Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটিকে ইরানের হয়ে কাজ করা একটি গোষ্ঠী হিসেবে আবারও চিহ্নিত করেছে মার্কিন প্রশাসন। বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সিএনএন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় হিজবুল্লাহকে অর্থ পাঠানোর একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দেশে সরিয়ে হিজবুল্লাহকে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লেবানন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইরানের মধ্যে এই অর্থ স্থানান্তর করা হতো।

এ কাজে বাণিজ্যিক বিমানে যাতায়াত করা অর্থ বহনকারীদের ব্যবহার করা হতো। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই নেটওয়ার্ক বাণিজ্যিক বিমানে ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে লেবানন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যে কয়েক শ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ স্থানান্তর করেছে। এর ফলে হিজবুল্লাহ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। হিজবুল্লাহকে নতুনভাবে তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে সংগঠনটির সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে চাইছে যে হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম, বিদেশে নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং বড় ধরনের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ইরানের কুদস ফোর্সের সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে কাজ করে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের বাইরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে কুদস ফোর্সের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো হিজবুল্লাহ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে শুধু লেবাননের একটি প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, হিজবুল্লাহর জন্য অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তরের কাজে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্কে লেবানন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক বিমানে যাতায়াত করা অর্থ বহনকারীদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এক দেশ থেকে অন্য দেশে নেওয়া হতো। মার্কিন সরকারের দাবি, এই পদ্ধতিতে হিজবুল্লাহ প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে অর্থ সংগ্রহ করতে পারত। এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহারের ফলে অর্থের উৎস ও গন্তব্য শনাক্ত করা কঠিন হয়। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সংগঠনটির কাছে বিদেশি মুদ্রা পৌঁছে দেওয়াও সহজ হয় বলে দাবি করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই হিজবুল্লাহ এবং ইরানের কুদস ফোর্সকে বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে। হিজবুল্লাহ লেবাননের একটি রাজনৈতিক দল। দেশটির রাজনীতিতে সংগঠনটির ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহর একটি শক্তিশালী সশস্ত্র শাখাও রয়েছে। তবে নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সামরিক ও আর্থিক কার্যক্রমকে ইরানের কুদস ফোর্সের সঙ্গে আরো সরাসরি যুক্ত করে দেখাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন এই আলোচনাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। এর মধ্যেই হিজবুল্লাহর অর্থায়নের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং সংগঠনটির সঙ্গে ইরানের কুদস ফোর্সের সম্পর্ককে সামনে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২১ আগস্ট ২০২৬/এএ


Array