প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের একধরনের রোগ, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। প্রতীকী ছবিগুলো তুলেছেন আমির নঈম স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের একধরনের রোগ, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। প্রতীকী ছবিগুলো তুলেছেন আমির নঈমবয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু শারীরিক পরিবর্তনই হয় না, মস্তিষ্কেরও নানা পরিবর্তন আসে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিস্মৃতি। সময়ের ব্যবধানে ছোট ছোট কথা সহজেই ভুলে যান অনেকে। দুই বা এক বছর আগের কথা কিছুই মনে থাকে না।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়া। ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের একধরনের রোগ, যা মানুষের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। স্মৃতিভ্রংশের অনেক কারণ থাকে। এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ রক্তের গ্রুপ, সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনটা ওঠে এসেছে।
বিস্মৃতির এই রোগের জন্য মস্তিষ্কের বিশেষ ধরনের প্রোটিনকে দায়ী করা হয় গবেষকদের মতে স্মৃতিভ্রংশের ক্ষেত্রে ব্লাড গ্রুপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট একটি রক্তের গ্রুপের মানুষদের এই সমস্যা বেশি হতে পারে। আর তা হচ্ছে ‘AB’ গ্রুপ। এই গ্রুপের রক্ত যাদের থাকে, তাদের প্রায় আশি শতাংশ স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অল্পতেই বেশি ভুল করে ফেলেন। এমনকি একই ভুল বারবার করে ফেলেন। আবার পুরনো কথা সহজে মনেও রাখতে পারেন না।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু শারীরিক পরিবর্তনই হয় না, মস্তিষ্কেরও নানা পরিবর্তন আসে
কারণ ও করণীয়গুলো কী কী
বিস্মৃতির এই রোগের জন্য মস্তিষ্কের বিশেষ ধরনের প্রোটিনকে দায়ী করা হলেও আজকাল বলা হচ্ছে, কিছু খাদ্যাভ্যাস এই রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। সিলিকন ও কোলিনযুক্ত খাবার যেমন-গরুর মগজ, কলিজা, লেটুস পাতা, পেঁয়াজ, গাঢ় সবুজ সবজি, দুধ, নারকেল ইত্যাদি, এ ধরনের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, মানুষের শরীরে সহজাত কিছু প্রোটিন সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। এক্ষেত্রে ‘Factor VII’ রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। আর ‘AB’ ব্লাড গ্রুপের মানুষদের মধ্যে এই প্রবনতা বেশি থাকে। সে কারণেই এদের স্মৃতিভ্রংশ হওয়া সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। শুধু তাই নয়, প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, পাকস্থলী ক্যান্সারের সম্ভাবনাও বেশি থাকে।
ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের একধরনের রোগ, যা মানুষের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে অবশ্য, শুধু রক্তের গ্রুপ নয়, আরও অনেক বিষয়ের ওপর মানুষের স্মৃতিশক্তি নির্ভর করে। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপও স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে। আর এই সমস্যা আরও বাড়ায় অনিয়মিত জীবনযাপন। নাগরিক ব্যস্ততায় নির্দিষ্ট সময়ে অনেকেই খাবার খেতে পারেন না, অনিয়ম করেন, তার ওপরে ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তো আরও সর্বনাশ। এসব অভ্যাস মানুষের শরীরের ক্ষতি করার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সময়ের ব্যবধানে ছোট ছোট কথা সহজেই ভুলে যান অনেকে। দুই বা এক বছর আগের কথা কিছুই মনে থাকে না
তাই মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে ও সুস্থ থাকতে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, বিটা ক্যারোটিন ও ফলিক অ্যাসিড খেতে হবে বেশি করে। কোলিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড আছে শিম, বরবটি ও বীজ জাতীয় খাবারে, যা মস্তিষ্কে এসিটাইল কোলিন নামের গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া বলা হয় ওমেগা ৩ ফ্যাট বিস্মৃতির ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ কমাতে পারে। আরও খেতে পারেন বেদানা, আনার, আপেল ও জাম্বুরা।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ২২ ডিসেম্বর ২০২১ /এমএম





