প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: যদিও বসন্তকাল, তারপরেও চৈত্রের কড়া রোদের তাপে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এক মাসের ব্যবধানে শীতল বাতাসের বদলে শুরু হয়েছে সূর্যের চোখ রাঙানি।এ সময়টাতে ভোরের দিকে তাপমাত্রা কম থাকে এবং দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তুলনামূলক গরম বেশি থাকে। তাপমাত্রার এই তারতম্যের সঙ্গে অনেকেই মানিয়ে নিতে পারেন না। পাশাপাশি সক্রিয় হয়ে উঠে ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া। ফলস্বরূপ শরীরজুড়ে ব্যথা, জ্বর ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়তে থাকে। এতে আতঙ্কিত না হয়ে বরং সতর্ক থাকতে হবে।
ঋতু পরিবর্তনের ফলে যে জ্বর হয়, এটি ‘ফ্লু’ বা ‘ভাইরাল ফ্লু’ হিসেবে পরিচিত
তাপমাত্রার তারতম্যে ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া যে রোগগুলোতে আক্রান্ত করে তার মধ্যে আছে—জ্বর, মাথাব্যথা, সর্দি, কাশি, অরুচি, গা-ব্যথা। শিশুদের ক্ষেত্রে ১০২-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর হতে পারে। বাচ্চাদের জ্বর-ঠাণ্ডা মানেই খাওয়াদাওয়ায় অনীহা ও কান্নাকাটি লেগেই থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের জ্বর এতটা তীব্র না হলেও সর্দি-কাশি থেকে কান বন্ধ এবং সেটা থেকে ব্যথা হতে পারে।
প্রথমত, জ্বর হলে গোসলকে ‘না’ বলবেন না। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন গোসল করার অভ্যাস করুন। গোসলের পর চুল ভালো করে মুছে নেবেন। কোনো শিশুর জ্বর বেশি হলে পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে অর্থাৎ স্পঞ্জিং করতে হবে ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে জ্বর নেমে না আসা পর্যন্ত। আর এর পরেও ২-১ ঘণ্টার ব্যবধানে জ্বর না কমে তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
দ্বিতীয়ত, সর্দি-কাশি এবং গলাব্যথায় কুসুম গরম পানি পান করবেন। ফ্রিজের পানি, আইসক্রিম, ঠাণ্ডা খাবার খাবেন না। যারা ধূমপান করেন তারা পরিহার করুন। খুসখুসে কাশির অন্যতম প্রধান কারণ হলো ধূমপান।শিশুর জ্বর বেশি হলে পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে অর্থাৎ স্পঞ্জিং করতে হবে ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে জ্বর নেমে না আসা পর্যন্ত
তৃতীয়ত, ঋতু পরিবর্তনের সময়টাতে ডায়েটে বেশি করে স্যুপজাতীয় খাবার রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে চিকেন স্যুপ উপকারী। অন্যদিকে শিশুর কাশি হলেই নিউমোনিয়া ভাববেন না। শিশুকে সিগারেট, মশার কয়েল ও রান্নাঘরের ধোঁয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। তবে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে, খিঁচুনি, ঠোঁট নীল বা কালো হয়ে গেলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।
চতুর্থত, ঋতুর পালাবদলে শিশুকে সুস্থ রাখতে শাকসবজি ও ফল খাওয়াবেন। পাশাপাশি ঠিকমতো পানি পান করাবেন। সারাক্ষণ বাসায় বন্দি করে না রেখে খেলাধুলা করতে দেবেন। এমন পোশাক পরাবেন না, যা গরম লাগে। বরং বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক বেছে নিন। এবং নিজে যেমন পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকবেন তেমনই শিশুর শরীরও সবসময় জীবাণুমুক্ত রাখবেন।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ২২ মার্চ ২০২২ /এমএম





