প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ আলবেনিয়ায় পর্যটকের সংখ্যা গত এক দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দেশটির সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি পথ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় ইতিহাসের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ায় এই উত্থান ঘটেছে।
জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আলবেনিয়ায় পর্যটকের আগমন ১ কোটি ১৯ লাখে পৌঁছায়। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আর ২০১৯ সালের তুলনায় বেড়েছে ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বিশ্বের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল আলবেনিয়া। স্বৈরশাসক এনভার হোজার শাসনামলে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশ ছিল অত্যন্ত সীমিত। তার মৃত্যুর পর এবং কমিউনিস্ট শাসনের পতনের পর ধীরে ধীরে পর্যটকদের জন্য দেশটির দরজা খুলতে শুরু করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলবেনিয়ার উপকূলকে অনেকে ‘ইউরোপের মালদ্বীপ’ বলে তুলনা করছেন। বিশেষ করে স্বচ্ছ নীল পানি, সুন্দর সৈকত ও তুলনামূলক কম খরচের কারণে দেশটির আলবেনিয়ান রিভিয়েরা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
দেশটির রাজধানী তিরানা ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। স্কান্দারবেগ স্কয়ার, হাউস অব লিভস ও বাঙ্ক’আর্টের মতো জায়গায় আলবেনিয়ার অতীত, বিশেষ করে কমিউনিস্ট শাসনামলের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়।
শকোদার শহরও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। আলবেনিয়া ও মন্টেনেগ্রোর মধ্যে বিস্তৃত শকোদার হ্রদের পাশে অবস্থিত এ শহরে সাইকেল চালিয়ে ঘোরার পাশাপাশি রোজাফা দুর্গও দেখা যায়।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আলবেনিয়ান আল্পসের ভালবোনা ও থেথের পাহাড়ি পথ অন্যতম আকর্ষণ। ভালবোনা থেকে থেথ পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে সাত থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। পথে পাহাড়, সবুজ উপত্যকা ও বুনো ফুলের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
সমুদ্রসৈকতের জন্য সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় আলবেনিয়ান রিভিয়েরা। ভ্লোরে, ধ্রমি, সারান্দে ও কাসামিলসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় প্রতিবছর বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা। পর্যটন খাতের এই প্রবৃদ্ধির কারণে দেশটিতে নতুন হোটেল ও পর্যটন অবকাঠামোতেও বিনিয়োগ বাড়ছে।
ইউরোপের বিভিন্ন শহর থেকে তিরানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে। এ ছাড়া পাশের উত্তর মেসিডোনিয়া, মন্টেনেগ্রো ও কসোভো থেকেও বাসে আলবেনিয়ায় যাওয়া যায়। সূত্র: ইউরো নিউজ
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬/এএ





