Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: প্রায় দুই মাস পর স্বাভাবিক হওয়ার পর আবারও কমেছে দেশে গ্যাসের সরবরাহ। বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থানান্তরে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহ কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

পেট্রোবাংলার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর ব্যাহত হয়েছে। ফলে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহও কমেছে। বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

অনিবার্য কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দীর্ঘদিন ধরে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল। বুধবারও সরবরাহ ছিল প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ২২০ কোটি ঘনফুটে।

অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪০ কোটি ঘনফুট।

দেশে সরবরাহ করা মোট গ্যাসের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয় কক্সবাজারের মহেশখালীর সমুদ্রে থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে।

এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের এবং অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের। দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।

সূত্র জানায়, এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এলএনজি নিয়ে নতুন জাহাজ এলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা টার্মিনালে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। ফলে বর্তমানে ওই টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও দুটি টার্মিনাল থেকে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

এর আগে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসে এবং দেশে তীব্র গ্যাস–সংকট দেখা দেয়।

গত ১৫ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনালটি আবার পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও আমদানি করা এলএনজি বহনকারী জাহাজ না আসায় তখন সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি। পরে চলতি মাসে এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ায় গ্যাস সরবরাহও বাড়তে শুরু করে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬/এএ


Array