প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: সুস্থ থাকতে ঘুমের বিকল্প নেই। প্রতিটি সুস্থ মানুষের দরকার পর্যাপ্ত ঘুম। অনিদ্রা বা ঘুম না হওয়া কিংবা কাজের চাপে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শুধু শারীরিক নয়, প্রভাব ফেলে মানসিক স্বাস্থ্যেও। ঘুম না হলে সারাদিন ক্লান্ত থাকে শরীর। ফলে কোনও কাজই আপনি সুষ্ঠুভাবে করে উঠতে পারেন না।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কম ঘুমের ফলে শরীরে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দেয়। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক জাতীয় হৃদরোগের প্রকোপের সম্ভাবনা থাকে ঘুম কম হলে। আর এই ঘুমের পরিমাণ অবশ্যই বয়সের ওপর নির্ভর করে।
কেউ কেউ দিনে আট ঘণ্টার অনেক বেশি ঘুমান, আবার কেউ কেউ সারারাত জেগে ভোররাতের দিকে খানিকক্ষণ ঘুমিয়েই আবার সকালে উঠে পড়তে পারেন। বহু লোকের দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাসও আছে, সেই ঘুমে ব্যাঘাত ঘটলে তাদের অস্বস্তি হয়। অনেক ঘুমানো বা কম ঘুমানো দুটোই অত্যন্ত সাধারণ অভ্যাস, আর আপাতদৃষ্টিতে তীব্র মাত্রায় অনিদ্রার সম্মুখীন না হলে তা কর্মক্ষমতায় খুব একটা প্রভাব ফেলে না।
প্রথমত, বিভিন্ন বয়েসের ব্যক্তির জন্য ঘুমের প্রয়োজন বিভিন্ন রকম। সদ্যোজাতদের জন্য দিনে ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। যত বয়স বাড়বে, তত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা কমবে। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সীদের দরকার ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা। আরেকটু বয়স বাড়লে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা কমে ৭ ঘণ্টায় এসে দাঁড়ায়। প্রাপ্তবয়স্করা যদি দিনে অন্তত সাত ঘণ্টা না ঘুমান, তা হলে তার প্রভাব তাদের শরীরের উপর পড়তে বাধ্য।
কম ঘুমালে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দেয়— যেমন ডায়াবেটিস, হৃদযন্ত্রজনিত সমস্যা, ডিমেনশিয়া। এছাড়াও নিয়মিত কম ঘুম হলে, তা মানসিকভাবেও মানুষকে ক্লান্ত করে দিতে পারে। অবসাদ, অবসন্নতা ছাড়াও বাইপোলার ডিজর্ডারের প্রবণতাও বেড়ে যেতে পারে।
শরীরের এই ঘুমের প্রয়োজনীয়তাকে খাটো করে দেখা মানে শরীরের একটু একটু করে ক্ষতি করা, যা পরবর্তী কালে চাগাড় দিয়ে উঠতে পারে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী কষ্টকর সমস্যায়। যাদের রাতে ঘুমের সমস্যা হয়, তারা পরবর্তীকালে বড়সড় শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কবলে পড়তে পারে। জেনে নিন এই ঘুমের সমস্যার কবল থেকে বেরিয়ে আসার সহজ উপায়।
প্রত্যেক দিন নিয়ম করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। বহু কাজ থাকলেও, আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যান, তা হলে সেটি কিছু দিনের মধ্যেই আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে।রাতে শুয়ে শুয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন ঘাঁটা শুধু ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় তাই-ই নয়, এ ছাড়াও চোখের সমস্যা আর মানসিক সমস্যার জন্যও এই বদভ্যাস অত্যন্ত ক্ষতিকারক।
অনেক সময় বিভিন্ন অভ্যাস ঘুমের পক্ষে সুবিধেজনক হতে পারে। ধ্যান করা বা ঘুমোনোর আগে বই পড়ার অভ্যাসও ঘুমের জন্য ভাল। চাইলে ক্যামোমিল চা খেতে পারেন।নিয়মিত শরীরচর্চার মধ্যে থাকলে তা শুধু শরীরের গঠনের জন্য নয়, ঘুমের জন্যেও অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ /এমএম





