প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: নেই ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশ পারমিশন, ফায়ার অ্যালার্ম কিংবা ইমার্জেন্সি সিঁড়ি। কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ন্যূনতম অগ্নি নির্বাপণ সুরক্ষা বিধি না মানায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে একের পর এক হোটেল-রেস্তোরাঁ। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কলকাতার মিনি বাংলাদেশ খ্যাত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিটে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দুই শতাধিক হোটেল। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশী পর্যটক।
পর্যটক সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স অবস্থান নেয়ার কথা আগেই জানিয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ওইদিন সন্ধ্যা থেকেই অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে অভিযান শুরু করে নিউমার্কেট থানার পুলিশ। খোদ উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজেই অভিযানে অংশ নিয়ে বন্ধ করেন বেশ কয়েকটি হোটেল।
এর মধ্যেই গেল মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারের ঘোষণা দেয় হোটেলগুলোর সুরক্ষাবিধি পর্যালোচনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, দমকল ও সিইএসসি (বিদ্যুৎ বিভাগ) এর সমন্বয়ে ওই তদন্ত কমিটি কলকাতার সাড়ে তিন হাজারের হোটেলের সুরক্ষাবিধি পর্যালোচনা করবে। বৃহত্তর কলকাতার ক্ষেত্রে এই তদন্ত কমিটি এতটা সক্রিয় না হলেও নিউমার্কেট এলাকায় রীতিমতো কড়া অবস্থান নিয়েছে তারা।
গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২২১ হোটেল ও ৯ রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি সুরক্ষাবিধি না মানায় একাধিক হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।
একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে কলকাতার নিউমার্কেটে অবস্থান করা বাংলাদেশী নাগরিকরা। কলকাতায় এই মুহূর্তে অবস্থান করছেন প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশী পর্যটক। যাদের মধ্যে সাত হাজার রয়েছেন নিউমার্কেট এলাকায়। যাদের অনেকে বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়ছেন। কেউ খুঁজছেন নতুন হোটেল, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দালাল ধরে নতুন করে হোটেল পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কিছু হোটেলের ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই এলাকায় বাংলাদেশী পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহন, কেনাকাটা ও বিভিন্ন পরিষেবার ব্যবসা। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে নানা কারণে এই ব্যবসায় ধাক্কা লেগেছিল।
কলকাতার গ্রীন লাইন পরিবহনের শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত থেকে প্রত্যেকটি বাস পরিপূর্ণ হয়ে যাত্রীরা কলকাতায় আসছে। কিন্তু যাত্রীদের থাকার মতো হোটেল এই মুহূর্তে নেই। অনেকেই আশেপাশের এলাকার হোটেল খুঁজে সেদিকে যাচ্ছেন। তবে ভাড়া দ্বিগুণ-তিনগুণের বেশি বেড়ে গেছে। সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছে আমরা এই অবস্থানকে সমর্থন জানাই। তবে হোটেল মালিকরা কিছুটা সময় পেলে ভালো হতো।
নিউমার্কেটে সোমবার সকাল থেকেই পর্যটকদের হোটেলগুলো থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। অনেক পর্যটক এই ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
নিউমার্কেটের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা স্থানীয় রিকশাচালক থেকে পেশাজীবী মানুষেরাও সরকারের এমন অতি সক্রিয় অবস্থানে এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, টুরিস্ট ভিসা শুরু হওয়ার পর পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করার সময় নতুন করে হোটেল বন্ধের ঘটনা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। তবে প্রশাসন বলছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চলবে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেটের ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে ঝরে গেছে ৯টি তাজা প্রাণ। এরমধ্যে সাত জনই বাংলাদেশী নাগরিক, বাকি দুই জন ভারতীয়। নিহতদের মধ্যে ছয় জন পুরুষ, দুই জন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে।
নিহত বাংলাদেশীরা হলেন- আকরাম আলী (৭৪), দেবাশীষ দত্ত (৩৯), আফসানা শিরমিন (২৭), সর্নাশীষ দত্ত (২), বাবু আহমেদ (৩৭), রেবতী সরকার ও এস.এম আলিমুজ্জামান।
অন্যদিকে দুই ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাশওয়ান (১৯), অন্যজন শিলিগুড়ির বাসিন্দা যোগ নারায়ণ আগারওয়াল (৬৮)।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২৫ আগস্ট ২০২৬/এএ





