Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ সারা দুনিয়ার মুসলমান সম্প্রদায়ের কাছে বছরের পবিত্রতম এবং শ্রেষ্ঠতম মাস ‘মাহে রমজান’। বরকত ও কল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ মাস রমজানের জন্য দরকার বেশকিছু আগাম প্রস্তুতি। তবে এটি কিন্তু মুখরোচক বিভিন্ন খাবার সংগ্রহের প্রস্তুতি নয় বরং আত্মিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা।

রমজান মাসে গোনাহ বা অন্যায় থেকে পরিপূর্ণ ক্ষমা পাওয়ার প্রস্তুতি থাকতে হবে। পাশাপাশি বেশি বেশি সাওয়াবের জন্য ইবাদত-বন্দেগি করতে হবে। ‘ইবাদত’ শব্দটি আরবি ‘আবদ’ থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ হলো দাস ও গোলাম। মানে হলো, আল্লাহর দাসত্ব বা আনুগত্য করা এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করা। অর্থাৎ তিনি যা করতে বলেছেন তা করা এবং যা করতে নিষেধ করেছেন সেগুলো না করাই হলো ইবাদত।

রমজান মাসে গোনাহ বা অন্যায় থেকে পরিপূর্ণ ক্ষমা পাওয়ার প্রস্তুতি থাকতে হবে
বরকতময় মাস রমজান সম্পর্কে কুরআন-সুন্নায় যেসব ফজিলত, মর্যাদা ও উপকারিতার বর্ণনা রয়েছে, সেসব সম্পর্কে রমজান শুরু হওয়ার আগেই জেনে নেওয়া উচিত। ‘আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান’। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। আরও সহজ করে বলেলে, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করুন।

বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় মাহে রমজানের ফজিলত অনেক বেশি। তাই সুস্বাদু খাবারের আয়োজনে ঝুঁকে না পড়ে আত্মিক প্রস্তুতি নিতে হবে। হাদিস শরিফে রোজাকে ইবাদতের দরজা বলা হয়েছে। নবী করিম (সা.) মাহে রমজানে দিনে রোজা রাখতেন এবং রাতে দীর্ঘক্ষণ ইবাদত-বন্দেগি করতেন। সাহাবায়ে কিরামও রমজান মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। মাহে রমজানে সিয়াম সাধনাকারী রোজাদারের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার ও অশেষ মর্যাদার ঘোষণা রয়েছে।

মাহে রমজানে সিয়াম সাধনাকারী রোজাদারের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার ও অশেষ মর্যাদার ঘোষণা রয়েছে তাই মাহে রমজান এলে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং তাঁর দরবারে কান্নাকাটির মাধ্যমে পূর্বাপর গুনাহখাতা মাফ করে নিতে হবে। ইমান ও আত্মবিশ্লেষণ সহকারে নিজেদের সব কাজেকর্মে আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য প্রকাশ করতে হবে। আল্লাহর নিয়ামত উপভোগ করে শুকরিয়া আদায় করতে হবে।

রোজা রাখার পাশাপাশি আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি অর্থাৎ সেহরি, ইফতার, তারাবি, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, ইতিকাফ, তাহাজ্জুদ, জিকর-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-ইস্তেগফার, জাকাত-ফিতরা, দান-সাদকা প্রভৃতি আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্যকর্তব্য। তাই দুনিয়ার ভোগবিলাসে মত্ত না হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে পাপ মোচন করতে হবে। নিয়মতান্ত্রিক পানাহার, চলাফেরা, ঘুমসহ নানা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে হবে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০২ এপ্রিল ২০২২ /এমএম

 


Array