Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা, ঢাকা

জনসংখ্যা

প্রশ্ন : সমাজের উপর অধিক জনসংখ্যার

তিনটি প্রভাব উল্লেখ কর।

উত্তর : সমাজের উপর অধিক জনসংখ্যার তিনটি প্রভাব নিচে দেওয়া হলো-

শিক্ষা : আমাদের সমাজের অগ্রগতিতে শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ এখনো অক্ষরজ্ঞানহীন। এর একটি কারণ হলো দরিদ্র মা-বাবা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারেন না। এমনকি বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অনেক শিশু পরিবারকে কাজে সাহায্য করতে গিয়ে লেখাপড়া শেষ না করে ঝরে পড়ে।

স্বাস্থ্য : আমাদের দেশে প্রতি ৪০৪৩ জনের জন্য একজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসক থাকার কথা। সঠিক চিকিৎসার অভাবে স্বাস্থ্যহীন হয়ে পড়ার কারণে উপার্জন করে জাতীয় অর্থনীতিতে কোনো অবদান রাখতে পারছে না ও তারা সমাজের বোঝায় পরিণত হয়।

পরিবেশ : অধিক জনসংখ্যার সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে পরিবেশের ওপর। মানুষজন বন, গাছপালা কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। অধিক ফসল ফলাতে গিয়ে জমিতে প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে, বায়ু, মাটি, পুকুর ও নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। ভূ-গর্ভের পানি উত্তোলনের কারণে সামগ্রিকভাবে আমাদের পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

সুতরাং, সমাজে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর অধিক সংখ্যার প্রভাব ব্যাপক।

প্রশ্ন : অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আমাদের দেশের জনগণ কীভাবে উপকৃত হতে পারে?

উত্তর : বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। ধান এদেশের প্রধান ফসল। কিন্তু বাংলাদেশের জনসংখ্যা অধিক। তাই কৃষিপ্রধান দেশ হয়েও এদেশে খাদ্য সংকট ছিল। প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার নানাভাবে এই খাদ্য ঘাটতি পূরণে সক্ষম হয়েছে। যেখানে খাদ্য ঘাটতি পূরণের জন্য বাংলাদেশকে প্রতি বছর বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে হতো সেখানে বর্তমান সরকারের সঠিক পদক্ষেপে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। সবার জন্য আমরা খাদ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি।

সরকার নানা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রয়োগ করে নানাভাবে খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছে। ফলে দেশের সব লোকের প্রধান মৌলিক চাহিদা তথা খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়েছে। ফলে দেশের মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর হবে। স্বাস্থ্যহানি ঘটবে না। দেশের কোনো লোক না খেয়ে অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাবে না। ফলে অনেক সামাজিক অপরাধ ও দারিদ্র্য অনেকটাই কমে আসবে। সমাজের, রাষ্ট্রের জনগণ শান্তিতে থাকবে।

সুতরাং, অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আমাদের দেশের জনগণ নানাভাবে উপকৃত হবে।

প্রশ্ন : শ্রমশক্তি রফতানির মাধ্যমে আমরা কীভাবে উপকৃত হতে পারি?

উত্তর : একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হলো দক্ষ জনশক্তি। দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমেই মূলধন ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করা সম্ভব। আমাদের মূলধন কম থাকতে পারে কিন্তু আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ রয়েছে।

বিশাল জনগোষ্ঠী দেশের বোঝাস্বরূপ। বিশাল জনগোষ্ঠী দেশের নানা উন্নয়ন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করে। কিন্তু প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠীকে যদি দক্ষ করে তোলা যায় তাহলে তা বোঝা না হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে।

তুলনামূলক দক্ষ জনসম্পদ রফতানির মাধ্যমে আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার সুযোগ আছে। বিদেশে কর্মরত আছেন আমাদের দেশের নানা পেশার মানুষ। তাদের উপার্জিত অর্থ পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণ করে দেশের অর্থনীতিকে করেছে সমৃদ্ধ।

প্রবাসীদের পরিবার প্রেরিত অর্থ দিয়ে তাদের জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করে ভালো থাকতে পেরেছে।

প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ থেকে প্রাপ্ত রেমিটেন্স জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে। ফলে জনসম্পদ বিদেশে রফতানির মাধ্যমে পরিবার ও জাতি উপকৃত হয়েছে।

দক্ষ জনসম্পদ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ও চাহিদা বাড়ছে। বিদেশের মাটিতে রোজগারের একটি শক্ত ভিত তৈরি করতে পেরেছে।

সুতরাং শ্রমশক্তি রফতানির মাধ্যমে একদিকে প্রতিটি পরিবার অন্যদিকে জাতির উপকার হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা ও চাহিদা বাড়ছে।

প্রশ্ন : কারিগরি প্রশিক্ষণ বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা কীভাবে উপকৃত হতে পারি?

উত্তর : বাংলাদেশ স্বল্প আয়ের স্বল্পোন্নত একটি দেশ। দারিদ্র্যে নিমজ্জিত এদেশের সবার উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মতো আর্থিক সুযোগ নেই। তাই তাদের উন্নয়নের জন্য চাই গতানুগতিক উচ্চশিক্ষা নয় বরং নানা রকম বৃত্তিমূলক শিক্ষা, কারিগরি জ্ঞান, সরকারি সহায়তায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করে এই শ্রমিকদের দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া যাতে তারা নতুন কোনো শিল্পের বিকাশে সহায়তা করতে পারে, যেমন যন্ত্রপাতি শিল্প।

প্রতিটি শ্রেণিতে গতানুগতিক বিষয়ের সঙ্গে একটি করে কারিগরি প্রশিক্ষণ থাকলে আর্থিক দৈন্যতায় শিক্ষা থেকে ঝরে পড়লেও কারিগরি প্রশিক্ষণ থাকার ফলে তার উপার্জনের একটি পথ থাকে।

উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুবসমাজ হতাশাগ্রস্ত না হয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে পারবে তার কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে।

সমাজের কর্মসংস্থান বাড়বে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্র অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে।

আধুনিক প্রযুক্তি সফলভাবে মোকাবিলার জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১২ জুলাই ২০২১ /এমএম

 


Array