Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌  নিউইয়র্ক রাজ্যের ডেমোক্রেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন পাঁচ বাংলাদেশি আমেরিকান যথাক্রমে জামিলা উদ্দিন, জেমি কাজী, মোহাম্মদ সাবুল উদ্দিন, মাহতাব খান ও নুসরাত আলম। আরেক বাংলাদেশি আমেরিকান প্রার্থী মাজেদা উদ্দিন ভালো ফল করলেও তার ভাগ্য ঝুলে আছে। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমান ভোট পেয়েছেন তিনি। এই পদে কে জয়ী হবেন তা নির্ভর করছে অ্যাবসেন্টি ব্যালট গণনার ওপর।

অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪ থেকে ডেমোক্রেট স্টেট কমিটির লিডার পদে বাংলাদেশি জামিলা উদ্দিন ২ হাজার ৩৩১ ভোট পেয়ে প্রাথমিকভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সামিয়া ভাট পেয়েছেন ১ হাজার ৫০৩ ভোট। ডিস্ট্রিক্ট ২৪ থেকে জুডিশিয়াল ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রাথমিকভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান জেমি কাজী (১ হাজার ৭৩৩ ভোট), মোহাম্মদ সাবুল উদ্দিন (১ হাজার ৬৭৮), মাহতাব খান (১ হাজার ৬১৮ ভোট) ও নুসরাত আলম (১ হাজার৫০৩ ভোট)। এখানে উল্লেখ্য, জামিলা উদ্দিন মূলধারার দক্ষিণ এশিয় শ্রমিক সংগঠন অ্যাসাল প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ উদ্দিন ও ডিস্ট্রিক্ট লিডার প্রার্থী মাজেদা উদ্দিনের কন্যা।

অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪বি থেকে ডিস্ট্রিক্ট লিডার (নারী) প্রার্থী মাজেদা উদ্দিন পেয়েছেন ৫৯০ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাবনিত কৌরও পেয়েছেন সমানসংখ্যক ৫৯০ ভোট। এই পদে শতকরা ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটবাসীর পাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিরাক্ষতিগ্রস্ত সিলেটবাসীর পাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিরা
স্থায়ী ২৮ জুন মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গভর্নর, লেফটেন্যান্ট গভর্নর, অ্যাসেম্বলি মেম্বার, ডিস্ট্রিক্ট লিডার ও জুডিশিয়াল ডেলিগেটসহ ১৫টি পদে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান ডেমোক্রেট ভোটাররা। অন্যদিকে শুধুমাত্র গভর্নর, ডিস্ট্রিক্ট ৬৩ থেকে অ্যাসেম্বলি মেম্বার এবং ৭১টি কাউন্টি কমিটি পদে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান রিপাবলিকান ভোটাররা।

ডেমোক্রেট গভর্নর পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হোকুল। লেফটেন্যান্ট গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্তেনিও ডেলগাডো। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী লি জিলদিনকে মোকাবিলা করতে হবে ক্যাথি হোকুলকে। নিউইয়র্ক ডেমোক্রেট স্টেট হওয়ায় আগামী নির্বাচনে ক্যাথি হোকুল বিজয়ী হবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন নিউইয়র্ক স্টেটের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী গভর্নর।

নিউইয়র্ক রাজ্যের এই নির্বাচনে অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪ বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা। ফলে এই আসনের বিভিন্ন পদে একাধিক বাংলাদেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এখানে প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটার রয়েছেন। তাদের অর্ধেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে গেলে বাংলাদেশি প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল ছিল। কিন্তু বাংলাদেশিদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা রয়েই গেছে। এর ফলে বিজয়ের সম্ভাবনা থাকার পরও ভালো ফল করতে পারেননি তারা।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের আমেজপদ্মা সেতুর উদ্বোধন: যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের আমেজ
ডিস্ট্রিক্ট ২৪ থেকে অ্যাসেম্বলিম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান মিজানুর রহমান চৌধুরী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বর্তমান অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন ও অ্যালবার্ট ব্যালডেও। নির্বাচনে মোট ৯৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ ভোটের ফলাফলে শতকরা ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ডেভিড ওয়েপ্রিন। অর্থাৎ তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ২৩৩ ভোট। বাংলাদেশি-আমেরিকান মিজানুর রহমান চৌধুরী পেয়েছেন ৮১৭ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা অ্যালবার্ট বালডেও পেয়েছেন ৭৬৪ ভোট।

অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এ থেকে ডিস্ট্রিক্ট লিডার (পুরুষ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ বাংলাদেশি আমেরিকান ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান ডিস্ট্রিক্ট লিডার ও অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন ২ হাজার ৫৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। শাহ নেওয়াজ পেয়েছেন ৮০৬ ভোট। এই পদে মোট ভোটের ৯৬ দশমিক ৮৮ শতাংশের ফল প্রকাশিত হয়েছে।

ডিস্ট্রিক্ট ২৪ থেকে জুডিশিয়াল ডেলিগেটের ১০টি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন বাংলাদেশি আমেরিকান মাহতাব খান, আহনাফ আলম, নুসরাত আলম, মোহাম্মদ সাবুল উদ্দিন, জেমি কাজী, মোহাম্মদ এম রহমান, আনজাম সিদ্দিকী, রেবী হোসেন, দুরুদ মিয়া (রনেল), সাইফুর আর. খান (হারুন), মোহাম্মদ আকতার (বাবুল) ও রাশেদুল আলম। এই পদে ২১ জন প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০জন নির্বাচিত হবেন। কিন্তু জেমি কাজী, মোহাম্মদ সাবুল উদ্দিন, মাহতাব খান ও নুসরাত আলম ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশি জয়ের দেখা পাননি।

লন্ডনে শশী থারুরের সহায়তায় এগিয়ে এলেন বাংলাদেশি দম্পতিলন্ডনে শশী থারুরের সহায়তায় এগিয়ে এলেন বাংলাদেশি দম্পতি ডিস্ট্রিক্ট ২৯ থেকে স্টেট কমিটির নেতা প্রার্থী হয়েছিলেন বাংলাদেশি আমেরিকান কাজী খালেদ এমরান। নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যারন অ্যামব্রোসের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এমরান পেয়েছেন ১৪৩৭ ভোট। অ্যামব্রোস পেয়েছেন ৪৬৬৮ ভোট, যা মোট ৯৯ শতাংশ ভোটের ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। সেইসঙ্গে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনেও এগিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। এর আগে বিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শাহানা হানিফ। কুইন্স কাউন্টি জজ পদে বিজয়ী হয়েছে সোমা সাঈদ। অন্যদিনে কংগ্রেসের মেজরিটি লিডার সিনেটর চাক শুমারের সুপারিশে ফেডারেল জজ মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নুসরাত জাহান চৌধুরী। এই নিয়োগের মাধ্যমে তিনিই যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম নারী ফেডারেল জজ হলেন।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০১ জুলাই ২০২২ /এমএম


এই বিভাগের আরও সংবাদ