প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিদিনের একটি বড় অংশ আমাদের কর্মক্ষেত্রে কাটাতে হয়। চাকরি বা কাজ শুধু যে আর্থিক নিরাপত্তা দেয় তা কিন্তু নয়, নিজস্ব আত্মপরিচয় এবং আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়।কিন্তু কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীদের ভুল সিদ্বান্ত, পরনিন্দা, পরচর্চা কিংবা অযথা কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা নিচু মানসিকতার পরিচায়ক। কেউ কেউ আবার কোনো একটি ঘটনা শুনলেই তা পাঁচ কান করেন। কাজের ফাঁকে রসিকতা ভালো কিন্তু অফিসে প্রেম এবং কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে রসাল আলোচনা অত্যন্ত অসভ্যতা, পারিবারিক ও সঠিক একাডেমিক শিক্ষার অভাব—এটা অনেকেই বুঝেন না।
যদি দেখেন আপনাকে যে কাজের জন্য নেওয়া হয়েছে, তার বদলে অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, তবে বুঝবেন যে আপনার কাজের জায়গাটি মোটেও সংগঠিত নয় কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের অহেতুক হিংসার কারণে দলগত ষড়যন্ত্রে চাপ অনেক সময়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে যে তা অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। বিশেষত যদি কাজের পরিবেশটিই হয় অস্বাস্থ্যকর, তা হলে তো কথাই নেই। ভুলে গেলে চলবে না কর্মক্ষেত্র শুধুই কাজের জায়গা নয়, এটি ঘরের বাইরে আরেকটি আবাস। সহকর্মী, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের প্রধান—সবকিছুর ওপর নির্ভর করে কর্মক্ষেত্রে শান্তি। কী করে বুঝবেন কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ নয়, জেনে নিন।
যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই প্রথম দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নবাগত সহকর্মীকে সাদরে গ্রহণ না করে, উল্টো তাকে নিয়ে অযথা কানাঘুষা করা, কাজ বুঝিয়ে না দেওয়া, অন্য সহকর্মীদের দূরে দূরে থাকা—মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।
অতিরিক্ত পরনিন্দা পরচর্চা, লিঙ্গ বৈষম্য, নির্দিষ্ট কোনো সহকর্মীকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশা বা হেনস্থা করা—অস্বাস্থ্যকর কর্মক্ষেত্রের পরিচয় বহন করে অফিসের ফেসবুক গ্রুপে এবং চায়ের আড্ডায় কী ধরনের আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে দিয়েও অনেকটাই বোঝা যায় কর্মক্ষেত্রের সামগ্রিক চরিত্র। অতিরিক্ত পরনিন্দা, পরচর্চা, কিংবা লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে ঠাট্টা তামাশা হচ্ছে কিনা, কোনো সহকর্মীকে নিয়মিত হেনস্থা করা হয় কিনা, এ ধরনের অভ্যাসও অস্বাস্থ্যকর করে তোলে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ।
যদি দেখেন আপনাকে যে কাজের জন্য নেওয়া হয়েছে, তার বদলে অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, তবে বুঝবেন যে আপনার কাজের জায়গাটি মোটেও সংগঠিত নয়। বিশেষ প্রয়োজনে অন্য কাজ করা যেতে পারে কিন্তু সবসময় করলে বুঝে নেবেন কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ অনুকূলে নয়।
কর্মক্ষেত্রে লঘু পাপে গুরুদণ্ড দেওয়া ভালো সংস্কৃতি নয় পদমর্যাদা যা-ই হোক না কেন, সবার সম্মান প্রাপ্য। কর্মক্ষেত্রে ভুল-ভ্রান্তি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ভুল হলে তা সংশোধনের উপায় কখনোই দুর্ব্যবহার হতে পারে না। অনেক সময়ে দুর্ব্যবহার সামনাসামনি বোঝা যায় না। কেউ যদি অধঃস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন দুর্ব্যবহার করেন, তবে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে কর্মক্ষেত্রটি স্বাস্থ্যকর নয়।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, সহকর্মীদের সততার অভাবকে আমরা লঘু চোখে দেখি। মনে রাখবেন যে কোনো পেশাই ন্যূনতম কিছু পেশাগত দায়িত্ব দাবি করে। কর্মচারীরা যদি সেই পেশার প্রতি সৎ না হোন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি কখনোই ভালো হওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে, এটিও সত্যি যে লঘু পাপে গুরুদণ্ড দেওয়াও ভালো সংস্কৃতি নয়। কোনো কর্মচারীকে যদি প্রতিনিয়ত চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হয়, তবে সেই কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের সুস্থ নয় বলেই ধরে নিতে হবে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০২ মার্চ ২০২২ /এমএম





