প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: শরতের আবহ বইছে বাতাসে। ঋতুচক্রে বর্ষার পালা বদলে প্রকৃতিতে আসে শরতের হিমেল ছোঁয়া। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদের পরে গাছের পাতায় পাতায় ঝরে পড়ে বৃষ্টি কণা, প্রকৃতি সেজে ওঠে সবুজে সবুজে। তপ্ত রোদে পোড়া, ইট কাঠের এ শহরের আনাচে কানাচে ফুটে ওঠে নানা রঙের ফুল আর বাহারি প্রজাপতির মেলা।
ধুয়ে মুছে ওঠা প্রকৃতিতে নতুন করে হিমেল বাতাস তার আগমন ঘটায় নতুনত্বের সঙ্গে। থোকায় থোকায় কাশফুলে ছেয়ে ওঠে চারপাশ। সাদা মেঘের ভেলায় ভরে ওঠে নীল আকাশ। ছয় ঋতুর পালা বদলে তাই শরতের মাঝে থাকে আলাদা বৈচিত্র্য। গরমের শেষে প্রকৃতিতে আসে শীতলতার আমেজ। শরতের আগমন যেন এর মাঝেই ঘটে চুপিসারে।মেঘ রোদ্দুর এই খেলায় যুক্ত হয় হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি। সবুজ ঘাসের ডগায় চিকচিক করে কাঁচামিঠা রোদের পরের বৃষ্টি। রূপের এই বৈচিত্র্যের জন্যই হয়তো ছয় ঋতুর মাঝে শরতকেই বলা হয় ঋতুর রানি।
অন্যদিকে শরৎ মানেই গরমে থেকে হাঁপ ছেড়ে বাঁচা। অল্প অল্প ঠান্ডা আমেজের জন্য অনেকেই এ সময়টাই বেছে নেন ভ্রমণের খাতিরে। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের জন্যই হয়তো ছয় ঋতুতে শরতের আগমন ঘটে নিজস্ব মহিমায়। এ সময়ে চারপাশে কাজ করে এক স্নিগ্ধতার আমেজ। এ ছাড়া পোশাকের মাঝেও থাকে রঙের ছোঁয়া। হালকা গরম আর ঠান্ডার এ মিশ্র অনুভূতির জন্য সুতি কিংবা কটন কাপড়েই অনেকে খুঁজে পান স্বস্তি।
এ সময়ে তাই সালোয়ার-কামিজ যেমন মনমতো পরা যায় তেমনি আবার বাঙালিআনাও বাদ পড়ে না। শাড়িতে সেজে ওঠে নারীর পসরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নানা ধরনের অলংকার। নিজেকে সাজাতে তাই শরতের জুড়ি মেলা ভার। শুধু মেয়েদের পোশাকেই নয়, ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রেও পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে তরুণেরা। এ সময়ে নানা অনুষ্ঠানে তাই টি-শার্টের পাশাপাশি জায়গা করে নেয় শার্ট এবং নানা নকশা করা পাঞ্জাবি কিংবা হাতের কাজের ছোঁয়ার বুনন।
বয়সিদের পাশাপাশি ছোটদের ক্ষেত্রেও এ সময়ে পোশাকে আসে রঙের ভিন্নতা। গরম কম হওয়াতে যে কোনো রঙের মাঝেই কাজ করে স্বস্তি। গাঢ় রঙের মাঝেই তাই কারুকাজ বেছে নেন এ সময়ের তরুণ-তরুণীরা। কিছুটা ভারি কাজের পোশাক তাই চোখে পড়ে বিভিন্ন পার্টিতে কিংবা দিনের অনুষ্ঠানগুলোতে।
অন্যদিকে ঋতুচক্রের এই হঠাৎ পালা বদলে ত্বকে দেখা দেয় নানা সমস্যা। হঠাৎ রোদে যেমন সানবার্ন হতে পারে ত্বক তেমনি আবার এ আগমন ছাড়া ঘন বরষাতেও ত্বকে হতে পারে র্যাশ কিংবা লালচে দাগ। তাই ব্যাগে রাখুন সানস্ক্রিম এবং ছাতা। এ ছাড়া ব্যাগে রাখুন টিস্যু সঙ্গে পানির বোতল। চাইলে সঙ্গে রাখতে পারেন রুমাল এবং প্রসাধনীতে প্রাইমার, ফেইস পাউডার এবং বিবি ক্রিম, লিপস্টিক। কোথাও যেতে হালকা সাজের ক্ষেত্রে হুট করেই নিজেকে তৈরি করে নিতে পারেন যে কোনো অনুষ্ঠানের জন্য। শরতের এ সময়ে অনেকেরই পা ফাটার সমস্যা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুবার পেডিকিউর করতে হবে।
মুখ খালি পানি দিয়েই কয়েকবার ধুয়ে নিন আর রাতে ফেইসওয়াশ দিয়ে। অবশ্যই ঘুমানোর আগে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের রুক্ষতা দূর হবে খুব দ্রুত। ত্বকের ভাব বুঝে এ ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়। তবে রাতের মেকাপের ক্ষেত্রে ভারি মেকাপ আপনি করতেই পারেন এ সময়ে। অন্যদিকে ব্যাগে যুক্ত করতে পারেন লোশান। যারা লম্বা সময় অফিসে কাজ করেন তাদের ত্বক খুব দ্রুত রুক্ষ হয়ে যায়। তারা লোশন ব্যবহার করলে ত্বক থাকবে এ ঋতুতেও সুস্থ।
সাজের ক্ষেত্রে চুল নারীকে আলাদা সৌন্দর্যে সাজিয়ে তুলে। কাজেই চুলের যত্ন নিতে হবে এ সময়ে। এক থেকে দুদিন পর পর শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। তার আগে হালকা গরম তেল চুলে ম্যাসাজ করে নিতে পারেন। যেহেতু এ সময়ে বেশি ধুলাবালি থাকে চারপাশে সেই ক্ষেত্রে বাইরে গেলে সানগ্লাস কিংবা গ্লাস ব্যবহার করুন। এতে আপনি থাকবেন সুরক্ষিত।
শরতের আগমনে তাই অনেকেই পরেন সাদা আর নীল পাড়ে শাড়ি। খোঁপায় জুড়ে থাকে নানা পদের ফুল। গোলাপ কিংবা গাদা ফুলের দেখাও মিলে এদের মাঝে। শুভ্রতার প্রতীক হিসাবে এ সময়ে তাই সাদা কাশফুলে সেজে ওঠে চারপাশ। সবুজের মাঝে এ শুভ্রতার আমেজ আপনাকে বাতাসের শীতলতায় ভুলিয়ে দিবে সব ব্যস্ততা। অনেকেই তাই নিজেদের কাটানো এ সুন্দর মুহূর্তে করে ফেলেন ফ্রেমে বন্দি। প্রিয় মানুষদের সঙ্গে তাই কাশফুলের থাকে অনেক অনেক ছবি আর মিষ্টি মধুর গল্প। রঙের রূপে ঋতু রানি শরৎ আসে প্রকৃতিতে শান্তির বার্তা নিয়ে। সন্ধ্যা হতেই তাই গরমের ভাব মুছে যেতে শুরু করে। তার জায়গা দখল করে নেয় শীতলতা। মিষ্টতায় ভরে ওঠে চারপাশ, নগর জীবনের কোলাহলেও যোগ দেয় একরাশ ভিন্নতা আর স্নিগ্ধতা।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ৩০ আগস্ট ২০২২ /এমএম





