনো বেলায় বাইরে খাওয়া হলে পরের বেলায় হেলদি কিছু খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পূজোর ব্যস্ততার মধ্যেও দিনের কিছুটা সময় বের করে ব্যায়াম করা উচিত, ব্যায়াম করতে না চাইলে কমপক্ষে ২০ মিনিট হাঁটুন৷ এতে সারাদিনের কিছুটা ক্যালরি শরীর থেকে বের হয়ে যাবে।
শুধু ওজন কমানোর জন্য না পূজোর দিন গুলো সুস্থ থাকার জন্যও স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট মেনে চলা প্রয়োজন। তাই পূজো উপভোগ করার পাশাপাশি নিজের খাদ্যতালিকায় দিকে খেয়াল রাখতে হবে কারণ খাবারের প্রভাব আমাদের শরীরের মধ্যে পরে থাকে৷
প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ১৭ অক্টোবর ২০২৩ /এমএম





