বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: বিশ্বে প্রতি ৮শ’ শিশুর মধ্যে একজন ডাউন সিনড্রোম শিশু জন্মগ্রহণ করে থাকে। পৃথিবীতে প্রায় ৭ মিলিয়ন ডাউন সিনড্রোম লোক রয়েছে। আর বাংলাদেশে প্রতি ৫০০ জন শিশুর মধ্যে একজন ডাউন শিশুর জন্ম হয়।
সেই হিসাবে বছরে পাঁচ হাজার বা প্রতিদিন প্রায় ১৫ জন ডাউন শিশুর জন্ম হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২ লাখ ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তি বসবাস করছে। মায়েরা বেশি বয়সে গর্ভধারণ করলে এ ধরনের শিশু জন্মের আশঙ্কা বেশি।
দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত সব শিশু ও অটিস্টিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এগিয়ে আসাতে সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাউন সিনড্রোম একটি শিশুর বংশানুগতিক সমস্যা, যা মানবদেহের ২১তম ক্রোমোজোম জোড়ায় একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোমের উপস্থিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মৃদু বা গুরুতর মাত্রার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা, দুর্বল পেশিক্ষমতা, খর্বাকৃতি ও মঙ্গোলয়েড মুখাকৃতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
বলা যেতে পারে, ডাউন সিনড্রোম কোনো রোগ নয় বরং এটি শরীরের একটি জেনেটিক পার্থক্য এবং ক্রোমোজোমের একটি বিশেষ অবস্থা। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি ৫০০ শিশুর মধ্যে একজন ডাউন সিনড্রোম বা ডাউন শিশু হিসেবে জন্মগ্রহণ করে থাকে। আমাদের বংশগতির ধারক ও বাহক হল জিন। আর জিনের অবস্থান ডিএনএ’তে। ডাউন সিনড্রোম বা ডাউন শিশু হল জেনেটিক ত্রুটিযুক্ত মানবশিশু। যার শরীরের প্রতিটি কোষে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমটির সঙ্গে আংশিক বা পূর্ণভাবে অন্য একটি ক্রোমোজোম সন্নিবেশিত থাকে। ২১তম ক্রোমোজোম তিনটি থাকে বলে ২১/৩ বা একুশে মার্চ বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস পালিত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি বয়সে গর্ভধারণ সন্তানের ডাউন সিনড্রোম হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। ২৫ বছর বয়সী প্রতি ১২শ’ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে একজন, ৩০ বছর বয়সী প্রতি ৯০০ জনের মধ্যে একজন, আর ৪০ বছর বয়সী প্রতি ১০০ জন মায়ের মধ্যে একজনের ডাউন শিশু হওয়ার শঙ্কা থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাউন শিশুর শারীরিক সমস্যাগুলো বিভিন্ন পরিচর্যা ও চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কোনো মায়ের আগের বাচ্চাটি যদি ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত থাকে তবে পরবর্তী সময়ে বাচ্চা গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজমের (ইপনা) সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুণ্ডু বলেন, অসচেতনতার কারণেই দেশে ডাউন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক সময় ডাউন সিনড্রোমের সঙ্গে হার্টের ও থাইরয়েডের সমস্যা থাকতে পারে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসার মাধ্যমে এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
আজ জাতীয় পর্যায়ে ষষ্ঠ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১৪তম বিশ্ব ডাউন সিনড্রম দিবস। ২০০৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এ দিনটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘একসাথে পথাচলা’। ব্রিটিশ চিকিৎসক জন ল্যাঙ্গডন ডাউন ১৮৬৬ সালে এ শিশুদের চিহ্নিত করেন বলে তার নামানুসারে ‘ডাউন সিনড্রোম’ কথাটি প্রচলিত হয়। এ বছর বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ডাউন সিনড্রোম দিবস বিশেষভাবে পালিত হতে যাচ্ছে। এবারে গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদফতর কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সকাল সাড়ে ৯টায় র্যালি এবং সকাল ১০টায় আলোচনা সভা।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/২১ মার্চ ২০১৯/ইএন