Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: অপেক্ষা করা বা দীর্ঘসূত্রিতা কারও জন্যই খুব একটা সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। জ্যামে আটকে থাকা, ধীরগতির গাড়ির পেছনে চলা কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য বসে থাকা যেকোনো মুহূর্তে মেজাজ বিগড়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অধৈর্যতা কেবল সাময়িক বিরতিই তৈরি করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষণ দিয়ে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। বর্তমান দ্রুতগতির জীবনে অপেক্ষাকে মানুষ আর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিতে পারছে না বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানী সারাহ শ্নিটকার। সবকিছু দ্রুত পাওয়ার এই প্রবণতা প্রযুক্তির অতিব্যবহার থেকেই তৈরি হয়েছে।

ধৈর্যের ধরন বোঝা
বেইলর ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী সারাহ শ্নিটকার ধৈর্যকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথমটি হলো দৈনন্দিন ছোটখাটো ঝামেলা সামলানোর ক্ষমতা বা মাইক্রো-পেশেন্স। যেমন ইন্টারনেট কাজ না করা বা বাসার কোনো ছোট সমস্যায় অপেক্ষা করা। দ্বিতীয়টি হলো বড় কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা জীবনের কঠিন বাধা মোকাবেলার ধৈর্য, যাকে তিনি লাইফ-হার্ডশিপস পেশেন্স বলেছেন। আর তৃতীয়টি হলো অন্য মানুষের কারণে তৈরি হওয়া বিলম্ব সহ্য করার ক্ষমতা বা ইন্টারপারসোনাল পেশেন্স। ধীরগতির চালক কিংবা জুতো পরতে দেরি করা শিশুর মতো পরিস্থিতি এর মধ্যে পড়ে।

বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা তৈরি করা
প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ করলেও কাজের চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউসিএলএর অধ্যাপক ক্যাসি মোগিলনার হোমস জানান, মানুষ প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে কম কাজ করার বদলে আরও বেশি কাজ করতে শুরু করেছে। এর ফলে অনেকের মধ্যেই সব সময় সময় কম থাকার তাড়া কাজ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সফলতার ছবি দেখে নিজের জীবনকে ধীর গতির মনে হতে পারে। তাই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নির্দিষ্ট বিরতি নেওয়া এবং অন্যের সঙ্গে তুলনা করা থেকে বিরত থাকা ধৈর্য বাড়াতে বেশ সাহায্য করে।

দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো
অপেক্ষার মুহূর্তে মনে নানা নেতিবাচক চিন্তা আসতে পারে। এমন সময় পরিস্থিতি অন্য কোনো কোণ থেকে দেখার চেষ্টা করা যেতে পারে। যেমন সামনে ধীরে চলা গাড়িটি দেখে বিরক্ত না হয়ে ভাবা যেতে পারে চালক হয়তো বয়স্ক এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া চাকরির সাক্ষাৎকার বা পরীক্ষার ফল প্রত্যাশার সময় নিজের নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা উচিত। ফলাফল খারাপ হলে তা কীভাবে সামলানো যাবে বা এখন কী করণীয়, সেদিকে মনোযোগ দিলে মানসিক চাপ কমে যায়।

বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়া
মাইন্ডফুলনেস বা সচেতনভাবে বর্তমানকে অনুভব করার অভ্যাস ধৈর্য বাড়াতে দারুণ কাজ করে। মেডিটেশন করা, মনোযোগ দিয়ে হাঁটা কিংবা খাওয়ার সময় তার প্রতি মনোযোগী হওয়া বেশ কার্যকরী। অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক অ্যামি এরম্যানের গবেষণায় দেখা গেছে, মাইন্ডফুলনেস আবেগপ্রবণতা ও অতিরিক্ত চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। সন্তানের জুতো পরার দীর্ঘসূত্রিতাকে বিরক্তির কারণ না ভেবে জীবনের সুন্দর মুহূর্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে।

নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখা
অপেক্ষার সময়ে মনকে অন্য কোনো গভীর মনোযোগের কাজে ব্যস্ত রাখলে অধৈর্যতা কমে যায়। ইউসি রিভারসাইডের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক কেট সুইনি জানান, অনিশ্চিত সময়ে গভীর মনোযোগ বা ফ্লো স্টেটের মাধ্যমে মানুষ উদ্বেগ থেকে দূরে থাকতে পারে।

কখন ধৈর্য ধরবেন, আর কখন নয়
অধৈর্যতা মানেই সব সময় খারাপ কিছু নয়। অনেক সময় এটি কোনো সমস্যার বড় সংকেত হতে পারে, যেখানে কেবল অপেক্ষা না করে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সারাহ শ্নিটকারের মতে, মানুষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই শেখে কখন ধৈর্য ধরতে হবে আর কখন পরিস্থিতি বদলানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। মূলত ছোটখাটো বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে আবেগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই বড় পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার মানসিকতা তৈরি হয়। সূত্র : টাইম

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬/এএ


Array