লায়লা নুসরাত, নির্বাহী সম্পাদক, প্রবাস বাংলা ভয়েস :: শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন নিয়ম করেছে কানাডা সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ি, কানাডায় বসবাসরত রিফিউজিদের তাদের নিজেদের স্বাস্থ্য সেবায় চিকিৎসা খরচে কিছু অংশ নিজেদেরকে দিতে হবে।
আগামী ১ মে থেকে কানাডায় এই নতুন নিয়ম চালু হবে। ফেডারেল সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডেন্টাল (দাঁতের চিকিৎসা), চোখের চিকিৎসা (অপটোমেট্রি), ফিজিওথেরাপি সেবাগুলোর খরচের ৩০ শতাংশ নিজে বহন করতে হবে।এছাড়া, প্রতিটি প্রেসক্রিপশন ওষুধের জন্য দিতে হবে ৪ ডলার করে ফি। তবে আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীরা এখনো বিনা খরচে ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা, হাসপাতাল সেবা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা পেতে থাকবেন। এগুলো Interim Federal Health Program (IFHP)–এর আওতায় আগের মতোই সম্পূর্ণ ফ্রি থাকবে।
সরকার বলছে, স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি চাপ সামলানো এবং ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি টিকিয়ে রাখার জন্যই এই সহ-পরিশোধ (co-pay) ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, নতুন করে টাকা দিতে হলে অনেক শরণার্থী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করবেন বা পুরোপুরি বাদ দেবেন।

Tareq Hadhad, a Syrian refugee and founder of Peace by Chocolate, joins 48 other new Canadians in waving their Canadian flags following a Canadian citizenship ceremony at Pier 21 in Halifax, Nova Scotia on Wednesday, January 15, 2020.
Darren Calabrese for UNHCR
অনেক রোগী আছেন যারা একসাথে একাধিক ওষুধ খান। সেখানে প্রতিটি ওষুধের জন্য ৪ ডলার দিতে হলে মাস শেষে বড় অঙ্ক দাঁড়ায়, যা নতুন আসা শরণার্থীদের জন্য কষ্টকর।
এদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ২৩ হাজার মানুষ এই স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় ছিলেন এবং এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৯৬ মিলিয়ন ডলার।
এর আগে ২০১২ সালে কনজারভেটিভ সরকার শরণার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা কমানোর চেষ্টা করেছিল। সে সময় আদালত সেই সিদ্ধান্তকে “অমানবিক” বলে বাতিল করে দেয়। পরে লিবারেল সরকার ক্ষমতায় এসে পুরো সেবা ফিরিয়ে আনে।
কানাডার বর্তমান ফেডারেল সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং সাধারণ জনগণের কথা ভেবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। হঠাৎ করে স্বাস্থ্য সেবায় নতুন এই সিদ্ধান্ত, সাধারণ জনগণ কিভাবে নিবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শরনার্থী জানান, সরকারের এই নতুন নিয়ম অব্যাহত থাকলে, দেশটিতে আসার ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ অনেক কমে যাবে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /কানাডা/৩১ জানুয়ারি ২০২৬/এএ





