প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে জানা অজানা বিচিত্র সব সৃষ্টি। প্রতিটি সৃষ্টি ঘিরেই গড়ে ওঠে বাস্তুসংস্থান। নানা রঙের, আকারের, স্থলজ কিংবা জলজ সব সৃষ্টি আমাদের চোখে হয়তো ধরা দেয়না। তেমনি প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি মাডস্কিপার বা ডাহুক মাছ।
মাডস্কিপার বা ডাহুককে ভিন্ন প্রজাতিতে ভিন্ন নামে ডাকা হয়। কোনোটা আটলান্টিক ডাহুক আবার কোনোটা সাদা ফোঁটা ডাহুক। ডাহুক বা মাডস্কিপার মূলত উভচর প্রাণী। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Periophthalmus barbarus। এরা মূলত স্বাদু পানির মাছ। এদের প্রধান আবাসস্থল জোয়ার-ভাটা সমৃদ্ধ স্থান। বাংলাদেশের নাফনদী, মহেশখালী এবং সুন্দরবন অঞ্চলে এদের প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়।
মাডস্কিপাররা তাদের বক্ষদেশে থাকা পাখনার সাহায্যে মাটিতেও দৌড়ানোর মতো করে চলতে পারে। জোয়ারের সময় এরা পানির নিচে এবং ভাটার সময়ে পানি ছাড়া কাদামাটিতেও চলতে পারে। বাংলাদেশ ছাড়াও ক্রান্তীয় এবং মেরু অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকা, ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চল এবং আফ্রিকা মহাদেশ সংলগ্ন আটলান্টিকের তীর, ভারত এবং ফিলিপাইনে এদের দেখা মিলবে।ডাহুক মাছ যখন বক্ষদেশের পাখনায় ভর করে ছুটে চলে মনে হবে যেন রঙিন প্রজাপতি গায়ে মাখা কাদা নিয়ে দৌড়াচ্ছে। এদেরকে একটু পরিষ্কার করে আকাশে উড়িয়ে দিতে মন চাইবে।
সাদা ফোঁটা ডাহুকের মাথা এবং দেহের রঙ নীল এবং উজ্জ্বল বর্ণের ডোরাকাটা। চোখ থেকে বক্ষপাখনার গোড়া পর্যন্ত বাদামি ডোরাকাটা। পৃষ্ঠপাখনা শুরু হয়েছে লাল বর্ণ দিয়ে। পাখনাদণ্ডের মধ্যবর্তী স্থানে দেখা মেলে সাদা ডোরাকাটার। মাডস্কিপারের প্রধান খাবার পানি এবং কাদায় থাকা ছোট কীটপতঙ্গ। খাবার খুঁজতে এরা তীরেও উঠে আসে প্রয়োজনে। বিপদ এলে শক্ত কাদার গর্তে দ্রুত লুকিয়ে পড়ে। বক্ষপাখনা এবং লেজের সাহায্যে এরা বেশ দ্রুত দৌড়াতে পারে।
এই মাছের রয়েছে অর্থনৈতিক গুরুত্ব। বাংলাদেশে এই মাছ অনেকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে আবার অনেকে খায় না। তবে চীন আর কোরিয়ার রেস্টুরেন্টে এই মাছ দিয়ে বানানো হয় মজাদার স্যুপ। জাপানিরাও এই মাছ খেতে পছন্দ করে। তবে এটি মৎস্য সম্পদ হিসেবে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ না হলেও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বাসার একুরিয়ামে সাজানোর জন্য বেশ চাহিদা সম্পন্ন। মাডস্কিপার একুরিয়াম মাছ হিসেবেই বেশি পরিচিত।
মাডস্কিপার তার নারী সঙ্গিদের আকৃষ্ট করতে দুই পাখনার ওপর ভর করে নাচার মতো করে অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। বাংলাদেশে এ ধরনের মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। প্রজাতিটির আরোহণ করার নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। এরা প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। আইইউসিএন বাংলাদেশ-২০০০ অনুযায়ী এখনো হুমকির মুখে পড়েনি মাডস্কিপার। এরা জোয়ার এবং ভাটা উভয় পরিবেশেই বেঁচে থাকতে পারে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ /এমএম





