Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা ক্রমশ কমতে থাকে। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বক ও চুল দুই-ই ক্ষতিগস্ত হয়। শীতকালে ত্বক ও চুলে চলে আসে রুক্ষতা। শীতের শুরু থেকেই যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। শীতে শুষ্ক ত্বক ও চুলের সমস্যায় সজীব রাখে প্রাকৃতিক উপাদান গোলাপজল। প্রতিদিনের পরিচর্যায় গোলাপজল ব্যবহারে ত্বককে রাখবে সুস্থ, চুল করবে ঝলমলে।প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের যত্নে ও চুলের যত্নে গোলাপজলের ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা সুন্দরী ক্লিওপেট্রা ব্যবহার করতেন এই গোলাপজল। ইরানেই প্রথম তৈরি হয়েছিল গোলাপজল। এই গোলাপজল আপনার ত্বক এবং চুলের জন্য খুবই উপকারী।

ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা করে

আপনার ত্বক হঠাৎই খুব রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে বা হঠাৎই আবার তৈলাক্ত হয়ে যায়? তাহলেই বুঝবেন আপনার ত্বকে পিএইচ ভারসাম্যের নিশ্চয়ই কোনও না কোনও সমস্যা হচ্ছে। তবে এই নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। আপনি গোলাপ জলকে টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। টোনারের কাজই হল আমাদের ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখা। আর গোলাপ জলও ঠিক সেই কাজই করে। এতে আমাদের ত্বক ভালো থাকে।

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে

ত্বকের তৈলাক্ত ভাব ধরে রাখা এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা, দুই কিন্তু একই জিনিস নয়। বরং, ত্বক ভালো রাখার জন্য আমাদের সব সময় তাকে ময়শ্চারাইজ করা প্রয়োজন। আর এই কাজটি করতে সাহায্য করে গোলাপ জল। এটি আপনার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। আপনি প্রতিদিন সকালে উঠে মুখ ধুয়ে নিন। তারপর গোলাপজল লাগিয়ে নিন মুখে। দেখবেন আপনার ত্বক ভালো আছে। বাইরে বেরোলেও সঙ্গে রাখতে পারেন এই গোলাপজল। খুবই কাজে দেবে।

ত্বকের যে কোনও সংক্রমণ সারিয়ে তোলে

আসলে গোলাপ জলে আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণও। তাই আপনার ত্বকে যদি কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তখন খুবই কাজে আসে এই গোলাপ জল। গোলাপ জলের গুণে আপনার ত্বকের সব সমস্যাই সমাধান হয়ে যায়।

তৈলাক্ত মাথার ত্বকের জন্য

গোলাপ জল আপনার চুলকে তৈলাক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে, অর্থাৎ এটি আপনার মাথার ত্বক থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। হ্যাঁ, গোলাপ জলের পিএইচ মাথার ত্বকের পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে

গোলাপ জল ভিটামিন এ, সি, ডি, ই এবং বি৩ সমৃদ্ধ এবং এগুলি আমাদের চুল, ত্বক এবং শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গোলাপ জল সরাসরি মাথার ত্বকে স্প্রে করা যেতে পারে কারণ এই ভিটামিনগুলি তাত্ক্ষণিকভাবে ত্বক এবং চুলের ফলিকলের গভীরে প্রবেশ করে, তাদের বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে তাদের পুষ্টি দেয় এবং চুলের বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এমন ঘাটতিগুলি পূরণ করে।

খুশকির জন্য

চুল থেকে খুশকি দূর করতেও গোলাপ জল ব্যবহার করা যেতে পারে। খুশকি নিয়ন্ত্রণে গোলাপ জল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

চুলকে মজবুত করে

গোলাপ জলে উপস্থিত ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি প্রতিটি চুলকে মজবুত করে। আসলে, এটি শুধুমাত্র চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে না, বরং চুল পড়া এবং ভেঙে যাওয়া রোধ করে।

গোলাপজলের মাস্ক প্যাক

গোলাপজলযুক্ত মাস্ক আপনার ত্বককে হাইড্রেট এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে। চলুন জেনে নেই গোলাপজল দিয়ে তৈরি কিছু মাস্ক সম্পর্কে।গোলাপজল ও গ্লিসারিন: শীতকালে গোলাপজল ও গ্লিসারিন একটি বড় ভূমিকা রাখে ত্বকের যত্নে। এ দুটি একসঙ্গে মিশিয়ে লাগালে ত্বক সুন্দর থাকে, থাকে মসৃণ। গ্লিসারিন যেকোনো ত্বকে খুব দ্রুততার সঙ্গে যেমন কাজ করে তেমনি ত্বক রাখে মোলায়েম ও প্রাণবন্ত। ত্বকে থাকা নানা সমস্যাও দূর করে। মিশ্রণটি রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করাই ভালো।

নিম এবং গোলাপজল: নিমে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাজা নিম পাতার একটি পেস্ট তৈরি করে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল মিশিয়ে নিন। আপনার মুখে লাগান এবং শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

মুলতানি মাটি, গোলাপজল ও লেবুর রস: মুলতানি মাটি ব্রণ শুকানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করে, গোলাপজল ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে এবং লেবুর রস ব্রণের দাগ থেকে মুক্তি দেয়। মুলতানি মাটির সাথে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল এবং ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক বানিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

গোলাপজল, অ্যাসেনশিয়াল অয়েল ও মধু: এক চামচ গোলাপজল, ২ চামচ মধু এবং ২ চামচ অ্যাসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে একটি প্যাক বানাতে হবে। এই প্যাকটি পুরো মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিবো শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

গোলাপজল ও অ্যালোভেরার রস: অ্যালোভেরার রসের সঙ্গে সমান পরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে মাথার তালু ও চুলে ভালো করে লাগান। এবার এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক চুলের রুক্ষতা দূর করতে সাহায্য করে।

মধু ও গোলাপজল: আধা কাপ গোলাপজলের মধ্যে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এবার পুরো চুলে লাগিয়ে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক চুলে কন্ডিশনারের কাজ করবে।

গোলাপজল ও গ্রিন টি; গ্রিন টির সঙ্গে সমান পরিমাণে গোলাপজল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এবার চুলে শ্যাম্পু করার পর এই প্যাক দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এই প্যাক নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

লবণ ও গোলাপজল: এক টেবিল চামচ লবণের মধ্যে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল মিশিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। ১০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক চুলপড়া রোধ করবে এবং খুশকি দূর করবে।

বাড়িতে যেভাবে গোলাপজল বানাবেন

পর্যাপ্ত পরিমাণে অরগ্যানিক গোলাপ নিন। তার সঙ্গে ডিসটিলড ওয়াটার এবং স্প্রে বোতলও সঙ্গে রাখুন। এবার গোলাপ ফুল থেকে পাপড়িগুলো ছাড়িয়ে নিন। একটি পাত্রে রাখুন। হালকা গরম পানি করে নিন। তা দিয়ে গোলাপের পাপড়িগুলো ধুয়ে নিন। গোলাপের পাপড়িতে যদি কোনও কৃত্রিম রং থাকে, তাহলে তা উঠে যাবে। এবার একটা বড় পাত্র নিন। গোলাপের পাপড়িগুলো একটি পরিষ্কার পাত্রে নিন। পাত্রে বিশুদ্ধ পানি ঢালুন এবং পাত্রটির মুখ ঢেকে হাল্কা আঁচে জ্বাল দিন। খেয়াল রাখতে হবে এই আঁচে কোনোভাবেই যেন গোলাপ সিদ্ধ না হয়ে যায় বা পানি ফুটতে না শুরু করে। ১০-১৫ মিনিট এভাবে রেখে পানি হালকা লালচে হয়ে আসলে নামিয়ে ফেলুন। ছাঁকনি দিয়ে পানি থেকে পাপড়ি আলাদা করুন। এবার এই পানি স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা করে সেটি বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। ব্যাস, হয়ে গেলো আপনার গোলাপজল তৈরি। আর এই গোলাপজল আপনি যে কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবেন ১ সপ্তাহ পর্যন্ত।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ /এমএম


Array