Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: সকালের ঘুম কাটাতে এক কাপ গরম কফি, কাজের ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় কফি কিংবা বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ। অনেকের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেই যেন জড়িয়ে আছে এই পানীয়। কফি শুধু ঘুম তাড়ানোর পানীয় নয়, অনেকের কাছে এটি দিনের শুরু, ব্যস্ততার মাঝে ছোট্ট বিরতি কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি উপলক্ষ। আজ ২৯ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রে আজকের দিনটি জাতীয় কফি দিবস হিসেবে পালিত হয়। প্রতি বছর এই দিনে কফিকে ঘিরে নানা আয়োজন, প্রচার ও ছাড়ের ব্যবস্থা দেখা যায়। কফি চাষি ও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কথাও সামনে আসে। তবে জাতীয় কফি দিবস আর আন্তর্জাতিক কফি দিবস এক নয়। আন্তর্জাতিক কফি দিবস পালিত হয় ১ অক্টোবর। আন্তর্জাতিক কফি সংস্থা বা আইসিওর সদস্য দেশগুলো ২০১৪ সালের মার্চে ১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কফি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

জাতীয় কফি দিবস কী?
জাতীয় কফি দিবস মূলত যুক্তরাষ্ট্রে পালিত একটি দিবস। ২৯ সেপ্টেম্বর দিনটি কফিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ একটি দিন হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন কফি শপ ও প্রতিষ্ঠান এই দিনে বিশেষ অফার বা নানা আয়োজন করে থাকে। তবে দিনটির গুরুত্ব শুধু কফি পানেই সীমাবদ্ধ নয়। কফির পেছনে থাকা কৃষক, শ্রমিক, উৎপাদক ও সরবরাহ ব্যবস্থার কথাও এই দিনে মনে করিয়ে দেওয়া হয়। কফির একটি কাপ হাতে পৌঁছানোর আগে এর পেছনে অনেক মানুষের শ্রম থাকে।

কফির শুরু কোথায়?
কফির ইতিহাস নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত গল্পের সঙ্গে ইথিওপিয়ার নাম জড়িয়ে আছে। একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি অনুযায়ী, কালদি নামে এক ছাগলপালক লক্ষ্য করেন, একটি নির্দিষ্ট গাছের লাল ফল খাওয়ার পর তার ছাগলগুলো অস্বাভাবিকভাবে চঞ্চল হয়ে উঠছে। সেই ফল থেকেই পরে কফির ব্যবহার শুরু হয় বলে গল্পটি প্রচলিত। তবে এটি ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিত কোনো ঘটনা নয়। কফির প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাম বিশেষভাবে উঠে আসে। সময়ের সঙ্গে কফি মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

কফি কীভাবে জনপ্রিয় হলো?
কফি একসময় শুধু একটি পানীয় ছিল না। বিভিন্ন দেশে কফি খাওয়ার জায়গাগুলো সামাজিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছিল। ১৭ শতকের ইংল্যান্ডে কফি হাউসগুলোতে মানুষ কফি পান করার পাশাপাশি খবর, ব্যবসা, রাজনীতি ও নানা বিষয়ে আলোচনা করত। এসব জায়গাকে কখনো কখনো পেনি ইউনিভার্সিটি বলা হতো। কারণ অল্প অর্থে সেখানে বসে নানা বিষয়ে জ্ঞান ও আলোচনা পাওয়া যেত। এরপর ধীরে ধীরে কফি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে ঘরে, অফিসে, রেস্তোরাঁয় এবং কফি শপে নানা ধরনের কফি পাওয়া যায়।

কফির প্রধান ধরন কী?
বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে পরিচিত কফির দুটি প্রজাতি হলো অ্যারাবিকা ও রোবাস্তা। অ্যারাবিকা কফির স্বাদ সাধারণত তুলনামূলক মসৃণ ও সুগন্ধযুক্ত। অন্যদিকে রোবাস্তা গাছ তুলনামূলকভাবে শক্ত এবং এর কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি হতে পারে। কোন কফির স্বাদ কেমন হবে, তা শুধু প্রজাতির ওপর নির্ভর করে না। কফি কোথায় উৎপাদিত হয়েছে, কীভাবে চাষ করা হয়েছে, কীভাবে বীজ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে এবং কীভাবে ভাজা হয়েছে, এসব বিষয়ও স্বাদে বড় প্রভাব ফেলে।

কফির পেছনে আছেন লাখো মানুষ
আমরা যখন এক কাপ কফি হাতে নিই, তখন হয়তো শুধু পানীয়টির কথাই ভাবি। কিন্তু সেই কাপের পেছনে রয়েছে একটি বড় কৃষি ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা। কফি চাষ থেকে শুরু করে বীজ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, ভাজা, গুঁড়া করা এবং শেষ পর্যন্ত কাপে পৌঁছানো পর্যন্ত অনেক মানুষ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। আন্তর্জাতিক কফি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখো মানুষের জীবিকা কফি খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই আন্তর্জাতিক কফি দিবসেও কফি চাষি ও এই খাতের মানুষের জীবিকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কফি কি শুধু ঘুম তাড়ায়?
কফিতে থাকা ক্যাফেইন আমাদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এ কারণে কফি পান করার পর অনেকের ঘুমভাব কমে এবং কিছু সময়ের জন্য সতর্কতা বাড়তে পারে। তবে কফি সবার শরীরে একইভাবে কাজ করে না। কেউ অল্প কফিতেই অস্বস্তি, বুক ধড়ফড় বা ঘুমের সমস্যা অনুভব করতে পারেন। আবার কেউ তুলনামূলক বেশি পরিমাণেও এসব সমস্যা অনুভব করেন না। কফিতে চিনি, ক্রিম বা বিভিন্ন সিরাপ যোগ করলে পানীয়টির মোট ক্যালরি ও চিনির পরিমাণও বেড়ে যেতে পারে। তাই কফি পান করার ক্ষেত্রে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া এবং মোট ক্যাফেইন গ্রহণের বিষয়টি খেয়াল রাখা ভালো।

দিনে কতটা কফি পান করা উচিত?
কফি পান করার উপযুক্ত পরিমাণ সবার জন্য একই নয়। একজন মানুষের বয়স, স্বাস্থ্য, ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং অন্যান্য পানীয় বা খাবার থেকে নেওয়া ক্যাফেইনের পরিমাণের ওপর বিষয়টি নির্ভর করতে পারে। বিশেষ করে সন্ধ্যা বা রাতে বেশি কফি পান করলে ঘুমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই যারা কফি খাওয়ার পর রাতে ঘুমাতে সমস্যায় পড়েন, তাদের জন্য দিনের পরের ভাগে কফি কমানো উপকারী হতে পারে।

জাতীয় কফি দিবস আর আন্তর্জাতিক কফি দিবসের পার্থক্য
দুটি দিবসের নাম কাছাকাছি হলেও তারিখ ও পরিসর আলাদা। জাতীয় কফি দিবস ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কফি দিবস পালিত হয় ১ অক্টোবর এবং এটি আন্তর্জাতিক কফি সংস্থার উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে কফি খাতের বৈচিত্র্য, গুণমান, কফিপ্রেম এবং কফি চাষিদের জীবিকার বিষয় সামনে আনে। তাই ২৯ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় কফি দিবস এবং ১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কফি দিবস হিসেবে মনে রাখা যায়।

এক কাপ কফির সঙ্গে একটু সচেতনতাও
কফি আমাদের কাছে হয়তো খুব সাধারণ একটি পানীয়। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, কৃষকের শ্রম এবং বিশাল একটি বৈশ্বিক শিল্প। জাতীয় কফি দিবসে তাই শুধু নিজের পছন্দের কফির স্বাদ নেওয়া নয়, সেই কফি কীভাবে আমাদের হাতে পৌঁছায়, তা নিয়েও একটু ভাবা যায়। স্থানীয় কোনো কফি শপে গিয়ে এক কাপ কফি খাওয়া, বাড়িতে পছন্দের কফি তৈরি করা কিংবা কফি চাষিদের জীবন ও এই শিল্প সম্পর্কে জানা দিয়েও দিনটি উদযাপন করা সম্ভব।কফির কাপ ছোট হতে পারে, কিন্তু এর পেছনের গল্প অনেক বড়।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬/এএ


Array