আহসান রাজীব বুলবুল, প্রধান সম্পাদক, প্রবাস বাংলা ভয়েস :: কানাডার সাবেক মন্ত্রিসভার সদস্য বিল ব্লেয়ার হাউস অব কমন্সের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, বিল ব্লেয়ারকে যুক্তরাজ্যে কানাডার নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একই ঘোষণায় জানানো হয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা উপদেষ্টা নাথালি দ্রুইন-কে ফ্রান্স ও মোনাকোতে কানাডার রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিল ব্লেয়ার দায়িত্ব নিচ্ছেন সাবেক হাইকমিশনার রালফ গুডেল-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে। রালফ গুডেল ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে কানাডার হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গত বছরের মে মাস পর্যন্ত বিল ব্লেয়ার ছিলেন কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। এর আগে তিনি জরুরি প্রস্তুতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সংগঠিত অপরাধ দমনসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। একসময় তিনি টরন্টো পুলিশ সার্ভিস-এর প্রধান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি বৃহত্তর টরন্টো এলাকার স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
চলতি বছরে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় বেঞ্চে এটি দ্বিতীয় শূন্যতা। এর আগে জানুয়ারিতে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ইউক্রেন সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এই দুটি শূন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২০১৫ সালে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বিল ব্লেয়ার জননিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন তালিকায় বিল ব্লেয়ার ছাড়াও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাথালি ড্রুইন-কে ফ্রান্সে কানাডার পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
লিবারেল পার্টির জ্যেষ্ঠ এই নেতার বিদায় টরন্টোর রাজনীতিতে, বিশেষ করে স্কারবোরো এলাকায় প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁর শুন্যতায় কানাডার রাজনীতিতে বিরাট প্রভাব ফেলবে কেননা তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ।
বিল ব্লেয়ার এক ফেসবুক পোষ্টে জানান, স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের জনগণের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের এক অসাধারণ সম্মান আজ আমি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি, কারণ আমি যুক্তরাজ্য অব গ্রেট ব্রিটেন ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে কানাডার হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছি। আমার প্রতি আস্থা ও সমর্থন রাখার জন্য আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। গত এক দশক ধরে সংসদে আপনাদের কণ্ঠস্বর হতে পারা আমার জন্য গর্বের বিষয় ছিল। সব কানাডিয়ানের জন্য নিরাপদ কমিউনিটি গড়ে তোলা, আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করতে পারা ছিল সত্যিই সম্মানের।
তিনি আরো বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী কার্নি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো, আমার সহকর্মী সংসদ সদস্যরা এবং সংসদের আড়ালে থেকে নিরলসভাবে কাজ করা সকলের প্রতিও কৃতজ্ঞ। তাঁদের জনসেবার অঙ্গীকারের কারণে আমাদের দেশ আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই অধ্যায়ের জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ, এবং নতুন এই দায়িত্বে থেকেও কানাডা ও কানাডার জনগণের সেবা অব্যাহত রাখার অপেক্ষায় আছি।
উল্লেখ্য তাঁর এই শুন্যতায় টরোন্টো প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে ও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় প্রচুর সংখ্যক প্রবাসীরা ভোটার থাকায় পবাসী বাংলাদেশীদের সাথে তাঁর নিবিড় সখ্যতা ছিল।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /কানাডা/৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/এএ





