আহসান রাজীব বুলবুল, প্রধান সম্পাদক, প্রবাস বাংলা ভয়েস :: কানাডার স্থানীয় সময় শুক্রবার কানাডার প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির জাতীয় কনভেনশন।
কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পলিভিয়েরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে যাচ্ছে দলীয় নেতৃত্ব পর্যালোচনা ভোটে। ক্যালগারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় কনভেনশনে ডেলিগেটদের ভোটে নির্ধারিত হবে—তিনি নেতৃত্বে থাকবেন নাকি দল নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পথে যাবে।
দলীয় সূত্র জানায়, এই ভোটে টিকে থাকতে ডেলিগেটদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন পলিভিয়েরের। তবে কেবল ৫০ শতাংশের সামান্য বেশি ভোট পেলেও তা হবে তার জন্য রাজনৈতিকভাবে ‘বিপর্যয়কর’। সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারের মতো অন্তত ৮০ শতাংশের কাছাকাছি সমর্থন পেলেই সমালোচকদের চুপ করানো সম্ভব বলে মনে করছেন দলের একাংশ।
ভোটের আগে পলিভিয়ের ফোনে ও সরাসরি বিভিন্ন রাইডিংয়ে গিয়ে ডেলিগেটদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এক জ্যেষ্ঠ কনজারভেটিভ নেতা বলেন, “তিনি কিছুই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন না।”
ক্যালগারি পলিভিয়েরের নিজ শহর হওয়ায় স্থান নির্বাচনও তার পক্ষে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে অন্টারিও প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভদের কনভেনশন একই সময়ে হওয়ায় কেন্দ্রীয় অন্টারিও থেকে ডেলিগেট উপস্থিতি কম হতে পারে—যা তার জন্য সুবিধাজনক।
কুইবেক থেকে সম্ভাব্য ডেলিগেট উপস্থিতিও তুলনামূলক কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে পলিভিয়েরের জনপ্রিয়তা দুর্বল। দলীয় হিসাব অনুযায়ী, কুইবেক থেকে সর্বোচ্চ ৯৩৬ জন ডেলিগেট আসতে পারলেও বাস্তবে উপস্থিতি তার অনেক কম হতে পারে।
গত নির্বাচনে কনজারভেটিভরা উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়। নিজ আসন হারিয়ে পরে নিরাপদ একটি রাইডিং থেকে সংসদে ফিরতে হয় পলিভিয়েরকে। এরপর একাধিক এমপি দল ছাড়ায় নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে লিবারেলদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এক জরিপে লিবারেলদের সমর্থন ৪৭ শতাংশ, কনজারভেটিভদের ৩৮ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে পলিভিয়েরের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
তবে দলের ভেতরে বড় কোনো প্রকাশ্য বিরোধিতা না থাকায় পলিভিয়ের এখনো দলের মূল সমর্থকদের ওপর ভরসা রাখছেন। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, অপরাধ ও অভিবাসন ইস্যুতে তিনি এখনো সাধারণ মানুষের কাছে শক্ত বার্তাবাহক।
এই গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন পরিচালনায় আবারও সামনে এসেছেন তার সাবেক ক্যাম্পেইন ম্যানেজার জেনি বার্ন—যার ভূমিকা নিয়ে দলের ভেতরে বিতর্ক থাকলেও তিনি এখনো পলিভিয়েরের আস্থাভাজন।
শুক্রবারের ভোটই বলে দেবে—কনজারভেটিভ পার্টি পলিভিয়েরের নেতৃত্বে এগোবে, নাকি নতুন নেতৃত্বের খোঁজে নামবে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /কানাডা/৩১ জানুয়ারি ২০২৬/এএ





