Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাহরাইনে অবস্তিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৭৮ জন বাংলাদেশি প্রবাসী মারা গেছেন। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে মারা গেছেন আরও ৩৮ জন। এদের অধিকাংশের মৃত্যুর কারণ ছিল হৃদরোগ ও স্ট্রোক।

বর্তমানে বাহরাইনে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন। নির্মাণশ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে তারা সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কঠোর শ্রম, অনিয়মিত জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবের কারণে অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দূতাবাসের তথ্যমতে, গেল বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মারা যাওয়া ৭৮ জনের মধ্যে অধিকাংশই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনায়ও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, অধিকাংশ শ্রমিক দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে কাজ করেন। বিশেষ করে নির্মাণ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর। এক কক্ষে গাদাগাদি করে থাকা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের অভাব, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়া এবং অসুস্থ হলেও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, ঋণের চাপ, পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ বা আয় না পাওয়ায় অনেক প্রবাসী দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে তাদের হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রইস হাসান সরোয়ার বলেন, প্রবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দূতাবাস বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে ডা. ফারসিয়া হাসান বলেন, বিরূপ পরিবেশে বসবাস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত কর্মচাপ ও মানসিক উদ্বেগের কারণে প্রবাসীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর হার কমাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২০ মে ২০২৬/এএ


Array