Menu

আহসান রাজীব বুলবুল, প্রধান সম্পাদক, প্রবাস বাংলা ভয়েস :: কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত খুলে দেয়ার মেয়াদ আরও একমাস বাড়ানো হয়েছে।করোনাভাইরাস মহামারী চলাকালীন এই মুহূর্তে ২১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্কিন সীমান্তকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণে বন্ধ রাখার চুক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কানাডা।

দু’দেশের দ্বারা পারস্পরিক ভাবে নিষেধাজ্ঞা মার্চ মাসে আরোপিত হওয়ার পর থেকেই প্রতিমাসে মাসিক ভিত্তিতে যৌথভাবে মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কানাডা এবং আমেরিকা তাদের ভাগ করা স্থল সীমান্তকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণের জন্য বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন- যতখন না পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ মহামারীটি ধীরগতিতে চলছে তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞাটি সহজ করা হবে না।উল্লেখ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিনই নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এবং হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা রেকর্ড স্থাপন করছে।

অন্যদিকে নভেল করোনভাইরাসকে সীমাবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় কানাডা এবং আমেরিকা উভয় দেশই গত মার্চ মাস থেকে ছুটি, দিনের ভ্রমণ এবং আন্তঃসীমান্ত শপিং এর জন্য ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে।

জরুরী সেবা কাজে নিয়োজিত যেমন-স্বাস্থ্যসেবা , এয়ারলাইন ক্রু এবং ট্রাক ড্রাইভারদের মতো প্রয়োজনীয় আন্তঃসীমান্ত কর্মীদের এখনও বর্ডার পার হওয়ার অনুমতি রয়েছে। ট্রাক চালকরা ঝুঁকি জনিত অবস্থায় রয়েছে কারন তারা উভয় দিকে খাদ্য এবং চিকিৎসার পণ্যগুলি আনা-নেওয়ার কাজে নিয়োজিত।কানাডার বেশিরভাগ খাদ্য আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোভিড -১৯ বিশ্বের যে কোনও দেশের তুলনায় বেশি এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বেশি তাই অনেক কানাডিয়ান শঙ্কায় ছিলেন যে কখন এটি আবার পুনরায় চালু হয়।

অন্যদিকে কানাডায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে হাসপাতালে ভর্তি এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে।

আজ অবধি এখন পর্যন্ত কানাডায় ৩ লাখ ১১ হাজার ১০৯ জন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে এবং ১১ হাজার ১৮৬ জন মারা গেছে, এবং সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪৮ হাজার ৩২১ জন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা চিন্তা করে বর্ডার খুলে দেয়ার মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে কানাডিয়ানরা সময় উপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। স্থানীয় নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকেরা মনে করেন বৈশ্বিক মহামারীর এই সময়ে দুই দেশের কথা চিন্তা করে বর্ডার খুলে দেয়া ঠিক হবে না।

উল্লেখ্য করোনা মহামারীর প্রারম্ভ থেকে আজ পর্যন্ত কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জনস্বাস্থ্যর পাশাপাশি পারিবারিক অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা ও ব্যবসা বানিজ্যের সুরক্ষায় এবং দূর্যোগ মোকাবেলার যে দৃষ্টান্ত স্তাপন করেছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১৯  নভেম্বের ২০২০/এমএম


এই বিভাগের আরও সংবাদ