প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে বন্ধ্যত্বসহ আরও অনেক রোগ হতে পারে। এটি শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সহায়তা করে, যা হাড় ও দাঁতের গঠন এবং কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে রিকেটস, অস্টিওম্যালাসিয়া, হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া, পেশি দুর্বলতা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই পুরুষ ও নারী উভয়ের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন ‘এ’ অপরিহার্য। এর অভাব প্রজনন হরমোন উৎপাদন এবং শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে বন্ধ্যত্ব সৃষ্টি করতে পারে। নারীর ক্ষেত্রে, এটি অনিয়মিত মাসিক চক্র বা গর্ভধারণে অসুবিধার কারণ হতে পারে। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে, এটি শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতা হ্রাস করতে পারে। গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশেও ভিটামিন ‘এ’ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ পর্যায়ে এর ঘাটতি জন্মগত ত্রুটি কিংবা জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
সুতরাং আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করা হয় ভিটামিন ও খনিজপদার্থকে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে— ভিটামিন ‘এ’। এই ভিটামিন আমাদের চোখ সুস্থ রাখতে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং কোষের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, শরীরে ভিটামিন ‘এ’র অভাবে যে সমস্যা হতে পারে—
রাতকানা একটি জটিল রোগ। ভিটামিন ‘এ’ রোডোপসিন নামক পদার্থ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই পদার্থটি রেটিনার একটি রঞ্জক এবং চোখকে ম্লান আলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ ছাড়া চোখের আলো থেকে অন্ধকার পরিবেশে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়।
যেমন ম্লান আলোযুক্ত ঘরে হাঁটার সময়। এ কারণে এ অভাবের সবচেয়ে সাধারণ ও প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হলো— কম আলো বা অন্ধকারে দেখতে অসুবিধা, যাকে রাতকানা বলা হয়। এ অবস্থা রাতে দেখতে অসুবিধা হিসাবে শুরু হতে পারে। কিন্তু যদি চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি আরও খারাপ হতে পারে, যার ফলে সম্পূর্ণ অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুল ও নখ। সুস্থ চুল ও নখ কোষের বৃদ্ধি করে সিবাম উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে উভয়ই ভিটামিন ‘এ’ দ্বারা প্রভাবিত হয়। প্রাকৃতিক তেলের অভাবে চুল ভেঙে যেতে পারে এবং নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে। একইভাবে কেরাটিনাইজেশনের অভাবে নখ দুর্বল হয়ে যেতে পারে, সহজেই ভেঙে যেতে পারে বা ফাটল তৈরি করতে পারে।
আর শুষ্ক চোখ ভিটামিন ‘এ’ চোখের পানি উৎপাদনে সাহায্য করে, যা চোখকে তৈলাক্ত করে। ভিটামিন ‘এ’র অভাবের কারণে শুষ্কতা, চুলকানি ও চোখে জ্বালাপোড়ার সম্মুখীন হতে হয়। যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ অবস্থা সংশোধন না করা হয়, তাহলে এটি চোখের কর্নিয়ার ক্ষতি করতে শুরু করে, চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
এ ছাড়া দুর্বল হাড় শক্তিশালী করে থাকে। ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের মতো অন্যান্য পুষ্টির সঙ্গে শক্তিশালী হাড় বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর অভাব হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস করতে পারে, যা হাড়ের ভাঙন এবং হাড়-সম্পর্কিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন এ-এর নিম্ন স্তর হাড়ের পুনর্গঠনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, একটি প্রক্রিয়া যেখানে পুরনো হাড়ের টিস্যু নতুন টিস্যু দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। এই ভারসাম্যহীনতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষতি করতে পারে। ভিটামিন এ-এর অভাবযুক্ত শিশুদের হাড়ের বিকাশ ব্যাহত হওয়ার কারণে বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ১৯ আগস্ট ২০২৫ /এমএম