Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌  মালয়েশিয়ায় কর্মী হিসেবে গমনেচ্ছুদের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা কর্মসংস্থান অফিস কিংবা অনলাইনে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমে এই নিবন্ধন করা যাবে।রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিএমইটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু কর্মীদের বিএমইটি’র ডাটাবেজে নিবন্ধন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন অনুযায়ী, বিএমইটি ডাটাবেজে নিবন্ধিত কর্মীর তালিকা থেকে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৈবচয়নের ভিত্তিতে কর্মী নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। সেই অনুযায়ী, মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের বিএমইটি ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনুরোধ করা যাচ্ছে।

নিবন্ধনের পদ্ধতি প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএমইটি’র আওতাধীন সব জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (ডিইএমও) অথবা নির্ধারিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিবন্ধন করা যাবে। প্রতিটি সফল নিবন্ধনের জন্য ২০০ টাকা সরকারি ফি (অফেরৎযোগ্য) পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিকটস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (ডিইএমও) বা টিটিসি’র সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ডাটাবেজে নিবন্ধনের জন্য ঐচ্ছিক ও অতিরিক্ত চ্যানেল হিসেবে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপ ব্যবহার করে নিবন্ধন করা যাবে। এক্ষেত্রে সফল নিবন্ধনের জন্য সরকারি নিবন্ধন ফি ২০০ টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের সার্ভিস চার্জ করসহ ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

বিএমইটি জানায়, শর্ত হিসেবে কর্মীর বয়স ১৮-৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। নিবন্ধন নম্বর ও এর কার্যকরিতা নিবন্ধনের তারিখ থেকে ২ বছর বহাল থাকবে। ইতোমধ্যে যারা বিদেশ গমনের জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাদের নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। তবে নিবন্ধনকালে কাঙ্ক্ষিত দেশ ও পেশা নির্বাচন করা না থাকলে আপডেট করা যাবে।কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি), অথবা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত দক্ষতা সনদ আপলোড করলে দক্ষ কর্মীরা বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য অগ্রাধিকার পাবেন।

আবেদন করতে যেসব কাগজপত্র লাগবে: পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, নিজের মোবাইল নম্বর, ইমেইল (যদি থাকে), দক্ষতা সনদ (যদি থাকে)। সংকটের কারণে বহু বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্ডার বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে মালয়েশিয়ার বহু কোম্পানি।বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মালয়েশিয়ার আয়ের এক-চতুর্থাংশ আসে শিল্প খাতের উৎপাদন থেকে। কিন্তু বর্তমানে শ্রমিক সংকটের কারণে এসব শিল্প কারখানার উৎপাদন থমকে আছে। কারখানার মালিকরা শঙ্কায় আছেন, এভাবে ক্রেতা ফেরাতে হলে ভবিষ্যতে তারা হয়ত মালয়েশিয়ায় ফিরবেন না।

সাড়ে তিন হাজারের বেশি কোম্পানির প্রতিনিধিত্বকারী ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্সের সভাপতি সোহ থিয়ান লাই বলেন, ‘‘গত কিছুদিনে আশা জাগানোর মত অনেক বিষয় আছে, আমাদের বিক্রিও বাড়ছে। কিন্তু আমাদের অনেক কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে।’’

বিশেষ করে পাম তেল কোম্পানিগুলো খাদ্যের কিনারে পৌঁছে গেছে বলে জানান ইউনাইটেড প্ল্যান্টেশনের প্রধান নির্বাহী পরিচালক কার্ল বেক-নিলসন।তিনি বলেন, ‘‘পরিস্থিতি খুব খারাপ। বিষয়টা অনেকটা এরকম, আপনাকে ১১ জনের বিরুদ্ধে ফুটবল খেলতে হবে, কিন্তু আপনার দলে মাঠে নামার মত আছে কেবল সাতজন।’’

বর্তমানে মালয়েশিয়ার কারখানাগুলোতে অন্তত ৬ লাখ শ্রমিক দরকার। নির্মাণ শিল্পে সাড়ে ৫ লাখ, পাম তেল শিল্পে এক লাখ ২০ হাজার, চিপ উৎপাদন শিল্পে ১৫ হাজার কর্মী প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী চিপের ঘাটতি থাকার পরও মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলো এগুলোর যোগান দিতে পারছে না। এমনকি মেডিকেল গ্লাভ তৈরির কারখানাগুলোও উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। এ খাতে অন্তত ১২ হাজার শ্রমিক প্রয়োজন।

মালয়েশিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওং সিউ হাই বলছেন, কর্মীর অভাবে তাদের চিপ তৈরির কারখানাগুলোকে ক্রেতা ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। কারণ মালয়েশিয়ার মানুষ এ ধরনের কারখানায় কাজ করতে চায় না। যারা কাজে ঢোকে, তারাও ছয় মাসের মধ্যে চাকরি ছেড়ে দেন।

মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে পাম তেলের অবদান ৫ শতাংশ। কিন্তু শ্রমিকের অভাবের কারণে অনেক ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে চলতি বছর উৎপাদন ৩০ লাখ টন কমে যেতে পারে। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হবে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।এ ছাড়া, শ্রমিক সংকটের আশু সমাধান না হলে রাবার গ্লাভি শিল্প ৭০ কোটি টাকার আয় হারাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১৩ জুন  ২০২২ /এমএম


এই বিভাগের আরও সংবাদ