প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: এই শহরে অনেকেই আছেন যারা বাগান করতে ভালোবাসেন কিন্তু জায়গার অভাবে করতে পারেন না। সেই ইচ্ছেটা অনেকেই মিটিয়ে থাকেন ছাদবাগান বা বারান্দায় গাছ লাগিয়ে। একটা পর্যায়ে এসব বাগানে মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় বাগানের মাটি। অথচ মাটি ভালো না হলে ভালো গাছ হওয়া অসম্ভব। কিন্তু কীভাবে উর্বর রাখবেন মাটি, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
জৈব সার: ধীরে ধীরে মাটির গুণমান উন্নত করতে পাত্রের মাটির সঙ্গে জৈব সার ব্যবহার করতে পারেন। জৈব সার মাটির হিউমাস এবং পানি ধারণ করার ক্ষমতা বাড়ায়। এটি গাছকে ম্যাক্রো-পুষ্টি প্রদান করে। উপমহাদেশে সবচেয়ে সহজলভ্য জৈব সার হচ্ছে গোবর সার। আদর্শ জৈব সার গাঢ়, আর্দ্র হয়। মনে রাখবেন, ভালো জৈব সারে বাজে গন্ধ থাকে না। সুষম সারকে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সারে রূপান্তরিত করতে ডালজাতীয় উদ্ভিদের পাতা যোগ করতে পারেন।
কম্পোস্ট সার: প্রায় যেকোনো জৈব বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করার উপায় হিসাবে কম্পোস্টিং খুবই কার্যকর একটি পদ্ধতি। কম্পোস্টিংয়ের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এটি জৈব পদার্থের দ্রবণীয় পুষ্টিকে স্থিতিশীল করে এবং মাটিতে হিউমাস গঠন করে। টবের মাটির ওপর কয়েক সেন্টিমিটার পুরু করে এই সার প্রয়োগ করতে হয়।মাটি ভালো না হলে ভালো গাছ হওয়া অসম্ভব
কেঁচো: কেঁচো সার মাটিকে নরম করে এবং পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। শুধু মাটি উর্বর নয়, নাইট্রোজেনের জোগান দিয়েও গাছকে পুষ্টি দেয়। তাই কোনো গাছের গোড়ায় যদি দেখেন, অনেক কেঁচো জমা হয়েছে, তবে মেরে না ফেলে বরং তাদের তুলে অন্যান্য গাছের টবে সমান ভাবে ছড়িয়ে দিতে পারেনে। এতে সব গাছেরই উপকার হবে।
আগাছা পরিষ্কার: টবের মাটিতে এমনিতেই সীমিত পরিমাণ খনিজ পদার্থ থাকে। তার ওপর যদি আগাছা জন্মায়, তবে তা মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণ করে নেয়। এতে উর্বরতা নষ্ট হয় ও গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তাই বাগানের মাটিতে যেন আগাছা না জন্মায় সেদিকে নজর দিতে হবে।
পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা: আর কদিন বাদেই শুরু হচ্ছে বর্ষাকাল। আগাম বৃষ্টি মনে করিয়ে দিচ্ছে বাতাসে ভাসছে আষাঢ়ের মেঘ। এ সময়টাতে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। তাই খেয়াল রাখা দরকার টবে যেন অতিরিক্ত পানি না জমে। এতে গাছের গোড়া পচে যেতে পারে, আবার খনিজ পদার্থ ধুয়ে যেতে পারে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১২ জুন ২০২২ /এমএম





