প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: প্রতিবছরের মতো এবারও পালিত হচ্ছে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস। প্রতিটি মৃত্তিকা দিবসের একটি বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়, এবারের বিষয় হচ্ছে ‘Keep soil alive, protect soil biodiversity’। আমি এর বাংলা করতে চাই, ‘রক্ষা করলে জীববৈচিত্র্য, থাকবে মাটি সক্রিয়’। মৃত্তিকাস্থিত জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে মৃত্তিকা সক্রিয় রাখতে হবে।
মৃত্তিকা ও জীববৈচিত্র্য একে অন্যের পরিপূরক। অর্থাৎ, একটির সঙ্গে অপরটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। জীববৈচিত্র্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত না হলে মৃত্তিকা সক্রিয় থাকবে না। অন্যদিকে কোনো মৃত মৃত্তিকায় জীববৈচিত্র্য টিকে থাকে না। তাই এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্তিকাকে সুস্থ, উৎপাদনক্ষম, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই রাখতে এ বিষয়ের প্রতি আমাদের যত্নশীল হতে হবে।
মানবকল্যাণে আবশ্যক পরিবেশের যে গুণাগুণ রয়েছে, জীববৈচিত্র্য আমাদের পরিবেশমণ্ডলে সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। মৃত্তিকা জীববৈচিত্র্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন উদ্ভিদ, যা মৃত্তিকায় জন্মায়। পুষ্টিচক্র নিয়ন্ত্রণ, মৃত্তিকা জৈব পদার্থের আবর্তন, মৃত্তিকা কার্বনের পৃথকীকরণ (segregation) ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ, মৃত্তিকার ভৌতিক অবকাঠামোর বিন্যস্তকরণ, মৃত্তিকা জলের প্রতিসরণ, উদ্ভিদের পুষ্টি গ্রহণ মাত্রা ও ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ এবং সর্বোপরি পুষ্ট উদ্ভিদের প্রজননে মৃত্তিকাস্থ জীব-জীবাণুর এক অকল্পনীয় ভূমিকা রয়েছে। উপরোক্ত বিষয়গুলো শুধু পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্যই প্রয়োজনীয় নয়, এ বিষয়গুলো টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
এ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের জন্য বেশকিছু কার্যকারণ রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে মনুষ্য কর্তৃক পরিবেশকে উচ্চমাত্রায় ব্যবহার, বাসস্থানের ধ্বংস, মৃত্তিকাকে অন্য কাজে ব্যবহার করে এর বিভিন্ন ক্ষমতা হ্রাস করা, মৃত্তিকা দূষণ, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, মৃত্তিকাকে শক্ত করা (Soil Compaction), মৃত্তিকা ক্ষয়, জলবায়ু পরিবর্তন, আধুনিক কৃষিব্যবস্থা, GMO উদ্ভিদের ব্যবহার ইত্যাদি। জীববৈচিত্র্যের এ বিলীন হওয়া রক্ষা করে একটি টেকসই কৃষিব্যবস্থা তথা টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন মৃত্তিকা সম্পর্কে একটি সর্বজনীন শিক্ষা।
সারা বিশ্ব যেভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (এসডিজি) অর্জনের জন্য সচেষ্ট রয়েছে, ঠিক তদ্রূপ মৃত্তিকা শিক্ষা এবং মৃত্তিকার প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিক ব্যবহার, অপব্যবহার-দুর্ব্যবহার রোধ ও পরিচর্যার ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে না বা সৃষ্টির প্রয়াস নেয়া হচ্ছে না। মৃত্তিকা শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপারে বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই একটি বিলীয়মান আগ্রহ বিরাজ করছে।
এ পৃথিবীর টিকে থাকা সুস্থ মৃত্তিকার ওপর দারুণভাবে নির্ভরশীল; কারণ মানুষের তিনটি মূল প্রয়োজন আহার, বাসস্থান ও স্বাস্থ্য-এসবই মৃত্তিকাই প্রদান করে থাকে। আগামী প্রজন্মের জন্য প্রয়োজন মৃত্তিকার গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা। সর্বস্তরের শিক্ষা কারিকুলামে এটি থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। বিভিন্ন সাধারণ বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের পাঠক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ কাজটি করতে হবে। মৃত্তিকার সদ্ব্যবহারে বিভিন্ন উদ্ভাবনী বিষয়, যা শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে পারবে সে ধরনের বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে।
মৃত্তিকা পরিবেশের অন্যতম মূল অংশ এবং উন্নয়নের খড়্গ মৃত্তিকার ওপরই পড়েছে বেশিরভাগ সময়ে, যেটি আমরা ইচ্ছা করে বা অজান্তেই না দেখার পর্যায়ে রেখেছি। একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বাংলাদেশ। এখানে বছরে প্রায় শতভাগ কৃষিযোগ্য মৃত্তিকা শিল্পায়ন ও নগরোন্নয়নের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে।
এর দায়ভার আমাদের ওপর বর্তায়। টেকসই উন্নয়নে অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশ একযোগে নিয়োজিত থাকে। যখন এ তিনটি বিষয় একে অন্যের সম্পূরক-পরিপূরক হয়ে কাজ করে, একমাত্র তখনই টেকসই উন্নয়নের কথা আমরা ভাবতে পারি।১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) মধ্যে ছয়টির সঙ্গে মৃত্তিকা সম্পর্কিত। এগুলো হচ্ছে:
লক্ষ্য ১ : সর্বত্র সর্বপ্রকার দারিদ্র্য অবসান-উন্নততর খাদ্য, উন্নততর পুষ্টি, উন্নত জীবন পদ্ধতি এবং উন্নত কর্মক্ষম ব্যক্তি গঠনে সহায়ক। এর ফলে আয়-ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং দারিদ্র্য বৈষম্য কমে আসে। সঠিকভাবে পরিচালিত মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা অধিক খাদ্য উৎপাদনে এবং অধিক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ উদ্ভিদ উৎপাদনে সহায়ক।
লক্ষ্য ২ : ক্ষুধাশূন্য মাত্রায় আনয়ন-এখানে বলা হয়েছে, ‘ক্ষুধার অবসান ঘটাও, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নততর পুষ্টি নিশ্চিত কর এবং টেকসই কৃষি উৎসাহ কর’। লক্ষ্য ২ অর্জনে মৃত্তিকা গুণাগুণ বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রধান উপায়।
লক্ষ্য ৩ : সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ। এ লক্ষ্যে বলা হচ্ছে, ‘স্বাস্থ্যসম্মত জীবন নিশ্চিত কর এবং সবার জন্য সব বয়সে কল্যাণ এগিয়ে নাও’। সুস্বাস্থ্য রক্ষণে মৃত্তিকা পরোক্ষভাবে পুষ্টিসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন, সব ধরনের মৃত্তিকা দূষণ রোধ, মৃত্তিকাবাহিত রোগ-বালাই প্রশমন ও উচ্ছিষ্ট পুনর্ব্যবহারযোগ্যকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
লক্ষ্য ৬ : নির্মল জল ও স্বাস্থ্যবিধান নিশ্চিতকরণ। ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠস্থ জলের গুণাগুণ মৃত্তিকা গুণাগুণের সঙ্গে জড়িত।
লক্ষ্য ১৩ : জলবায়ু পরিবর্তন। এ লক্ষ্য অর্জনে বলা হয়েছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অবস্থা গ্রহণে উদ্গীরণ নিয়ন্ত্রণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসাহকরণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ কর’। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য কিছুর মধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ ও ভূপৃষ্ঠে সবুজ আবরণ সৃষ্টি অন্যতম। এ দুটি বিষয়েই মৃত্তিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
লক্ষ্য ১৫ : ভূমিতে জীবন। এখানে বলা হচ্ছে, ‘পার্থিব বাস্তুতন্ত্রকে (Ecology) রক্ষা কর, পুনঃস্থাপন কর এবং এর টেকসই ব্যবস্থার বিষয়ে উৎসাহিত কর; বনাঞ্চল রক্ষায় টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ কর; মরুকরণ প্রক্রিয়াকে প্রতিহত কর এবং ভূমি অবক্ষয় বন্ধ কর এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় বন্ধ কর।’ এ লক্ষ্য অর্জনে মৃত্তিকাকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হয়। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর অন্তত এ ৬টি বাস্তবায়নে মৃত্তিকা সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা তথা মৃত্তিকা শিক্ষা একটি পূর্বশর্ত হয়ে দাঁড়ায়।
সমগ্র বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনপ্রতি মৃত্তিকার অনুপাত প্রতিনিয়তই সংকুচিত হয়ে আসছে এবং এ কারণে মৃত্তিকার কার্যকর ব্যবহার, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ সমাজব্যবস্থায়ই মৃত্তিকা সম্পর্কিত জ্ঞান অনেক সীমিত। অক্সিজেনের মতো একটি নিত্যব্যবহার্য বিষয় হিসেবেই একে দেখা হয়। মৃত্তিকার অভাব না ঘটলে কেউ এটি নিয়ে তেমন ভাবে না।
অধিকাংশ সমাজব্যবস্থা কৃষিনির্ভর হওয়ায় মৃত্তিকাকে অতিমাত্রায় আহরণ (Exploit) করা হয়ে থাকে। সঠিক উৎপাদনে তাই মৃত্তিকাগুলোর সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা বাঞ্ছনীয়। শস্য নিবিড়করণ করেই বর্তমানে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়। এ কারণে জৈব পদার্থ দ্রুত ক্ষয় হয়। মৃত্তিকায় জৈব পদার্থের অবক্ষয়ের কারণে শস্য উৎপাদন টেকসই অবস্থায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
উন্নতমানের কৃষি জমি, সঠিক শস্যব্যবস্থাপনা ও মৃত্তিকাব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগী হতে হবে। একইসঙ্গে এসব জমিকে শিল্পায়ন বা নগরায়ণের আওতায় আনয়ন বন্ধ করতে হবে। ভূমি বা মৃত্তিকা ক্ষয় বা অবনয়ন আয়ত্তে রাখতে, কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে এবং সুস্থ মৃত্তিকা বজায় রাখতে আমাদের বেশ কিছু বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে : ক. মৃত্তিকাগুলোর একটি বিস্তৃত তালিকা প্রণয়ন; যা ভূমি ব্যবস্থার পরিকল্পনা করতে সহায়ক হবে, মৃত্তিকা গুণাগুণ অবনয়নের হিসাব রাখতে সহায়ক হবে; খ. মৃত্তিকার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে শস্য উৎপাদন ব্যবস্থা নিরূপণ; গ. পুষ্টি উপাদান সম্পর্কিত গবেষণা করে স্থানীয় বা নিজস্ব উৎস ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং ঘ. প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দূষণ ও অন্যান্য বিষয় যা মৃত্তিকা গুণাগুণ বিনষ্ট করতে সহায়ক তার একটি তালিকা করা। আর এসবের জন্য প্রয়োজন মৃত্তিকা সম্পর্কিত জ্ঞান ও শিক্ষা।
মৃত্তিকার মূল্যবান গুণাগুণ ও অবদানের বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা ও তাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করার দায়িত্ব নিতে হবে মৃত্তিকাবিজ্ঞানীদের। শ্রেণিকক্ষের বাইরে এসে নীতিনির্ধারক, আমলা, সমাজকর্মী, সুশীলসমাজ, যুব সম্প্রদায় ও রাজনীতিবিদদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করতে হবে।
আমাদের মৃত্তিকাকে সক্রিয় রাখতে, মৃত্তিকা শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে একটি মৃত্তিকা সনদ (Soil Charter) প্রণয়ন অবশ্য প্রয়োজন। বৈশ্বিক মৃত্তিকা সনদে মৃত্তিকা স্বার্থসম্পর্কিত বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের জন্য কিছু করণীয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
এ অংশীদারদের মধ্যে এক পক্ষ সরকার, এক পক্ষ ব্যক্তি ও বেসরকারি সংস্থা এবং আর এক পক্ষ বিজ্ঞানীসমাজ। সরকারের করণীয় বিষয় ৯টি, ব্যক্তি ও বেসরকারি সংস্থার জন্য দুটি আর বিজ্ঞানীসমাজের জন্য রয়েছে দুটি। সরকারের জন্য করণীয় ৯টি বিষয় হচ্ছে: ১. দেশের প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা উদ্বুদ্ধকরণ। ২. বাধাগুলো দূর করে টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা সৃষ্টিতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থসামাজিক অবস্থা সৃষ্টিতে সচেষ্ট থাকতে হবে।
৩. ভূমি ব্যবহারকারীদের টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা গ্রহণ এবং উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন স্তরে আন্তঃশৃঙ্খল শিক্ষা ও সুযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে হবে। ৪. ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে পরিচালিত টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত গবেষণাগুলোকে সহায়তা করতে হবে। ৫. একটি জাতীয় নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নীতিগত ও প্রায়োগিক দিকনির্দেশনা থাকবে।
৬. জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগগুলো প্রশমিতকরণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনে মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিশদভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। ৭. মানবজাতি, উদ্ভিদ ও পশুকুলের ক্ষতি করে-এ ধরনের দূষণ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে আইন প্রণয়ন ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৮. একটি জাতীয় মৃত্তিকা তথ্য পদ্ধতি প্রণয়ন ও রক্ষণ করতে হবে এবং বিশ্ব তথ্য কেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করতে হবে। ৯. টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে দেখভাল করার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
ব্যক্তি ও বেসরকারি পর্যায়ে করণীয় হচ্ছে: ১. সব ব্যক্তি যারা মৃত্তিকা ব্যবহার করবে তাদের মনে রাখতে হবে, এটি একটি আবশ্যকীয় প্রাকৃতিক সম্পদ এবং এটিকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্মের জন্য মৃত্তিকা রক্ষিত হয়। ২. দ্রব্য ও পরিষেবা প্রস্তুতে মৃত্তিকা ব্যবহারে টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে।
বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য বিষয় হচ্ছে: ১. মৃত্তিকা সম্পর্কিত তথ্য ও জ্ঞান বিতরণ করতে হবে। ২. মৃত্তিকার উল্লেখযোগ্য কার্যাদি যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে।
পরিশেষে বলতে চাই, আসুন, মৃত্তিকার যথাযথ পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা করে মৃত্তিকাস্থিত জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উদ্যোগী হই এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই কৃষিব্যবস্থা রেখে যাই।ড. এস এম ইমামুল হক : সভাপতি, বাংলাদেশ মৃত্তিকাবিজ্ঞান সমিতি; সাবেক উপাচার্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৬ ডিসেম্বর ২০২০/এমএম





