Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে ডিমের বাজার। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খামারের ডিমের দাম ডজনপ্রতি বেড়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। বিশেষ করে মাছ-মাংসের চড়া দামের কারণে যাদের খাদ্যতালিকায় ডিম নিত্যসঙ্গী, তাদের সংসার খরচও বেড়ে যাচ্ছে।রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ২০ থেকে ২৫ দিন আগেও খামারের ডিমের ডজন বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে। দুই সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। গত সপ্তাহ থেকে আবারও দাম বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে বাজারভেদে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর শান্তিনগর ও মালিবাগ কাঁচাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বড় বাজারগুলোতে বাদামি রঙের ফার্মের ডিমের ডজন ১৬০ টাকা এবং সাদা ডিমের ডজন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পাড়া-মহল্লার ছোট বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা দরে। সে হিসাবে ডজনপ্রতি দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬৫ টাকা। বাজারে সাধারণত বাদামি রঙের ডিমের চাহিদাই বেশি।

খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, আড়ত বা পাইকারি বাজারে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণ নিয়ে আড়তদার, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খামারিদের মধ্যে একে অপরকে দায়ী করার প্রবণতা দেখা গেছে। ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে ঢাকার কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের ভূমিকা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী সমিতির নির্ধারিত দামের প্রভাব সারা দেশের বাজারে পড়ে। তবে এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডিম উৎপাদন হয় এবং প্রতিদিন লাখ লাখ ডিম উৎপাদন ও বেচাকেনা হয়। সেই তুলনায় তেজগাঁও বা কারওয়ান বাজারে যে পরিমাণ ডিম বিক্রি হয়, তা মোট উৎপাদনের তুলনায় খুবই সামান্য।

হঠাৎ ডিমের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। গত শনিবার শান্তিনগর বাজার থেকে ১৬০ টাকা দরে এক ডজন ডিম কেনেন রাজধানীর কাকরাইল এলাকার বাসিন্দা ও চাকরিজীবী শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘দুদিন আগেও এক ডজন ডিম ১৪০ টাকা দিয়ে কিনেছি। আজ একই ডিম কিনতে হচ্ছে ১৬০ টাকায়। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে গেছে।’ বাজার মনিটরিং নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যাদের বাজার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা বিষয়টি যথাযথভাবে পালন করতে পারছেন না। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শান্তিনগর বাজারের ডিম ব্যবসায়ী জোবের আলী বলেন, ডিমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। পাশাপাশি কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে ডিমের সরবরাহে সমস্যা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাবেই খুচরা বাজারে ডিমের দাম বেড়েছে। ডিমের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও গবেষণাগার বিভাগের পরিচালক আতিয়া সুলতানা বলেন, বর্তমানে বাজারে ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে ডিমের দাম বাড়ার একটি প্রভাব পড়েছে। তবে কেউ কৃত্রিমভাবে ডিমের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট স্থানেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান সারা বছরই পরিচালিত হয় এবং বাজার তদারকির এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ ও বিক্রেতাদের দাবির মধ্যে ডিমের দাম বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বৃষ্টি ও সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কেউ কৃত্রিমভাবে বাজার অস্থির করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কার্যকর বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১০ আগস্ট ২০২৬/এএ


Array