প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: শীত মানেই উৎসবের হাতছানি। আর উৎসব মানেই বেশি খাওয়াদাওয়া। বছরের এই সময়টাতে অসংখ্য বিয়ের নিমন্ত্রণ, ঘুরে বেড়ানো এবং মিষ্টিজাতীয় পিঠা খাওয়া বেড়ে যায়। একদিকে ঘন ঘন খাওয়া হচ্ছে, তার ওপর বাড়তি খাওয়া শরীরের জন্য তৈরি করছে বিভিন্ন সমস্যা। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, খেতে মানা নেই, তবে সীমা অতিক্রম করা যাবে না। যদি বেশি খেয়েই ফেলেন তাহলে কী করবেন জেনে নিন।
খাওয়ার সময় গল্প করা, টিভি দেখা, বড় প্লেটে খাওয়া ইত্যাদি কারণগুলো অতিরিক্ত খাওয়ার জন্য দায়ী। অতিরিক্ত খাওয়ার পর শারীরিক বিভিন্ন অসুস্থতা লক্ষ্য করা যায়। পেটফাঁপা, পেটে জ্বালাপোড়া, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, পেটে ব্যথা, বারবার পায়খানা হওয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার পর শারীরিক সমস্যা এড়াতে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।অনেকেই আছেন অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার পর অস্বস্তি বোধ করেন
অপরাধবোধে ভুগবেন না
অনেকেই আছেন যারা অতিরিক্ত খাওয়ার পর এক ধরনের অপরাধবোধে ভুগেন। কেউ কেউ আবার অস্বস্তি বোধ করেন। বিশ্রাম নিতে যেমন ভালো লাগে না, হাঁটাচলাতেও অসুবিধা হয়। এক্ষেত্রে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়ে বরং বিশ্রাম করুন। নিজেকে আরাম দিন। এবং নিজেকে বুঝাতে চেষ্টা করুন পরবর্তী সময়ে খাওয়ার বেলায় সচেতন থাকবেন।বেশি খাওয়া হয়ে গেলে খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন
হাঁটার অভ্যাস করুন
বেশি খাওয়া হয়ে গেলে খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন, এতে ভালো বোধ করবেন। কিন্তু যদি বেশি খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়েন তবে সমস্যা আরও বেড়ে যাবে। কারণ অতিরিক্তি খাবার খেলে তা চিনি হিসেবে রক্তে প্রবেশ করে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার পর অবশ্যই একটু হাঁটাহাঁটি করতেই হবে। এতে খাবার দ্রুত হজম হয়।অতিরিক্ত খাওয়ার পর একটু পর পর পানি পান করুন
পানি পান করুন
বেশি খাওয়ার পর পরই পানি পান না করে কিছুটা সময় পর পানি পান করতে হবে। কারণ অতিরিক্ত খাওয়ার পর পেট ভর্তি হয়ে যায়; তাই একটু পর পর পানি পান করলে খাবারের মাধ্যমে শরীরে জমা হওয়া অতিরিক্ত লবণের মাত্রা হ্রাস পাবে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাবেন। এ ছাড়াও শরীর আর্দ্র থাকবে।বেশি খাওয়ার পর কখনো শুয়ে পরবেন না
খাওয়ার পর শুয়ে পড়বেন না
বেশি খাবার খাওয়ার পর কখনো শুয়ে পরবেন না। এর ফলে খাবার হজম হবে না বরং অ্যাসিডিটি বেড়ে যাবে। পেট ফুলে যাবে এবং বুকে ব্যথা ও নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। সম্ভব হলে খাওয়ার পর থালা বাসন ধুয়ে ফেলতে পারেন। এতে কিছুটা পরিশ্রম হবে, যা আপনার শরীরের জন্য উপকারী।অতিরিক্ত খাওয়ার পর কখনো কোমল পানীয় পান করবেন না
কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত খাওয়ার পর কখনো কোমল পানীয় পান করবেন না। এর ফলে গ্যাস্ট্রিক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ এতে চিনি থাকে, তাই না খাওয়াই ভালো। এসবের বদলে ফলের জুস, বোরহানি, টক দই, পুদিনা লাচ্ছি, ডাবের পানি ইত্যাদি খেতে পারেন।খাওয়ার সময় যখনই মনে হবে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেছেন, তখনই খাওয়া বন্ধ করে দেবেন
খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন
খাবার খাওয়ার সময় যখনই মনে হবে আপনি অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেছেন, তখনই খাওয়া বন্ধ করে দেবেন। অনেকেই আছেন, বেশি খাচ্ছেন, সেটা বুঝতেও পারছেন কিন্তু খাওয়া বন্ধ করছেন না। এক্ষেত্রে কেউ কেউ প্লেটের খাবার শেষ করার দিকে গুরুত্ব দেন। এমনটি না করাই ভালো।খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি করে অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা পর শরীরচর্চা করুন
ব্যায়াম করুন
খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি করে অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা পর শরীরচর্চা করুন। এর ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি দ্রুত বার্ন হবে। পাশপাশি শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা থেকেও মুক্তি পাবেন। যদি নিয়মিত শরীরচর্চা করে থাকেন তাহলে নাহয় একটু বাড়িয়ে ব্যায়াম করুন ওই দিনটাতে।কোনো বেলা বেশি খেয়ে ফেললে অন্য বেলা রুটি, সালাদ বা স্যুপ খেয়ে ব্যাল্যান্স করুন
পরবর্তী খাবার ঠিক করুন
অতিরিক্ত খাওয়ার পর আপনার পরবর্তী খাদ্যতালিকায় কী রাখবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। কোনো বেলা বেশি খেয়ে ফেললে অন্য বেলা রুটি, সালাদ বা স্যুপ খেয়ে ব্যাল্যান্স করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে শর্করা জাতীয় খাবার কম খেতে হবে। এবং অবশ্যই লো-ক্যালরির খাবার খেতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে হবে।খাবার দেখেই ঝাঁপিয়ে না পড়ে, আস্তে আস্তে খাওয়া শুরু করুন
খাবারের স্বাদ আস্বাদন করুন
খাবার দেখেই ঝাঁপিয়ে না পড়ে, আস্তে আস্তে খাওয়া শুরু করুন। নিজেকে সংযত করুন এবং পরিমিত আহার করুন। অনেকেই আছেন, যারা খাওয়ার সময় গল্প করেন বা ফোন ও টিভির দিকে তাকিয়ে থাকেন। এর ফলে অতিরিক্ত খাওয়া হয়। অন্যদিকে খাবারের স্বাদ, অনুভূতি এবং রঙের দিকেও মনোযোগ দেওয়া হয়না। অতিরিক্ত খাওয়া এড়াতে মনোযোগ সহকারে খাবার খেতে হবে।প্রথম ১০ মিনিট খুবই ধীরে ধীরে খাবার খেতে হবে
দ্রুত নয়, ধীরে খাবার খান
মুখোরোচক খাবার সামনে পেলে অনেকেই আছেন চিন্তাভাবনা ছাড়াই অতিরিক্ত খেয়ে থাকেন। সাধারণত খাবার শুরু করার অন্তত ২০ মিনিটের মধ্যে মস্তিষ্ক সিগন্যাল দেয় আপনার কতটুকু খেতে হবে। তাই প্রথম ১০ মিনিট খুবই ধীরে ধীরে খাবার খেতে হবে। একবার খাবার মুখে নিয়ে অনন্ত ৯০ বার চাবানো উচিত। ধীরে ধীরে খাবার খেলে কম ক্যালরি গ্রহণ করা হয়। এর ফলে ওজনও কম থাকে।বেশি খাওয়ার ফলে শারীরিক জটিলতা বেড়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
বেশি খাওয়ার ফলে অনেকেরই শারীরিক জটিলতা বেড়ে যায়। যাদের ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা আছে তাদের জটিলতা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এছাড়া অতিরিক্ত খাওয়ার পর বমি বমি ভাব, পেটফাঁপা, পেটে জ্বালাপোড়া, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, পেটে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি শরীর খারাপ হয়ে যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৬ জানুয়ারি ২০২২ /এমএম





