Menu

আহমেদ শাহীন, ফার্মাসিস্ট ও গবেষক :: স্টমাক ও ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিতরের স্তর যখন আ্যসিডের মাধ্যমে ক্ষয় হয়ে যায় তখন পেপটিক আলসারের লক্ষন দেখা দেয়। আ্যসিডএমন ক্ষত তৈরী করতে পারে যার থেকে রক্ত ক্ষরনও হতে পারে। আমাদের খাদ্যনালি মিউকাস দ্বারা আবৃত থাকে যা আ্যসিডকেক্ষত করা থেকে প্রতিহত করে।

আলসার, হাইপারঅ্যাসিডিটি(মাত্রাধিক অ্যাসিড প্রস্তুত ও নি:সারণ), গ্যাস্ট্রোইসোফেগাল রিফ্লাক্স(উর্ধ্বগামী অম্লীয় ঢেকুর), পেটে জ্বালা-পোড়ার জন্য আর র‍্যানিটিডিন ওষুধ গ্রহণ করবেন না। কারণ গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইনের জেন্টাকে(জেনেরিক:র‍্যানিটিডিন) “নাইট্রোসোডাইমিথাইল অ্যামিন” নামের একটি কারসিনোজেনিক( যা ক্যান্সার সৃষ্টি করে) রাসায়নিক যৌগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে র‍্যানিটিডিনের ব্যবহার এখন নিষিদ্ধ। তবে অতি সতর্কতা অবলম্বনের জন্য র‍্যানিটিডিন বাদ দিয়ে ওমিপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল, পেন্টাপ্রাজল, লেন্সোপ্রাজলজাতীয় ওষুধ গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গবেষণার জন্য ব্যবহৃত ইঁদুরে লিভার ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য নাইট্রোসোডাইমিথাইল অ্যামিন ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু এই কারসিনোজেনটি মানব দেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করে বলে প্রমাণিত হয়নি। যেহেতু ইদুরে যৌগটি ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে, তাই সম্ভাবনা থেকেই যায় যে মানব দেহেও যৌগটি ক্যান্সার সৃষ্টি করতে সক্ষম। গ্রহণযোগ্য মাত্রার বেশি নাইট্রোসোডাইমিথাইল অ্যামিন শরীরে গেলে লিভার, ফুসফুস, কিডনিসহ জিহ্বা বা মুখে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। কিছু কিছু খাবারে কিন্তু এই কারসিনোজেনটি স্বল্প মাত্রায় উপস্থিত থাকে। প্রিজারভেটিবে সংরক্ষিত মাংস, মাছ, স্মোকড বা পোড়া মাংস, ক্লোরিন বা ক্লোরামিন দিয়ে বিশুদ্ধকৃত পানিতেও এই যোগটি থাকতে পারে। পানিতে এই যৌগের গ্রহণযোগ্য মাত্রা হলো ৭ ন্যানোগ্রাম/লিটার। এ ছাড়াও তামাকের ধোঁয়া, চিবিয়ে খাবার তামাক, লবনে জারিত শুকরের মাংস, পনির, বিয়ার, হুইস্কি, ডিটার্জেন্ট বা পরিষ্কারক, শ্যাম্পুসহ অন্যান্য প্রসাধনীতেও এই ভয়ংকর বস্তুটি থাকতে পারে।

বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ০৬ এপ্রিল ২০২০/এমএম


Array