প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: প্রতিদিন একই রকম কাজ করতে কারবা ভালো লাগে। কিন্তু জীবিকার তাগিদে করে যেতে হয় দিনের পর দিন। নাগরিক জীবনে অনেক সময়ই কর্মক্ষেত্রে একঘেয়েমি চলে আসে। কিন্তু চাইলেই তো আর চাকির ছাড়া যায় না। গৎবাঁধা কাজে হাঁপিয়ে উঠলে অফিস যাওয়ার উৎসাহ হারিযে ফেলেন কেউ কেউ।
কর্মক্ষেত্রে সব সহকর্মী আপনাকে সমান দৃষ্টিতে দেখবেন না, এটাই স্বাভাবিক। তার উপর গ্রুপিং, কানকথা, যোগ্যতার অবমূল্যায়ন থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছু হয়তো আপনাকে ব্যথিত করতে পারে। কখনো কখনো কতৃপক্ষের কোনো কোনো সিদ্ধান্ত আপনাকে স্তম্ভিতও করতে পারে। এ রকম পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্র পরিবেশ অসহনীয় মনে হলে কী করবেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক।অনেককেই জীবিকার প্রয়োজনে এমন কিছু পেশা বেছে নিতে হয়, যা আদৌ তিনি পছন্দ করেন না
ডেস্কটা হোক নিজের: অনেকেরই কাজে অনুপ্রেরণা না পাওয়ার অন্যতম কারণ কাজের ডেস্কটি ঠিক নিজের মতো করে না রাখতে পারা। এই সমস্যা সমাধানে নিজের ডেস্কে পছন্দসই সাজানোর জিনিস রাখতে পারেন, রাখতে পারেন ছোট গাছও। পিনআপ বোর্ড থাকলে পিন করতে পারেন কিছু ইতিবাচক এবং অনুপ্রেরণামূলক উদ্ধৃতি। অনেকে কাজের টেবিলে প্রিয়জনের ছবিও রাখতে পছন্দ করেন।
সহকর্মী: সব অফিসেই কিছু সহকর্মীর অন্যদের সম্পর্কে বাজে কথা বলার প্রবণতা থাকে। সব সময় চেষ্টা করবেন এ ধরনের পরনিন্দা-পরচর্চা এড়িয়ে চলার। এতে সময় তো নষ্ট হয়ই, তার উপর কানকথা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
মানুষ নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় বন্ধু। তাই কর্মক্ষেত্রে নিজেকে নিজেই অনুপ্রেরণা দিন
টেক অ্যা ব্রেক: যেকোনো কাজই একটানা করে যাওয়া অসম্ভব। ফলে কাজের মান ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন। একটানা কাজ করার বদলে বিরতি নিন প্রয়োজন মতো। এতে মন ও শরীর ভালো থাকবে। চল্লিশ মিনিট অন্তর চেয়ার থেকে উঠে একটু হেঁটে নিন। যারা দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটারের সামনে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশ মিনিট পর ইলেকট্রনিক স্ক্রিন থেকে চোখ সরানো খুবই দরকার। না হলে চোখের ক্ষতি হবে।
হারানো ইচ্ছেকে বাঁচিয়ে রাখুন: অনেককেই জীবিকার জন্য এমন কিছু পেশা বেছে নিতে হয়, যা আদৌ তিনি পছন্দ করেন না। কর্মক্ষেত্রে একঘেয়েমি যাতে না আসে তার জন্য ছাত্র জীবনের হারিয়ে যাওয়া ভালোলাগার ইচ্ছেগুলোকে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন। অফিসের ব্রেকে গান গাইতে পারেন। চাইলে আবৃত্তি, অভিনয়, ছবি আঁকা এমনকি নাচও করতে পারেন। দেখবেন মন ফ্রেশ লাগছে। নতুন করে কাজ করার শক্তি পাচ্ছেন।
যেকোনো কাজই একটানা করে যাওয়া অসম্ভব
অনুপ্রেরণা: মানুষ নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় বন্ধু। তাই নিজেকে নিজেই অনুপ্রেরণা দিন। অনেকে কিছু দিন চাকরি করার পর স্বাধীনভাবে নিজের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেন। যদি অদূর ভবিষ্যতে এই ধরনের ইচ্ছে থাকে তবে দেরি না করে পরিকল্পনা শুরু করতে হবে অবিলম্বে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ যদি লেখক হতে চান, তবে কাজের ফাঁকে ফাঁকেই একটু একটু শুরু করে দিন লেখা। ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রাখবেন না।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ২৪ এপ্রিল ২০২২ /এমএম





